উপমহাদেশে ইসলামের বিস্তার : ক্রীতদাসপ্রথা ও ধর্মান্তর
——————————————————————-
এই উপমহাদেশে ইসলাম বিস্তার লাভের এক প্রধান কারণ হলো ধর্মান্তকরণ এবং শত চেষ্টাতেও তা অস্বীকার করার উপায় নেই! এর অঙ্গ হিসেবে ক্রীতদাস নারীকে ব্যবহার করে অতি কৌশলে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছিল ইসলাম | বিস্তারিত দেখা যাক এই প্রক্রিয়ার সম্মন্ধে:

মুহাম্মদ বিন কাসিমের তিন বছর ধরে ভারত আক্রমণ ও শাসনেই সময় শুধুমাত্র ক্রীতদাস হিসেবেই কয়েক লাখ হিন্দু ইসলামে ধর্মান্তরিত হয় , বন্দী নারীরা মুসলিম সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় ও মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায় । শুরু কছিল নবী আর পরবর্তীতে মুসলিমরা সর্বত্র এটা প্রয়োগ করেছে। ভারতে সম্রাট আকবর ১৫৬৪ সালে এ প্রথা সাময়িক নিষিদ্ধ করলেও তা আমলে আসেনি! সুলতান মাহমুদ তার ভারতে আক্রমণে ব্যাপকহারে হিন্দু নিধন করেছিল আর অগণিত নারী ও শিশুকে দাস বানিয়েছিল । আল উত্‌বি লিখেছে: ‘সুলতান মাহমুদ তার ১০০১-১০০২ সালের ভারত অভিযানে ৫০০,০০০ বন্দীকে গজ্‌নিতে নিয়ে যান; পাঞ্জাবের নিন্দুনা আক্রমণে তিনি বিপুল সংখ্যক ক্রীতদাস আটক করেন; হরিয়ানার থানেশ্বরে মাহমুদ ২০০,০০০ লোককে ক্রীতদাস বানান এবং ১০১৯ সালে ৫৩,০০০ ক্রীতদাসকে নিয়ে ফিরে যান।'(রেফ: Lal (1994), p. 20)।

মুসলিম ইতিহাসবিদদের তথ্যের ভিত্তিতে অধ্যাপক কে. এস. লাল লিখেছেন: সুলতান মাহমুদের পুনঃপুনঃ আক্রমণের ফলে প্রায় ২০ লাখ হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাস পায়।(Lal KS (1973) Growth of Muslim Population in Medieval India, Aditya Prakashan, New Delhi, p. 211-17) । আক্রমনের সময় অনেককে হত্যা করা হয়েছিল এবং বাকি বিপুল সংখ্যককে তরবারীর মুখে ক্রীতদাসরূপে মুসলিম বানানো হয়েছিল ।

এখানেই শেষ নয়! সুলতান মোহাম্মদ ঘোরী ও তার সেনাপতি কুতুবুদ্দিন আইবক ভারতে মুসলিম শক্তি সুসংহত করতে ১২০৬ সালে দিল্লীর সুলতানাত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতে প্রত্যক্ষ মুসলিম শাসন শুরু করেছিল । মোহাম্মদ ফেরিশতার তথ্যমতে: ‘মুইজুদ্দিন কর্তৃক দুই থেকে তিন লাখ ‘খোখার’ (হিন্দু) ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিল।’ ফখর-ই-মুদাবী্বর বলেছেন: ‘এমনকি গরিব (মুসলিম) বস্তিয়ালাও অসংখ্য ক্রীতদাসের মালিক বনে যায়।’(Lal (1994), p. 43-44) । আকবরের শাসনকাল (১৫৫৬-১৬০৫) আগে পর্যন্ত যুদ্ধে বন্দীদের ক্রীতদাসকরণ মুসলিম-শাসিত ভারতবর্ষের একটা সাধারণ নীতি ছিল মাত্র! যুদ্ধক্ষেত্রে গণহারে ক্রীতদাস বানানোর প্রক্রিয়া আকবর নিষিদ্ধ করেছিল । নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তার আমলেই যুগ-যুগ ধরে চলে আসা এ ঐতিহ্য বহাল ছিলো । তার উপদেষ্টা আবুল ফজল ‘আকবর নামা’য় লিখেছেন: ‘অনেক খারাপ মনের অবাধ্য অফিসার লুণ্ঠন করতে গ্রামে ও মহলে অগ্রসর হয়’। এসব লুঠগুলোতে সাধারণত নারী ও শিশুদের উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। মোরল্যান্ড লিখেছেন: ‘আকবরের রাজত্বকালেও স্পষ্ট কোনো যুক্তি ছাড়াই একটা বা অনেকগুলো গ্রাম একজোটে হানা দেওয়া ও (হিন্দু) বাসিন্দাদেরকে দাসরূপে নিয়ে যাওয়া একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।’
আকবরের এক সেনানায়ক আব্দুল্লাহ খান উজ্‌বেকের উক্তি:
“আমি পাঁচ লাখ (৫০০,০০০) নারী ও পুরুষকে বন্দী করে বিক্রি করেছি। তারা সবাই মোহাম্মদী হয়েছে। ‘বিচারের দিন’ তাদের বংশধররা এক কোটিতে পরিণত হবে।”(Moreland WH (1995) India at the Death of Akbar, Low Price Publication, New Delhi, p. 92/ Lal (1994), p. 73) ।

আকবরের পর জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের শাসন আমলে ইসলামীকরণ আবার পুনরুজ্জীবিত হতে থাকে। ‘শাহ ফাত-ই-কাংগ্রা’ জাহাঙ্গীর সম্বন্ধে লিখেছে: ‘তিনি তার সমস্ত প্রচেষ্টা মোহাম্মদী ধর্ম প্রচারে উৎসর্গ করেন এবং তার সমস্ত প্রয়াস সর্বদা পৌত্তলিকতার অগ্নি নির্বাপিত করার জন্য পরিচালিত হয়।’(Elliot & Dawson, Vol. VI, p. 528-29) । ‘ইনি-খাব-ই-জাহাঙ্গীর শাহী’ বই থেকে জানা যায় যে, গুজরাটের জৈনরা যখন সুন্দর মন্দির নির্মাণ করতো , যা বিপুল সংখ্যক ভক্তের দৃষ্টি কাড়তো , সম্রাট জাহাঙ্গীর জৈনদের দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে ও তাদের মন্দির মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিল । মূর্তিগুলোকে মসজিদের সিঁড়ির সবচেয়ে উপরের ধাপে রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছিল, যাতে করে মুসলিম নামাজীরা মসজিদে ঢোকার মুখে সেগুলোকে পায়ে পিষে ফেলতে পারে!।(Ibid, p. 451)।

শাহজাহান তার পিতা জাহাঙ্গীরের চেয়েও অনেক বেশি গোঁড়া ছিল। এই প্রক্রিয়া সে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছিল……………..

#Rajarshi_Banerjee