প্রিয়া সাহার বক্তব্যে পুরো বিশ্বের বাংলাদেশীরা নড়ে চড়ে বসেছে।

তিন কোটি ৩৭ লাখ হিন্দু মিসিং এটা কিভাবে সম্ভব?
এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মাঝে?
এর উত্তর হচ্ছে ঃ
#ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাঙ্গালী হিন্দুদের মধ্যে দুটো নামে প্রচলিত ঘটি আর বাঙ্গাল?
ঘটি কে আর বাঙ্গাল কে?
প্রায় তিনকোটি বাঙ্গাল কারা তাদের আদিনিবাস বার করেন?উত্তর পাবেন

#বাংলাদেশী বংশদ্ভুত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বনি আমীনের নির্বাসিত আন্দামানের বাংলাদেশী মিউজিক ভিডিওতে দক্ষিন বঙ্গের উদ্বাস্তু হিন্দুরা এখন বসতি গেড়েছে।

আসামের হায়লাকান্তি,করিমগন্জ,ব্রম্মপুত্র অববাহিকার বরাকব্যালীর বাংলাভাষাভাষী হিন্দুরা সব পাড়ি জমিয়েছে সেখানে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট হতে।

বৃহত্তর চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম এর বাঙ্গালী ও ত্রিপুরা হিন্দুদের অনেকেই ৪৭ এর দেশভাগের পর হতে ত্রিপুরায় চলে গেছে। যার প্রমান ত্রিপুরার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেব চাঁদপুরের সন্তান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৯৬০ সালের কাপ্তাই বাঁধকে কেন্দ্র করে বাঁধ নির্মিত হওয়ায় পৈত্রিক  জমি হারিয়ে উদ্বাস্তু উপজাতি চাকমা,ত্রিপুরা,তঙ্গচঙ্গ্যা সৃষ্ট লেকের ফলে এবং ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান কতৃক সমতলের বাঙ্গালী পূর্ণবাসনকে কেন্দ্র করে বাঙ্গালী, সেনাবাহিনী ও শান্তিবাহিনীর রক্তক্ষয়ী ২২ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামে কয়েক লাখ লোক মিজোরামের চাকমা হিল ডিস্ট্রিক কাউন্সিল জেলা ও ত্রিপুরা রাজ্য, মনিপুর ও অরুনাচলে আশ্রয় নেয় যদিও বাংলাদেশ সরকারের  শরনার্থী পূর্ণবাসন প্রকল্পের আওতায় অনেকে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে পূর্ণবাসিত হয়।

কিছুদিন আগে অরুনাচলে অবস্থানরত ১ লক্ষ বাংলাদেশী উদ্বাস্তু  চাকমা ও তঙ্গচঙ্গা(দাইনাক,)
কে ভারত সরকার নাগরিকত্ব দিয়েছে।

বিশ্বাস না হয় প্রত্যেকটি তথ্য নেটে সার্চ দিয়ে দেখুন সত্যতা মিলবে।
এরাই গত ৭০ বছরে হারিয়ে যাওয়া ৩ কোটি ৩৭ লাখ মিসিং সংখ্যালঘু।

মানুষ মাতৃভূমি এমনিতে ছাড়ে না?
হয়ত ৩০ ভাগ নির্যাতনের মনস্তাত্বিক আশংকায় দেশ ছেড়েছে ২০ পারসেন্ট হয়ত কারন ছাড়া বাকি ৫০ পারসেন্ট ৪৭ এর দাঙ্গা,৪৬ এর নোয়াখালী দাঙ্গা,৬৪ এর কাশ্মীরে মসজিদকে ইস্যু করে দাঙ্গা,
৬৫ এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পর শত্রু সম্পত্তি ইস্যু এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস,৭১ এর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, ও এককোটি লোকের দেশান্তর যার স্বীকার সিংহভাগই ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু,শেখ মুজিবের মৃত্যু পরিবর্তী সামরিক সরকারে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় এরশাদের রাষ্টধর্মকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি,বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস দ্বারা হিন্দু নির্যাতন,হত্যা,গুম লুট ধর্ষন,
২০০১ এর জামাত বিএনপির সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস
২০১৩ এর সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস।
আর গুপ্ত এবং প্রকাশ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তো থেমে থেমে চলছে হিন্দু নিধন যজ্ঞ।

যার পরিপ্রক্ষিতে ১৯৪৭এর ৩৬ পারসেন্ট আজ ২০১৯ সালে এসে ৮ পারসেন্টে ঠেকেছে।

প্রিয়া সাহাকে দেশদ্রোহী বলা যায় কারন অভ্যন্তরীন বিষয়কে তিনি বাইরের দেশে বিচার দিয়েছেন।

কিন্তু তারবাড়ি পোড়ানো, তার জমি দখল সারা বিশ্বের মানুষ নেট দুনিয়ায় দেখে ফেলেছে।।
শেখ সাহেবের বেটি এখনো সংখ্যালঘুদের শেষ ভরসার আশ্রয়স্থল, তাই হাসিনার
ক্ষতি হিন্দুরা অন্তত কামনা করে না, মনের কষ্ট গুলো সবাই চেপে রাখে মন্দের ভালো হিসেবে বেঁচে থাকতে আওয়ামীলীগকেই বার বার ভোট দেয়।
কিন্তু মুখ ফসকে কিন্তু প্রিয়া সাহা বাড়িয়ে বললেও একটা বাস্তবতার সাথে অনেক মিল একটা প্রতিচ্ছবিই এখানে ধরেছেন।
প্রিয়া সাহাকে হয়ত দেশদ্রোহিতার কারনে অভ্যন্তরীন বিষয় বাইরের মোড়লকে বিচার দেয়ায় কাটগড়ায় দাড় করানো যায় কিন্তু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের প্রফেসর আবুল বারাকাতের গবেষনা লব্দ হিন্দু মিসিং এর ভেরিফাইট তথ্য
ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অসংখ্য রিপোট নেটের কল্যানে অনেক মানুষ এবং আন্তঃজার্তিক মানবাধিকার সংগঠনে চলে গেছে।

সেটা কিন্তু প্রিয়া সাহার গালগপ্পকেই সমর্থন করে কিছুটা হলেও।