ইজরায়েল প্রসঙ্গ নিয়ে মোদির তো অনেক মুণ্ডুপাত করা হলো, এবার চলুন আর একটি খবরে একটু নজর দেওয়া যাক।

          রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মম অত্যাচারের জন্য মায়ানমারের এক শীর্ষ সেনা কর্তা, জেনারেল মাউং মাউং সো -র বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো মার্কিন সংস্থা ওনার সঙ্গে কোনও রকম লেনদেন করতে পারবে না এবং যে সমস্ত ব্যাঙ্ক বা লগ্নিসংস্থায় জেনারেলের সম্পত্তি আছে তা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে ।

           তাহলে এই ঘটনা থেকে কী প্রমাণিত হয়? ট্রাম্প প্রশাসন আরবের ব্র্থেলে ঢুকে গ্যাছেন? তেলের লোভে আমেরিকাও শান্তির ধর্মের পা চাটা শুরু করে দিয়েছে? যুক্তি তো তাই বলে। আমেরিকা নেহাত মুখে একটু বকে দিতে পারতো, কিন্তু এসব করার কী দরকার ছিলো, এর জন্য আমেরিকা মায়ানমারের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে, মায়ানমারে চীনের প্রভাব বাড়বে, ট্রাম্প প্রশাসন মহামূর্খ ইত্যাদি ইত্যাদি।

          ইজরায়েল সংক্রান্ত প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপুঞ্জে পেশ করেছিলো আমেরিকা, তাতে ৮ টি দেশ যারা মার্কিন অনুদানে চলে, তারা ব্যতিরেকে বাকি ১২৭ টি দেশ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, যার মধ্যে আছে দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন  এর মত রাষ্ট্র। তো এদের সবার সাথে ইজরায়েল এর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে, তাই তো?

           প্রথম কথা, আমেরিকা কোনোদিনই ভারতের মিত্ররাষ্ট্র নয় এবং আমেরিকা মিত্র হলে শত্রুর দরকার পড়ে না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমেরিকা, এটা বলা মানেই কেউ আরবের ফান্ডিং পাচ্ছে, এটা নাও হতে পারে। যে দেশ আমার দেশকে শায়েস্তা করতে একাত্তরে নৌ বহর পাঠিয়েছিল, সেই দেশকে বরাবর সন্দেহের চোখে দেখবো এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার  । আমেরিকার প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনে থাকে একটিমাত্র কারণ, ব্যবসা। নেপোলিয়ন ইংরেজদের দোকানদারের জাত বলে ব্যঙ্গ করতেন, আমেরিকা সেই বেনিয়া জাতের ই বংশধর। ভারত কি তার নিজস্ব সত্তা বিকিয়ে দিয়ে চোখ কান বুঝে আমেরিকার প্রতিটি পদক্ষেপ সমর্থন করবে, এটাই কাম্য?

         জেরুজালেম নিয়ে ভারতের অবস্থান অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন। ভারত চায়, ইজরায়েল এবং প্যালেস্টাইন এর মধ্যে যাবতীয় নিষ্পত্তি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। খেয়াল করবেন, কাশ্মীর নিয়েও ভারতের অবস্থাণ একই , যে কাশ্মীর নিয়ে যাবতীয় বিবাদ ভারত পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে, রাষ্ট্রপুঞ্জ বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ তাতে নাক গলাতে পারবে না । আবার একই সঙ্গে এটাও জানানো হয়েছে, আলোচনা তখনই সম্ভব যখন পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করবে।

           এটাই ব্যালেন্সের খেলা, এটাই সাবালক বিদেশনীতি, আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে যা বলে।আমেরিকার প্রস্তাবে সায় জানানোর অর্থ ছিল, কাশ্মীর নিয়ে তৃতীয় পক্ষের অনুপ্রবেশের দরজা খুলে দেওয়া । মোদি সেই ভুল করেন নি। উনি একই সঙ্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছেন, ডোকলামে চীনের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সেনা পাঠিয়েছেন, আবার সেটা করতে গিয়ে আমেরিকার পা ও চাটেন নি। এটাই প্রথম নয়, ক্ষমতায় আসার পরে খাদ্যদ্রব্যে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে আমেরিকার আপত্তিকেও মোদি সরকার পাত্তা দেয়নি, মনে করে দেখুন । দীর্ঘদিন পরে ভারতের বিদেশনীতি তে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, এর জন্য মোদির ধন্যবাদ অবশ্যই প্রাপ্য।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে অনেক ভালো প্রভাবের সাথে সাথে একটা খারাপ ব্যাপারও হয়েছে, সেটা হলো একমেরু বিশ্বের উদ্ভব। আমেরিকাই সব জায়গায় ছড়ি ঘোরাবে, আজ এর রাজধানী ঠিক করে দেবে, কাল এ রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে তাকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবে!! আমার দেশ  নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে যদি দাদাগিরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়,  আমি অবশ্যই সমর্থন করবো। আমেরিকা নামক শয়তান রাষ্ট্রের ছড়ি ঘোরানো বন্ধ হোক, চিরকালের জন্য বন্ধ হোক।