এই প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষ ডাঃ ভগবান দাসের নাম শুনেছে কিনা আমার জানা নেই।

Spread the love

বিস্মৃত হিন্দু ।।
                    —————
      এই প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষ ডাঃ ভগবান দাসের নাম শুনেছে কিনা আমার জানা নেই , তাঁকে নিয়ে কখনও কোন আলোচনা হয়েছে বলেও আমি কখনো শুনিনি বা পড়িনি  ।আমাদের সমসাময়ীক মানুষও তাঁর সম্বন্ধে খুব একটা ওয়াকিবহাল কিনা আমার সন্দেহ আছে ।এর অন্যতম কারন হল ‘সে্ক্যুলারিজ্ম ও বামপন্থা’। ৬৫ বছরের কংগ্রেস জমানা আর দিল্লির নেহেরু ইউনিভার্সিটি আমাদের সব ইতিহাস মুছে সাফ করে দিয়েছে । দ্বিতীয় কারন হল তিনি বাংলাভাষী ছিলেন না , ছিলেন হিন্দিভাষী । সুতরাং বাংগালীসুলভ উন্নাসিকতা আমাদের সর্বভারতীয় স্বার্থকে সর্বদা ক্ষুন্ন করেছে । আর উত্তরভারতের বিরধীতা তো আমাদের জন্মগত অধিকার ।পরসীর খবর রাখা আমাদের এটিকেটে বাধে ।ভারতের জাতীয় আন্দোলন যখন মধ্যগগনে , তখন ভগবান দাসের বিদগ্ধ চিন্তাভাবনা কিন্তু ভারতের সীমা অতিক্রম করেছিল । যেহেতু তিনি একজন থিওজফিস্ট ও প্রত্যক্ষ রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলেন , সেহেতু তিনি তদানীন্তন জাতীয় নেত্রীবৃন্দের অনেকেরই চক্ষুশুল ছিলেন । বিশেষ করে আপ্পুজী(গান্ধী)তার সাংগঠনিক শক্তি ও চাতুর্য দিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনাকে জনচিত্ত থেকে আড়াল করতে পেরেছিলেন , যেভাবে সাভারকার ও নেতাজীকে শেষ করা হয়েছিল , ঠিক সেইভাবে ডাঃ ভগবান দাসকেও “অহিংসা ও হিন্দু মুসলিম” ঐক্যের পথে অন্তরায় বলে প্রচার করা হয়েছিল । আর যেহেতু তিনি একজন ‘থিওজফিস্ট’ ছিলেন সেই হেতু একজন খাঁটি হিন্দু ও হিন্দু সমাজের একজন হিতাকাঙ্খী হওয়া সত্বেও তৎকালীন হিন্দু জাগরণের মুলমঞ্চ থেকে তাঁকে দূরে রাখা হয়েছিল ।তবু তিনি অবিস্বরনীয় হয়ে আছেন আলীগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালটা হিসাবে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ।
            গান্ধীর প্রবল প্রতাপের বাইরে যে কজন নির্ভীক হিন্দু হিন্দু সমাজ ও হিন্দু ঐক্যের জন্য চিন্তা ভাবনা করেছেন , আন্দোলন করেছেন , তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম । বীর সাভারকর , ডাঃ হেডগেওয়ার , পন্ডিত মদনমোহান মালব্য , গুরুজি গোলওয়ারকর , শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি , ডাঃ মুঞ্জের সাথে ডাঃ ভগবান দাসের নামও উচ্চারণ করতে হয় ।
           ১৯৩৯ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হিন্দু মহাসভার জাতীয় অধিবেশনে অসুস্হতার কারনে তিনি  উপস্তিত থাকতে না পেরে অভ্যর্থনা সমিতির সম্পাদকের কাছে হিন্দু সমাজের বর্তমান সমস্যা নিয়ে একটি সুদী্র্ঘ পত্র লিখেছিলেন এবং সেটি সভায় পাঠ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন । সেই সময় কোন কোন সংবাদপত্রে সেই চিঠি প্রকাশিত হলেও , অধিবেশন চলাকালীন তাঁর অনুরোধ রাখা সম্ভব হয়নি । সেই পত্রে ডাঃ ভগবান দাস তার গভীর পান্ডিত্য , শাস্ত্রজ্ঞান এবং ভূয়ো দর্শনের সাহায্যে হিন্দু সমাজের বর্তমান সমস্যা অতি নিপুনভাবে বিশ্লেষন করেছিলেন , এবং সমাধানের পথও নির্দেশ করেছিলেন যা বর্তমান সময়ের পক্ষে এখনও উপযোগী বলে আমার মনে হয় ।পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর সেই বিখ্যাত চিঠিটি নিয়ে আলোচনা করব ।