#গোনুভূতি

সভ্যতার গতিপথে সম্পদের যখন অবমূল্যায়ন হলো, সম্পদ তখন রূপ বদলে পরম্পরা, সংস্কৃতির মাধ্যমে এক বিশেষ রূপে সম্মান পেতে শুরু করল।

পৃথিবীর প্রত্যেকটি সভ্যতাই কেবল মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠেনি, অদম্য মানবিক প্রচেষ্টাকে সবসময় উজাড় করে সাহায্য করে গেছেন পরমাপ্রকৃতি আর কিছু অবলা মানুষ বান্ধব প্রাণী, সভ্যতার বিকাশে সবথেকে বড় প্রেরণা হলো নদী।

যেহেতু পৃথিবী প্রাচীন সভ্যতা গুলি নূতনের আগ্রাসনে আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত, সেহেতু সভ্যতার জন্মলগ্ন নিয়ে আজ আর কেউ ভাবেনা।

সেইদিক থেকে আমরা ভারতীয়রা অন্য প্রকার গর্ব অনুভব করি, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং প্রাচীন সভ্যতা এখন আমাদের ধমনিতে প্রভাবিত হচ্ছে, যার ধ্বংস কোন অর্বাচীন, বর্বর নূতনের দ্বারা সম্ভব হয়নি আর ভবিষ্যতেও হবেনা।

ভারতীয় আর্য সভ্যতার সুগভীর ভিত্তিমূল আমাদের শরীরে মিশে আছে আমাদের জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে।

আর্য সভ্যতা নদী কেন্দ্রিক সভ্যতা, আর আমরা সেই নদীর দানকে স্মরণ করি তাই নদীকে আমরা মা বলি, এই মা সভ্যতার পালনকারী মা, তাই সভ্যতার বিশ্বাসী সকলের মা, এটাই আমাদের পরম্পরা।

আর্য সভ্যতার আরেক সহায়ক হলো গো, সভ্যতার সমৃদ্ধির জন্য এই অবলা পশুর অবদান অনস্বীকার্য। আর্য সভ্যতায় গো ছিল মানুষের অন্যতম প্রধান সম্পদ, কৃষি, দুধ,ঘি সবকিছুর জন্যই গো এর উপর মানুষের নির্ভরশীলতা ছিল প্রশ্নাতীত।

গো সংখ্যা যার যত অধিক সে ততই সমৃদ্ধ, কন্যার বিবাহতেও গো দান করবার প্রচলন ছিল, কন্যার শ্রীবৃদ্ধির জন্য। গো এতই মূল্যবান সম্পদ ছিল যার জন্য গো কে অদিতি বলা হয়, যার মানে অখণ্ডনীয়া এবং আর্য সভ্যতায় গো হত্যাকারীদের কঠিন কঠোর শাস্তির বিধান আছে।

সংহিতায় দেখা যায় বৈদিক ঋষি (অঙ্গীরাস বংশজ) আর ব্রাত্য যোগীদের গো রক্ষার জন্য অসুর/আসুর/আহুর ( এ্যসিরিয়) ও শকদের (শাক্যবংশীদের পূর্বপুরুষ)  সঙ্গে বিরাট সংগ্রাম।  গোধন রক্ষার জন্য ঋষিরা তুলে নিয়েছে অস্ত্র, অসুরদের তারিয়ে দিচ্ছে উত্তর পশ্চিম পথে, আর শকদের চেষ্টা চালাচ্ছে সংশোধনের।

যেহেতু সময় থেমে থাকেনা, আর সময়ের সঙ্গে কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন হয় কিন্তু জ্ঞানকাণ্ড একই থাকে, সেহেতু সম্পদ অবমূলায়িত হয়েছে ঠিকি কিন্তু পরম্পরাগত ভাবে তাঁর সম্মানের অবমূল্যায়ন হয়নি,আমাদের সভ্যতার লালনকারিণী নদী ও গো সম্মান হেতু মাতৃরূপে কল্পিত দেবশক্তি, তাই আজো গোকে সেই অদিতি রূপেই চিন্তন করা হয়, কারণ এটা ভারতবর্ষ।