” ফেসবুকে দুই জনের বেদ এবং সৃষ্টি কর্তাকে গালি দেওয়ার প্রতিবাদে আমার উত্তর”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

সৃষ্টি কর্তা এবং বেদের লেখা নিয়ে তোমরা যা লিখছো এবং ভাবছো দুটোই মিথ্যা এবং তোমাদের বুঝবার বাইরে। বেদ নিয়ে তোমাদের থেকেও বহু জ্ঞানী জ্ঞুনীরা জেনেছেন এবং লিখেছেন। তোমরা কেউ তা পড়োনি বা জানোনি। না জেনে না বুঝে কিছু বলা উচিত নয়।

বেদ আমি পড়েছি,এখনো পড়ি, আমার নিজের কাছেই আছে। তোমরা যা জানো তা হলো ওই বেদ বিদ্বেষী দের লেখা,হিন্দু বিদ্বেষী দের লেখা ।তোমরা সেই ফাদে পা দিয়েছ আরো অনেকের মতো।

বলো বেদের কোন সুক্তে ওই কথা গুলো লেখা আছে??? বেদ এক খানি নয়,কোন বেদে এটা লেখা আছে??? তোমরা দুজনেরব কেউ আর্য্য কথাটার এবং অনার্য্য কথাটার মানেও জানো না। আর্য্য কোনো জাতি নয়। আর্য্য বলতে বোঝায় জ্ঞানী সংষ্কৃতি বান লোক। জ্ঞান এবং সংষ্কৃতির অভাব হলে সে অনার্য্য।

আগে পড়া শুনা করো ,নিজের ধর্ম টাকে জানো বোঝো তার পর ওই সব নোংরা কথা গুলো বলো। বেদে সব মানুষ কেই ‘অমৃতের পুত্র’ বলা হয়েছে। কাউকে ছোট বা বড়ো করা হয় নি। বেদ বোঝা অতো সহজ নয়,না বুঝে পড়লে বিকৃত অর্থ করা হয় আর সেই জন্য অশিক্ষিতের বেদ পাঠ নিষিদ্ধ ছিলো।

কৌলিন্য প্রথা চালু হয় ১১০৬ সালে বাংলার রাজা বল্লাল সেন চালু করেন রাজনৈতিক কারনে–বেদ তার অনেক আগে লেখা। পতিত ব্রাহ্মন শ্রেনী যে প্রথা তৈরী করেছিলো তাদের নিজেদের সুবিধার জন্য এবং পরবর্তী কালে বিদেশী শাসকদের হাত থেকে নিজেদের মেয়েদেরকে বাচানোর জন্য অল্প বয়ষে বিয়ে দিতো হিন্দুরা।

বিধবারা সহমরনে যেতেন। সেই প্রথা শুরু হয়েছে ৭১২ সালে যখন মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু দেশ জয় করে মেয়েদের ধরে নিয়ে যায় বাগদাদে আর তুরষ্কে। একদিনে রাজা দাহিরের দুর্গের ৬০০০ মহিলা আগুনে ঝাপ দিয়েছিলো দাহিরের স্ত্রী রানী বাইয়ের কথায়। তা সত্বেও তিনি তার দুই মেয়েকে বাচাতে পারেন নি । তাদের ধরে নিয়ে উপহার দেওয়া হয়েছিলো হেজাজের কাছে। আরো প্রমান জানতে হলে সিরাজদৌলার ব্যাক্তিগত জীবন সম্বন্ধে পড়াশুনা করো।

কিছু হিন্দু বিদ্বেষী হিন্দু পন্ডিতদের লেখা পড়ে কোনো ধারনা করো না।

তোমাদের মতো কিছু অল্প জ্ঞানী রা বলো শ্রীকৃষ্ণ ১৬০০ গোপীনী নিয়ে লীলা করেছেন বৃন্দাবনে। তোমরা কি জানো শ্রী কৃষ্ণ যখন মথুরাতে চলে আসেন তখন তার বয়ষ কতো ছিলো??? মাত্র ১২ বছর বয়ষ। তা বারো বছর বয়ষে ছেলেদের পিঊবার্টি হয় না তা জানোতো??? তাহলে লীলা হলো কি করে??? ওই গুলো কিছু অর্বাচীন অজ্ঞানীদের লেখা যা তোমরা পড়ো কারন তোমরা ওটাই পড়তে চাও, ভালো লাগে। বর্তমান আসামের রাজা বাসুদেব ১৬০০ মেয়েকে ভোগ করার পর আটকে রেখেছিলো তার প্রাসাদে দাসী করে। শ্রী কৃষ্ণ সেই ১৬০০ মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে যান দ্বারকায় আর সম্মানের সংগে রাখেন। তাই নিয়ে তোমাদের মতো অর্ধ শিক্ষিত রা কতো কি বলো তার ঠিক নেই।

আর সৃষ্টি কর্তাকে নিয়ে বেশী মাথা ঘামিয়ো না, মাথা খারাপ হয়ে যাবে। হিন্দুরা যে সৃষ্টি কর্তাকে স্মরন করে ‘ব্রহ্ম গায়ত্রী জপ করে’ তার গ্রন্থনা কে করেছেন জানো, না তাই না??? তিনি হচ্ছেন বিশ্বামিত্র মুনি যিনি শুদ্রের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন কিন্তু তিনি সেই রকম জ্ঞানী ছিলেন যে তার লেখা মন্ত্রই সব বেদজ্ঞ রা মেনে নিয়েছিলেন শ্রেষ্ট মন্ত্র হিসাবে। সেই মন্ত্র টা জানো কি??? বোধ হয় না।

হিন্দু বিদ্বেষী যদি হতে চাও তবে ধর্ম পরিবর্তন করো না হলে চুপ থাকো। অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী কথাটা মনে রেখো। আমার পোষ্টে এসে অযৌক্তিক কথা লিখবে না। তাহলে যে লিখবে তাদের এবং তোমাদের আমি ব্লক করে দেবো। দুষ্ট গরুর থেকেও শুন্য গোয়াল অনেক ভালো।