(ইসলামের আগে আরব ছিলো অন্ধকার যুগে এটা দুনিয়ার সব চাইতে বড় মিথ্যা, সব মেয়েদের যদি মাটিতে পুঁতে রাখতো খাদিজা, এবং সাহাবীদের এতো বউ, দাসী বান্দি অথবা যৌন সঙ্গী কোথা থেকে রফতানি করতো? ভাবেন ভাবা প্র্যাক্টিস করেন)
সৌদি আরবের রিয়াদে টপস জিন্স প্যান্ট পরা নারীকে বলা হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’। এটা ২০১৯ সাল যখন পৃথিবীর সব দেশেই নারীদের ভোটাধিকার আছে। নারীদের অভিভাবক, ব্যবসা চাকরি সেনাবাহিনী পুলিশ মন্ত্রী সরকার প্রধান হওয়াটা কোন বিস্ময় নয়। সেই যুগে সৌদি আরবে একটি মেয়ে টপস জিন্স পরে বোরখা ছাড়া শপিং মলে ঘুরে বেরিয়ে চরম ‘বিদ্রোহের’ পরিচয় দিয়েছে!

পৃথিবীতে সবচেয়ে পুরোনো ধর্মীয় শাসন চলছে সৌদি আরবে। সৌদি আরবে নারীরা কেন অভিভাবক হিসেবে গোণ্য হয় না, তাদের ব্যবসা চাকরি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব নিষিদ্ধ ছিলো, কেন তারা পুরুষ অভিভাবক ছাড়া বাইরে বের হতে পারত না প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে- সেরকম প্রশ্ন কেউ করে না। করে না কারণ তাহলে ভাসুর ঠাকুরের নামটা মুখে নিতে হয়। একশ্রেণীর বদমাশ এটাকে সৌদিদের সংস্কৃতি বলে দাবী করে। একদম বাজে কথা। সৌদিদের সংস্কৃতি ছিলো কবিগান সংগীত মদ…। তাদের সমাজে নারীরা পুরুষের সমান অধিকার ভোগ করত। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ কুরাইশ সমাজে প্রভাবশালী মহিলা ছিলেন। তার মেজাজকে অনেক পুরুষ ভয় পেতো। হিন্দ আবু সুফিয়ানকে তালাক দিয়ে পৃথক বসবাস করেছিলেন একসময়। ইসলামের জনক হযরত মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজা ব্যবসা করতেন এবং তিনি নিজে পছন্দ করে তার কর্মচারী মুহাম্মদকে বিয়ে করেছিলেন। খাদিজা প্রকাশ্যেই চলাফেলা করতেন। হেরা গুহায় মুহাম্মদের কাছে খাবার নিয়ে যাবার সময় খাদিজা বোরখা পরতেন এমন কোন প্রমাণ কোন ঈমানদার দেখাতে পারবে না। খাদিজার কাজিন নওফেলের কাছে খাদিজা পর্দার আড়ালেও কথা বলেননি। এসব পর্দার আয়াত খাদিজা মারা যাবার বহু পরে মদিনাতে নাযিল হতে থাকে। ইসলামের পূর্বে নারীদের স্বাধীন চলাফেলার ইঙ্গিত মেলে কুরআনের আয়াতে। সুরা আহযাবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে “তোমরা জাহেলী যুগের নারীদের মত নিজের দেহ ও সৌন্দর্য্য প্রদর্শন করোনা” (সূরাঃ আহযাব ৩৩)। মানে তখন নারী নিজেকে বস্তায় ভরে চলাফেরা করত না এটাই কুরআন থেকে জানা যাচ্ছে। কুরআন নারীদের মাহরাম (বাবা ভাই ছেলে) ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেছে। প্রয়োজনে অচেনা পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে হলে পর্দার আড়ালে কর্কশ কন্ঠে কথা বলার আদেশ দিয়েছে।… পৃথিবীতে সংস্কৃতি একজন নবীর মাধ্যমে আকাশের তথাকথিত ওহির মাধ্যমে আসে না। সংস্কৃতি বহমান নদীর মত। আবহমানকাল ধরে এটা স্থীর থাকে না। সৌদি নারীদের সেটাই করা হয়েছে। তাদের জীবন্ত লাশের পরিণত করা হয়েছে। সৌদিরা এখন আর খেজুরের ছাতু পানি দিয়ে গুলে খায় না। সৌদি প্রিন্সরাও এখন সুটবুট পরে চলে। কেবলমাত্র নারীদের ইসলামিক আইনে বেধে রেখেছে।

ইসলাম কেমন সেটা বুঝতে আফগানিস্থানে তালেবান শাসনের পূর্বে আফগান নারীদের ছবিগুলো দেখতে হবে। কেউ কি কল্পনা করতে পারবে আফগান নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে পশ্চিমা ঢংয়ে পোশাক পরে? ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনির শাসনের পূর্বে স্বাধীন ইরানী নারীদের ছবিগুলো টাইমসের পুরোনো সংখ্যাগুলোতে আজো ইতিহাস হয়ে রয়েছে। আফগান বিমানবালাদের ছবিগুলো মার্কিন পত্রিকার পাতায় ইতিহাস হয়ে আছে। ইসলাম কেমন সেটা তাই বর্তমান আফগান ইরান সৌদি আরবের দিকে তাকালেই তো বুঝা যায়।…
Susupto Pathok