(১)
খাওয়া উচিৎ কি অনুচিত, খাদ্য-স্বাধীনতা, গো-মাতা, অনেক হিন্দুই গরু খায় … ইত্যাদি ইত্যাদি এ ব্যাপারে কোনও আলোচনায় যাচ্ছি না। যে যা খুশী খাবে, এতে দ্বিমত থাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। ব্যক্তিগতভাবে আমিও মনে করি সারা ভারতে গো-কোতলের বা গরু কেনা-বেচার উপর নিষেধাজ্ঞা একটি যুক্তিহীন পদক্ষেপ।
(২)
কিন্তু ‘‘প্রাচীনকালে হিন্দুরা নাকি গো-ভক্ষণ করতো’’ এ কথাটা আজকাল তথাকথিত সেক্যুলারদের মধ্যে খুব প্রচলিত এবং তারা তা ফলাও করে তা বিজ্ঞাপিত করে। তবে সে সম্পর্কে কোনও পোক্ত প্রমাণ দিতে পারে না তারা। যা বলে সম্ভবত শুনে শুনেই আওড়াতে থাকে। মার্ক্স-লেনীন পড়ার পাশাপাশি বেদ-উপনিষদ-কোরান,বাইবেলও বোধহয় তাদের আজকাল ভীষণভাবে রপ্ত করতে হয়! বস্তুত ইসলাম ধর্মে যেমন শুকর খেতে বারণ করা হয়েছে, হিন্দু ধর্মেও কিন্তু গরু সম্পর্কে সে কথাই বলা হয়েছে।
(৩)
যাকগে ফিরি সেক্যুলারদের কথায়। ধরে নিলাম তাঁ‍রা ঠিক বলছেন — যেহেতু হিন্দু ধর্মে একসময় গো-ভক্ষণ চলতো, তাই এখনো সেটা চলতেই পারে। এবং গরু যেখানেই, যে ভাবেই কোতল করা হোক না কেন তা স্বাধীনতা এবং তা নিয়ে প্রতিবাদ অর্থহীন। কিন্তু বাবুমশাইয়েরা প্রাচীনকালে হিন্দুরা যেমন গরু খেতো তেমনি প্রাচীনকালে বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ, আত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ, সতীদাহ ইত্যাদিও চলতো। ধর্মগ্রন্থে-মহাকাব্যে আরও অদ্ভুত সব খাওয়া-পরা-করার উদাহরণ রয়েছে তাহলে ধর্মের দোহাই দিয়ে আজকে সেগুলো মেনে চললে কোনও দোষের নয়। কি বলে আপনাদের যুক্তি? যদি তা নাই হবে তাহলে শুধু মাত্র গরুর নড়া ধরে টান কেন বাপু ? তোমার খাবার আছে তুমি সপরিবারে খাও, কিন্তু খাওয়ার ওকালতি করতে গিয়ে ফালতু ভাসা-ভাসা ধারণায় যুক্তি খাড়া করো কেন ?