বিচার বিভাগীয় তদন্তের কোন প্রয়োজন আদৌ আছে কি মমতা দেবী!!যেদিন রাজ্যপালের সাথে আপনার কথা কাটাকাটি হলো, সেদিনই তো আপনি বলে দিয়েছিলেন যে “আপনাদের জন্য আমি অনেক অপমান সহ্য করেছি । অনেকদিন ধরে প্রোটেকশন দিয়েছি আমি, আর দিতে পারব না”!! ক্ষোভের প্রকাশ করতে গিয়ে এমন আরও অনেক কিছুই বলে ফেলেছিলেন সেদিন ।
            কাদের জন্য অপমান সহ্য করেছেন, কাদের প্রোটেকশন দিয়েছেন ম্যাডাম, সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নামগুলো বলে ফেলুন না!! আপনার কথা থেকেই তো পরিষ্কার, আপনি তাদের চেনেন, জানেন!! এমনকি নিরাপত্তাও দেন । একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এই কাজ করা মানে আপনি নিজেই তো বহুলাংশে দায়ী, এদের সমস্ত অপকর্ম তথা বাড়বাড়ন্ত এর জন্য!!
           রাগের মাথায় সত্যিটা বলে ফেলে এখন বিজেপির ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দিলেই কি লোককে দিয়ে গেলাতে পারবেন!!  বিজেপি যে ধোয়া তুলসী পাতা নয়, তা সবাই জানে । কিন্তু আপনার ঐ প্রোটেকশন পাওয়া লোকেরা যদি লোপ্পা ক্যাচ তুলে দেয়, ওরা কি না লুফে ফেলে দেবে নাকি, আপনিই বলুন না!!
         বামফ্রন্ট সরকারকে হেনস্থা করতে আপনি কি পরিমান নীচে নেমেছিলেন, যদি বিবেক বলে কোনো পদার্থ আপনার মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে একদিন সেজন্য চরম অনুতপ্ত হতেই হবে!! জ্ঞানেশ্বরী ট্রেন দুর্ঘটনার কথা মনে আছে তো!! তবু বামপন্থীরা আদর্শগত কারণে আজ ঘোলাজলে মাছ ধরা থেকে নিবৃত্ত আছে । এটা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে, যদিও তাদের মধ্যে একপেশে তোষণের প্রাবল্য বহু ক্ষেত্রেই সমস্যার মূল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখে বলে আমি পরিস্কার মনে করি!!
           কিন্তু বিজেপি তো অন্য পদার্থ!! তারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে, এ তো কারও বলার  অপেক্ষা রাখে না!! কাজেই, জল ঘ‌োলা দেখলে তারা শুধু মাছ ধরেই ক্ষান্ত হবে না, হাইব্রিড মাছের চাষও করবে দ্রুত গতিতে । তাই, অবস্থা সামলাতে কমিশনের পথে না গিয়ে আপনি সেদিনই যাদের চিহ্নিত করেছিলেন, এখুনি তাদের জেলে পুরে ফেলে ভবিষ্যতে তারা যাতে কোনও নিরাপদ বাড়বৃদ্ধির সুযোগ না পায় তা নিশ্চিত করলেই তো সমস্যা মিটে যায়!! তাই না কি!!