“বৈদিক সভ্যতার অন্তরাত্মা “
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

বেদ কামধেনু। আধ্যাত্মিক অমৃত যা চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায়। বেদ তাই হিন্দুদের কাছে ‘মাতা’=মাতৃশক্তি, ভারতের অন্তরাত্মা। আত্মা (চৈতন্যশক্তি) ও দেহের (প্রকৃতিদত্ত গুন)  মাঝখানে অধিষ্টিত ‘অন্তঃকরন’। এই অন্তঃকরনের ভিন্ন ভিন্ন রুপ আমরা পাই রামায়ন এবং মহাভারতে।

রামায়নে আছে হৃদয়ের সারল্য, আর মহাভারতে ‘বুদ্ধির উৎকর্ষ’। রামায়ন কোমল, জোৎস্নার স্নিগ্ধতা। মহাভারত দিবা সুর্য্যের প্রখর আলো। রামায়ন বিশাল জলাধার, মহাভারত উত্ত্যুঙ্গ শৈল শিখর। রামায়ন ভারতবর্ষীয় প্রাজ্ঞতার সরল গুনাবলী, মহাভারত সেই জ্ঞানীদের কঠোর তপঃশক্তি। দুইয়ে মিলে সম্পুর্ন।

মা সীতার সকল দুঃখ লাঞ্ছনার মধ্যেও আছে হৃদয়ের সরল গতি। দ্রৌপদীর দুঃখ ক্লেশের মধ্য দিয়ে ফুটে ঊঠেছে এক সমর্থ পরিনত ‘নারী হৃদয়ের আত্ম প্রতিষ্ঠা’র সংগ্রামী মনোবল এবং এক দুর্দমনীয় ইচ্ছাশক্তি। সীতার জন্ম মাটি থেকে, তাই তিনি মাটির মতো স্নিগ্ধ কোমল, স্বর্বংসহা। দ্রোপদীর জন্ম যজ্ঞের অগ্নি কুন্ড থেকে, তাই তিনি অগ্নিসম্ভভবা যাজ্ঞসেনী, দৃপ্তময়ী  ‘ধর্মার্থকুশলা’।

দুই  গ্রন্থে আমরা পাই দুই যুগের  দুই অবতার শ্রী রাম এবং শ্রী কৃষ্ণ। একজন শ্রীমান একজন ধীমান।