একদল অমুসলমান বাম, মডারেট, সুশীল হৈ চৈ করে উঠবে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণ করা হচ্ছে!

Spread the love

একটা ভিডিও দেখলাম, মরুভূমিতে একদল ফিলিস্তিনী নামাজ পড়ছে, গুলি চালিয়েছে ইজরাইল সৈন্যরা, একজন গুলি খেয়ে পড়ে গেছে…। কি মর্মান্তিক! মুসলমানদের নামাজরত অবস্থায় ইহুদীরা পাখির মত গুলি করে মেরে ফেলছে!- এরকম সেন্টিমেন্ট সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতেই এইসব নামাজের ফন্দিফিকির। পশ্চিমের কোন পর্যট্রন এড়িয়াতে মানুষের সচ্ছন্দ ঘুরে বেড়াবার পথে নামাজরত মুসলমানের লক্ষ্য যেমন ইসলামের এডভারাইজমেন্ট, তেমনি ফিলিস্তিনীদের ইজরাইল নিয়ন্ত্রিত স্থানে কাতার দিয়ে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যই যেন এরা গুলি চালিয়ে দুই-একজনকে শহীদ করে দেয়- তাহলেই ফয়দা। মরতে তো ওরা প্রস্তুতই। মরলে পাপের শাস্তি না পেয়ে বিনা হিসেবে বেহেস্তে ৭২ হূর মিলবে- আর যারা বেঁচে থাকবে তারা এইসব নামাজরত মুসলমানদের মৃত্যুর বিনিময়ে ইসলাম কায়েম করবে।… এরকমই স্থূল এদের চিন্তা ধারা।

রাস্তা আটকে নামাজ পড়া, অপর দেশের সীমান্তে ঢুকে বন্দুকের নলের সামনে আল্লার কাছে সেজদা দেয়া সবই নাটকের ক্লাইমেক্স বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশের বি. চৌধুরী বিএনপির হাতে পঁচা ডিম যেদিন খেয়েছিলো সেদিনও দেশবাসীর নজর আর সিম্পেথি টানতে রাস্তার মধ্যে কুরআন পড়তে বসে গিয়েছিলো। হেফাজতের রাস্তা আটকে রাত-দিন ইবাদত বন্দেগির কথা তো এখনো জ্বলজ্বল। এসব কারণেই ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ইত্যাদি ইস্যুতে সারা বিশ্বে হৈ চৈ ঘটে যায়। জাতিসংঘ, বামসংঘ, সুশীলসংঘ, মডারেটসংঘ সবাই এসব সমস্যা নিয়ে মানবিক আবেদন জানায়। জেরুজালেমের ইহুদীদের প্রধান মন্দির দখল করে যারা ইসলামী খেলাফতের পতাকা উড়াতে চায়- সেরকম দলগুলোও তখন এদের চোখে ‘ফিডম ফাইটার’।

অথচ মিশরের কপ্টিক খ্রিস্টানদের নিজ দেশে নিপীড়িত হবার কথা কখনই বড় হয়ে উঠে না। ইহুদীরা নাকি দখলদার, জেরুজালেমকে তারা দখল করে রেখেছে! তাহলে সলোমনের মন্দিরটা এখানে কাদের ছিলো? জেরুজালেমসহ এর আশপাশের দেড় হাজার মাইল এলাকার মধ্যে বসবাস করা ইহুদীদের ইতিহাসটা কোথায় যাবে? কোথায় তারা চলে গিয়েছিলো? পূর্ব পুরুষের মাটির টানে, ধর্মীয় ঐতিহ্য নির্দেশনার অধিকারে কেন ইহুদীরা জেরুজালেমকে নিজেদের বলতে পারবে না? এই ন্যায্য কথা বললেই আমি ইহুদীবাদী, সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছি…। জাকির নায়েক তো শ্রী কৃষ্ণকে একজন নবী বলে দাবী করেছিলো! তাই বলা যায় না, একদিন গয়া কাশি বৃন্দাবন মুসলমানদের পবিত্র ভূমি দাবী করে বসতে পারে! গয়া কাশির কথা চলে আসায় কাস্মিরের কথা মনে পড়ে গেলো। কাস্মিরি মুসলমানদের কাফের হিন্দুরা পাখির মত গুলি করে হত্যা করে মেরে ফেলছে! বাম বলেন আর ইসলামপন্থি- সবার এক রা! কাস্মিরী তরুণদের যে পন্থায় জিহাদী করে তুলে নিজেদের স্বাধীনতার কথা বলছে সেটা কি গ্রহণযোগ্য? পাকিস্তান কাস্মির দখল করে রেখেছে- কেউ সেকথা কেন একবারও বলে না। কাস্মিরের ইতিহাসটা ছোট করে বললে এরকম: কাস্মিরের রাজা হরি সিংহ ভারত নাকি পাকিস্তানে যোগ দিবেন সেই দোটানায় পড়ে গিয়েছিলেন ৪৭ সালের দেশভাগের সময়। কোন দিকে গেলে কাস্মিরের লাভ বেশি হবে সেই হিসেব কষতে কষতেই পাকিস্তান কাস্মির আক্রমন করে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কাস্মিরের খানিটা দখল করে নেয়। রাজা হরি সিংহ বেগতিক দেখে ভারতের সহায়তা চান। চুক্তি হয় কাস্মির ভারতে যোগ দিবে। ব্যস, শুরু হয় কাস্মির নিয়ে ভারত পাকিস্তানের চিরস্থায়ী যুদ্ধ। কাস্মিরের মুসলমানদের পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দারাদের দীর্ঘকালীন মাস্টার প্লাণে তাদের মধ্যে জিহাদী অবস্থান গড়ে তুলে। আজাদ কাস্মিরের আড়ালে আসলে পাকিস্তানের মনবাঞ্ছা পূরণের নিশানা পোথিত। এই কাস্মিরের ভূমিপুত্র কাস্মিরি পন্ডিত নামের পরিচিত জনগোষ্ঠিরা নানা সময় কাস্মির থেকে বিতাড়িত হয়ে নিজ দেশেই শরণার্থী হয়েছে। ১৯৮৯ সালে কাম্মিরে মসজিদ থেকে মাইকিং করে এই কাস্মিরি পন্ডিতদের হত্যার ফতোয়া ছড়ানো হয়। হাজার হাজার কাস্মিরী হিন্দুদের হত্যা করা হয়েছিলো। ধর্ষণ করা হয়েছিলো নারীদের। শরণার্থী হয়েছিলো ৫ লাখের মত। বহু বিখ্যাত মানুষ এই শরণার্থীদের মধ্যে আছেন। যেমন অভিনেতা অনুপেম খের একজন কাস্মিরি পন্ডিত। তথাকথিত সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর দেশে হিন্দুরা শরণার্থী! আজতক এই ভূমিপুত্র কাস্মিরিরা নিজ দেশে ফিরতে পারেনি। তাহলে কারা কাস্মিরকে দখল করে রেখেছে? কারা বেলুচিস্থাকে দমন করে রেখেছে? কেন সারাবিশ্ব গরম হয় না? কাস্মিরী পন্ডিতরা যদি গীতা পড়তে পড়তে গুলি খেয়ে মরত কিংবা অন্য কোন ধর্মীয় ছাল পরে উশকানি দিতো তাহলে কি বিশ্ববাসীর নজর কাড়ত?

ফিলিস্তিনে কোনদিন শান্তি আসবে না। কেন? যতদিন ইসলাম ধর্ম টিকে থাকবে ততদিন ইহুদী ঘৃণা জারি থাকবে। হাদিসে ইমাম মাহদির দল বাইতুল মোকাদ্দেশের গুম্বুজে কলেমা লেখা পতাকা উড়াবে এমন আশাবাদ করা হয়েছে। মুসলমানদের ভয়ে ইহুদীরা গাছের আড়ালে লুকাবে আর গাছ বলে দিবে এখানে একজন ইহুদী আছে- একে হত্যা কর! এমন প্রকাশ্য ঘৃণা আর হত্যার কথা লেখা যে ধর্মে থাকে সেই ধর্মের অনুসারীদের কেমন করে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আনা যাবে? আমাদের তারচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, লোকজনের চলাচলের পথ আটকে মুসলমানরা নামাজ পড়বে, তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিলেই একদল অমুসলমান বাম, মডারেট, সুশীল হৈ চৈ করে উঠবে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণ করা হচ্ছে!