আসলে ভারতের রাজনীতিতে এই সব গুরুদের সামনে সব রাজনৈতিক দলই অসহায়। 

Spread the love

গুরু হইতে গোলমাল, ভারতে নতুন কিছু নহে। বাবা বালক ব্রহ্মচারীর মৃত্যুর পরেও, তার মৃতদেশ সৎকারের সাহস পায় নি বাংলার “কমিনিউস্ট” সরকার। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কয়েক সপ্তাহ বাদে সুভাষ চক্কোতি, বালক ব্রহ্মচারীর দেহ বার করতে সমর্থ হোন। সেখানে বিজেপির মতন পার্টি যাদের ভোটারবেসের অনেকটাই এই ধরনের মূর্খ ভক্তের দল, তারা বাবা রাম রহিমের ডেরায় সৈন্য ঢোকাতে পেরেছেন, সেটাই অনেক।

আসলে ভারতের রাজনীতিতে এই সব গুরুদের সামনে সব রাজনৈতিক দলই অসহায়।  আমি এমন কোন নেতা বা পার্টি জানি না, যারা ধর্মীয় নেতাদের নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করে না।  এই ক্ষেত্রে আমি সাধু, তুমি চোর এই ধরনের ভাবের ঘরে চুরি করে লাভ নেই। 

বরং এটা ভাবার সময় এসেছে কেন ভারতীয়রা গুরুর ওপর এত নির্ভরশীল। কেন নিজেদের ওপর ভরসা এদের নেই।

দীর্ঘদিনের একটা সাংস্কৃতিক প্রভাব আছেই। কিন্ত একবিংশ শতাব্দিতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি যখন এতটা এগিয়েছে-তখনো কেন মানুষ গুরুর সন্ধান করবে সেটা আমার কাছে পরিস্কার না।

যদি ধরেই নিই অনুকরনযোগ্য একজনকে সামনে পেলে, জীবনে অনুপ্রেরনা আসে-সেক্ষেত্রে আমার মতে অনেককেই পাবেন, যারা নীরবে কাজ করে চলেছে ঢাকঢোল না পিটিতেই। তাদের অনুসরন করুন।  সৎ পথে পরিশ্রম করে যারা মানুষের জন্য কিছু করে, ভারতে তাদের কদর নেই- কদর তাদের যারা  ভণ্ড রাজনৈতিক বিদদের নিজেদের ঢাকঢোল পেটাবে-জনগনের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে-আর রাজনৈতিক নেতাদের সাথে কাঁধ ঘেঁসে, তাদের ভোট এনে দেবে। বাংলার ক্ষেত্রে দেখুন। প্রাত্তন ডিসি নজরুল বা আল আমিন মিশনের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম, যারা নীরবে মুসলমান সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছেন, তাদের কোন কদর নেই কোন রাজনৈতিক দলের কাছেই। যারা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, ধর্মীর পরিচয়ের সুরসুরি-তার সাথে ভেক ধরতে পেরেছে, তারাই নাকি মুসলমানদের নেতা।   হিন্দুদের মধ্যেও তাই।  আমি একজন আই আই টি প্রাত্তনীকে চিনি, যিনি জঙ্গল মহলে মহিলাদের জন্য “স্কিল মিশনঃ” খুলে তাদের তাদের স্বনির্ভর করার কাজে ব্যস্ত। তার আই আই টি, আই আই এম ডিগ্রি ছুড়ে ফেলে। এদের কেউ সন্মান দেয় না। এরা অনুকরনযোগ্য না-কারন এদের গায়ে রাজনৈতি শক্তি নেই। এরা মানুষকে ধনী হওয়ার লোভ দেখায় না।

রোগ অনেক গভীরে। সাধারন মানুষ একে লোভী, তার ওপরে পেটে বিদ্যা নেই, মাথায় বুদ্ধি নেই। ফলে চিট ফান্ড থেকে গুরুদেব -প্যাটার্ন একটাই-যে মাথায় হাত বুলিয়ে এই অজ্ঞ জনগনের লোভে ঘি ঢালতে পারবে, সেই কামাবে।

তবু সরকাকে ধন্যবাদ জানাব, যে কং সরকারে মতন তুষমতি না করে এর বিচার করার জন্য। জানি সরকারে উপর এর প্রভাব পড়বে। তবু কাজ করুন এটা পিছনেই আমাদের নতুন ভারতে সূর্য হুকি মারছে। ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী  আপনাকে। আপনি নীতি জন্য আমাদের গর্ভের হয়ে থাকবে সারাজীবন।