হযরত মুহাম্মদ তার দূতদের পারস্য, ইয়েমেন, আবিসিনিয়াসহ আশেপাশের শাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এই লিখে যে, হয় তাদের ইসলাম গ্রহণ করতে হবে নতুবা তার দলকে খাজনা দিতে হবে নিজেদের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। অর্থ্যাৎ যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে মুহাম্মদকে নেতা না মানে তাহলে তাদের অবশ্যই ট্যাক্স দিয়ে নিজেদের মুসলমানদের কাছে নিরাপদ থাকতে হবে। বাহরানের রাজাকে চিঠি লিখে ইসলাম গ্রহণ ও মুহাম্মদের আনুগত্য স্বীকার করে লেখার চিঠির জবাবে বাহরানের রাজা জানান, তিনি ও তার সঙ্গীরা ইসলাম গ্রহণ করতে চান। কিন্তু তার দেশের ইহুদীসহ অন্য ধর্মের লোকজনদের তাহলে কি বিধান হবে। জবাবে মুহাম্মদ লিখে পাঠান তাদেরকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিজিয়া ট্যাক্স দিতে হবে। পরিস্কারভাবে চিঠিতে লিখেন, ‘As for Jews and Magians, they have only to pay a tax.’ নজরানের খ্রিস্টানরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে জিজিয়া কর দিতে মুহাম্মদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলো সেটা ইবনে হিশাম থেকে দলিল পাওয়া যায়। ‘Najran chiefs lost their self-confidence and felt that they were very puny and could not stand against Prophet Muhammad (s) and his Household. They, therefore, accepted to pay “jaziyyah” and offered to give in to peace. On behalf of the Holy Prophet (s), the commander of the Faithful, `Ali , signed a peace treaty with the Christians.’। নাজরানের চার্চের বিশপ আব্দুল হারিস ইবনে কামাকে মুহাম্মদ যে চিঠি লিখেছিলেন সেখানেও স্পষ্ট করে বলেছিলেন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাসনা করা ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করতে এবং ইসলাম গ্রহণে অসম্মত হলে অবশ্যই তাদের জান মাল নিরাপদ রাখতে ট্যাক্স দিতে হবে। তাবুক যুদ্ধের পর মুহাম্মদ থেকে নিরাপদ থাকতে হলে কাফেরদের অবশ্যই নিরাপত্ত ট্যাক্স ‘জিজিয়া কর’ দিতে যে হবে সেটা নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছিলো। ইবনে হিশাম জানাচ্ছে সেকথাই, When the Messenger(sallallahu alaiyhi wassallam) of Allah reached Tabuk, the Arab amirs on the herders called on him and made treaties of peace. They also paid to him the jizyah tax. The Messenger(sallallahu alaiyhi wassallam) of Allah guaranteed their borders, the security of their territories and their caravans and ships travelling by land and sea. Letters to this effect were delivered to all parties.

আপনি এবার বলেন, ইসলামে যদি জোরজবরদস্তি না থাকবে তাহলে ইসলাম গহণ না করলে কেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চত করতে ট্যাক্স দিতে হবে? মানুষকে সত্য সঠিক পথে আনাই যদি ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্য তাহলে অর্থের বিনিময়ে মানুষ যদি সেই কথিত সত্য ও সঠিক পথে না আসে তাহলে আল্লাহ’র কি লাভ হলো? একটা বিষয় খেয়াল করেন কোথাও কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করতেই হবে এমন দাবী করা হয়নি। ইচ্ছা করলে যে কেউ কাফের থাকতে পারবে তবে এজন্য তাকে মুসলমানদের কাছে জান-মাল নিরাপদ রাখতে ট্যাক্স প্রদান করতে হবে বলা হচ্ছে। এখানেই ইসলাম নিয়ে সবচেয়ে খারাপ রাজনীতিটা করেন ইসলামিস্টরা। ইসলামের সহিংসতায় জনগণ বিরূপ হবার আশংকা থাকলে তারা বলে, ইসলামে জোরজবদস্তি নেই। সেটা ঠিকই কারণ ইসলাম গ্রহণে কোন জোরজবরদস্তি করা যাবে না। কিন্তু ইসলাম কায়েম করতে হলে অবশ্যই সেটা জবরদস্তি করতে হবে। চিঠি লিখে মুহাম্মদ সেটাই বলতেন। যারা আপষে মুহাম্মদকে ট্যাক্স দিতে রাজি থাকতেন তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযান চালানো হতো না। যারা সেটা মানতে চাইত না তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান চালানো হতো এবং তখন তাদের বন্দি করা হতো দাস হিসেবে। নারীদের করা হতো যৌনদাসী। যেমন নজরানের খ্রিস্টানরা স্বেচ্ছায় মুহাম্মদকে সোনাদানা দান করে নিজেদের নিরাপদ রেখেছিলো তার বাহিনীর হাত থেকে। এই কথা ইবনে হিশামই লিখে গেছেন, The Christians were to annually offer twelve thousand exquisite clothes, a thousand Mithqal of gold (4225 grams of 24ct Gold.), and some other items to remain Christians under the umbrella of Islam.

ইসলাম গ্রহণের জন্য কারো উপর আঘাত করার কোন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ইসলাম বলে ‘লা-ইকরাহা ফিদ্দীন’ অর্থ্যাৎ ইসলাম গ্রহণে জবরদস্তি নেই। কিন্তু ইসলাম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে, ‘লি তাকূনা কালিমাতুল্লাহি হিয়াল উলইয়া’ অর্থ্যাৎ যেন আল্লাহর কালিমা বুলন্দ হয়। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব যেন হয় ইসলামের, আল্লাহর দ্বীনের হয়। আর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব যদি ইসলাম নিতে চায় সেটা সবাই মানবে কেন? তাই অবধারিতভাবে যুদ্ধ হাঙ্গামা বাধবে। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ইসলামের হাতে রাখতে মুসলমানদের আল্লাহ কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং ইহুদী-খ্রিস্টানদের যারা ইসলাম গ্রহণ করতে চাইবে না তাদের ট্যাক্স দিয়ে মুসলমানদের নেতৃত্ব মেনে বিভিন্ন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাহলে ইসলাম সব সময়ই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের একটা চেষ্টা চালিয়ে যাবেই। শ্রীলংকায় গির্জাতে হামলাকারী ব্যক্তিটির যে ভিডিও এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে সে কিন্তু সেখানে এই কথাগুলিই বলেছিলো যে ইহুদী খ্রিস্টান হিন্দুরা বসবাস করতে পারবে কিন্তু ক্ষমতা থাকবে ইসলামের হাতে। সে নিজে কিছু বানিয়ে বলেনি কুরআন হাদিসের বাইরে। সে আপনাদের সবার চাইতে ইসলাম ভালোই বুঝত এবং ইসলামের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য চেষ্টা করছিলো। একজন একনিষ্ঠ ইসলাম প্রক্টিসকারীকে অবশ্যই জঙ্গি হতে হবে। কারণ সে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য চেষ্টা চালাবে। গির্জায় হামলা চালানোটা আমাদের সভ্য সমাজের চোখে ঘৃণ্য হলেও সেটা ইসলামিক ইতিহাসে নজিরবিহীন নয়। রাতের অন্ধকারে ইহুদী পল্লীতে আক্রমণ করে তাদের গ্রাম দখল করার ইতিহাসের নাম ইসলাম। সহি হাদিস জানাচ্ছে নিরপাধী নাবালক নারী ও শিশুদেরও ইসলাম হত্যা করেছে। আতিয়াহ আলকুরাজী (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, বনী কুরাইজার যুদ্ধে রাসূল (সাঃ) এর সামনে (কুরাইজাহ গোত্রের জনসাধারনকে) উপস্থিত করা হয়েছে। অতঃপর যাদের নিন্মাঙ্গের পশম গজিয়েছে (সাবালক হয়েছে) তাদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আর যাদের পশম গজায় নি তাদের হত্যা থেকে রেহাই দেন। আর আমি ছিলাম তাদের মধ্যে। অতঃপর আমাকে হত্যা থেকে রেহাই দেন।(আবু দাউদ, নাসায়ী,ইবনে মাজাহ, তিরমিজী। ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান(সহি) বলেছে।) আপনাদের জানা উচিত বনী কুরাইজার ইহদী গোত্রের সর্দারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলা হয়েছিলো। অথচ তার জন্য সাজা পেলো নারী ও শিশুরা! রাতের আধারে ঘুমন্ত জনবসতির উপর ইসলাম কিভাবে হামলা চালাতো সেটাও সহি হাদিস থেকে জানা যাচ্ছে, وبالحديث الآخر عن سلمة بن الأكوع: بيتنا هوازن مع أبي بكر الصديق وكان أمره علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم .
অর্থ: সালামাহ বিন আকওয়া (রাঃ) হতে, তিনি বলেন, আমরা আবু বকর (রাঃ) এর সাথে হাওয়াযেন গোত্রের অধিবাসীদের উপর রাত্রী বেলায় আক্রমণ পরিচালনা করি। রাসূল (সাঃ) তাঁকে আমাদের আমীর নিয়োগ করে দিয়েছিলেন। (আবু দাউদ)।

এবার আসি ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে। শ্রীলংকায় হামলার পর সেখানকার কিছু মুফতি ইমাম খ্রিস্টান যাযকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সমবেদনা জানাতে। অপরদিকে আইএসের এই হামলায় বুনো উল্লাস করার খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের ইসলামিক জঙ্গি পেইজ বাঁশের কেল্লা শ্রীলংকা হামলার পর কুরআনের আয়াত পোস্ট করেছিলো, ‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বলে ধারণা করতে তারা এখন কোথায়?’ মানে শ্রীলংকায় গির্জায় হামলার সময় গড ও ঈশ্বরপুত্র তাদের রক্ষা করতে পারেনি। বদর যুদ্ধের সময় মুহাম্মদ কুরাইশদের মৃতদেহ ভর্তি গর্তের দিকে চেয়ে কোমড়ে হাত রেখে ঠিক এই কথাগুলিই বলেছিলেন। যদিও মসজিদে হামলার সময়ও একমাত্র মাবুত আল্লাহ কার কি ছিড়ছিলো সেরকম প্রশ্ন তুললেই সেটা ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ হয়ে যাবে। যাই হোক, নিজের পিঠ বাঁচানোর জন্য ইসলামে ভান করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। শ্রীলংকান মুফতিরা জানে ইসলামের উপর শ্রীলংকানদের ক্রোধ বাড়বে স্বাভাবিক। এ জন্য এখন বলছে ‘খ্রিস্টান ভাইদের প্রতি এই নৃসংসতার নিন্দা জানাই’। পারলে যাযকদের কাছে গিয়ে সমবেদনা জানানোর বদলে শ্রীলংকান মুফতিরা গির্জায় হামলায় মারা যাওয়া সাড়ে তিনশ খ্রিস্টানদের জন্য তাদের মসজিদে দোয়ার আয়োজন করে দেথাক তো! পোপ তো ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর তাদের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। হজের সময় কি এরকম কোন ঘটনায় যেখানে অমুসলিমদের উপর নির্মম হামলা হয়েছে তার জন্য দু:খ প্রকাশ করা হয়? তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়? হয় না কারণ ইসলামে অমুসলিমদের জন্য প্রার্থনা করা নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তারা জাহান্নামী। ইসলাম ব্যতিত অন্য আর কোন ধর্মে এভাবে স্বধর্ম ব্যতিত শুভ কামনা না করার ঘোষণা নেই। কাজেই এই মূহূর্তে যেসব ইসলামপন্থি শ্রীলংকার জন্য দু:খ প্রকাশ করছে তাদের বলবেন লংকান খ্রিস্টানদের জন্য প্রকাশ্যে কোন দুয়ার আয়োজন করে দেখাতে। তখনই প্রমাণ হয়ে যাবে ইসলাম শান্তির ধর্ম কিনা…।