জার্মানিতে মুসলমানরা ‘শরীয়া পুলিশ’ গঠন করেছে। ছবিতে দেখুন শরীয়া পুলিশের সদস্যদের মুখ। তারা নিজেদের জন্য ইউনিফর্ম তৈরি করে নিয়েছে। মজা হচ্ছে জার্মানিতে ২০১৬ সালে এই ‘শরীয়া পুলিশদের’ নিয়ে আদালতে অভিযোগ উঠলে আদালত এইসব ‘পুলিশ অফিসারদের’ বেকসুর খালাস দিয়েছিলো। আদালত রায়ে বলেছে এরা জার্মানির কোন আইন ভাঙ্গেনি। গায়ে ‘পুলিশ’ লিখে লোকজনকে সংগীত ও মদ ছাড়তে এরা পথে পথে পশ্চিমাদের গায়ে পড়ে উপদেশ বিলায়। ইরান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে শরীয়া পুলিশ ইসলামিক আইন প্রয়োগ করে থাকে অত্যন্ত কঠরভাবে। কিছুদিন আগেই মালয়েশিয়ার শরীয়া পুলিশ রোজার সময় মেয়েদের পোশাক যথেষ্ঠ পর্দা ছিলো না বলে মেয়েদের ধরে ধরে ধাপ্পার মেরেছিলো। রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে দিনের বেলা খাওয়ার অভিযোগ লোকজনকে গ্রেফতার করেছিলো। ইন্দোনেশিয়াতে ছেলে মেয়ে নিরালায় দেখা করতে যাওয়াতে তাদের একশ করে বেত মারে শরীয়া পুলিশ। সেই শরীয়া পুলিশ গঠন করা হয়েছে জার্মানিতে। মানে ইচ্ছাটা ষোল আনাই আছে। কিন্তু এখন শক্তি কম বলে কেবল ‘দাওয়াত’ দিচ্ছে গান শোনো না। মদ খেয়ো না। মাথা খোলা রেখো না। সিনেমা দেখো না। যেদিন শক্তি এসে যাবে, সংখ্যায় বেশি হবে সেদিন সত্যিকারের শরীয়া পুলিশ গঠন করবে। সত্যিকারের শরীয়া আইন হাতে নিয়ে শরীয়া পুলিশ জার্মানিতে ঘুরে বেড়াবে। পশ্চিমা সাদা চামড়ার অমুসলিমদের ধরে বেত মারবে। সেদিন জার্মানির এইসব লিবারাল আদালতে রায় দেয়ার মত কোন সাহস অবশিষ্ঠ থাকবে না। এ্যাঙ্গেলা মার্কেলদের মত ইসলাম তোষণকারী লিবারালরা জার্মানি তথা ইউরোপকে সেই ঝুঁকিতে এনে ফেলেছে যেমনটা ইংলেন্ডে ঘটে চলেছে।

ইংলেন্ডে এক মুসলিম অভিবাসী নারী তার সন্তানের গলার টনসিলের সমস্যা নিয়ে একজন নামকরা ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলো। ডাক্তার মহিলার কথা স্পষ্ট করে শুনতে পাচ্ছিলেন না বিধায় খুবই বিনয়ের সঙ্গে তার নেকাব খুলে কথা বলতে অনুরোধ করেছিলেন। ব্যস, এতেই রেসিজমের আলামত পেয়ে গেছে ব্রিটিশ লিবারালরা। মহিলার স্বামী ডাক্তার কিথ ওলভারসনের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ’ করেছে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের কাছে। এই ঘটনায় ডাক্তর কিথ এতখানিই শকড যে তিনি ডাক্তারী ছেড়ে দিবেন বলে জানিয়েছেন।

কতখানি ইতর হলে অন্যের দেশে গিয়ে তাদের সংস্কৃতির উপর নিজেদের অসভ্য ধর্মীয় বিধিবিধানকে চাপানোর চেষ্টা করে! ফেইসবুকের বিভিন্ন পলিসি’র দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ইসলামপন্থিরা নাস্তিক সেক্যুলারদের আইডি ডিজেবল করে দেয়, একদম একই কৌশলে পশ্চিমের লিবারাল সেক্যুলার আইনগুলোর ফাঁকগুলোকে কাজে লাগিয়ে ইসলামিক চেতনা প্রতিষ্ঠার কাজে লাগানো হয়। একজন ডাক্তার নেকাব মুখে থাকায় যদি কথা শুনতে অসুবিধার সম্মুখিন হোন তবু তিনি এটা বলতে পারবেন না কারণ হিজাব-নেকাব হচ্ছে মুসলিম নারীদের অধিকার! ইরানে একজন পশ্চিমা নারী সফর করলেও তার মাথা ঢেকে রাখতে বাধ্য করা হয়। সেখানে কোন নারী মাথা খোলা রাখলে তাকে জেলে ভরা হয়। ইরানে অমুসলিম রাষ্ট্র প্রধান সফর করলেও তাকে হিজাব পরে রাষ্ট্রীয় কাজ সারতে হয়। সেখানে পশ্চিমে একজন ডাক্তার রোগীর কথা ভালোভাবে জানতে মুখ থেকে নেকাব সরাতে বলায় তিনি ‘জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগে’ অভিযুক্ত হয়েছেন! ডাক্তার কিথ বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি আমার প্রতি বড় ধরনের অবিচার। যদি আমরা রোগীদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ পেতে থাকি, তবে এই দেশে কোনও চিকিৎসক থাকবে না। আমি গভীরভাবে হতাশ।’

ইউরোপে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে কেমন চেহারা নিবে এই ঘটনা যেন ভবিষ্যতের দর্পন। সব ধর্ম সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় আইন ও বাধ্যবাধকতাকে কাটিয়ে আসতে পারলেও মুসলিমরা এখনো ১৪০০ বছরের বর্বর থেকে গেছে। এরা ইউরোপের উদার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজমের জন্য তাই হুমকি স্বরূপ। এরা সুযোগের অপেক্ষায় আছে ইউরোপে প্রথম কোন ইসলামিক রিপাবলিক করার। এরকম কিছু করতে পারা বা করার কোন বাস্তবতায় আছে কিনা সেই বিতর্কের চাইতে বড় কথা এরকম মানসিকতা নিয়েই মুসলিমরা সংঘবদ্ধ। যে মহিলার স্বামী একজন ডাক্তারের বিরুদ্ধে সেক্যুলার মানবাধিকার আইনকে কাজে লাগিয়ে ‘জাতিগত বৈষ্যমের অভিযোগ’ এনেছে সে ‘মুসলিম উম্মাহ’ হয়ে একটা ভূমিকা রেখেছে। পশ্চিমের লিবারাল মানবিক সমাজে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতারকে’ কাজে লাগিয়ে ইসলামের অনুশাসনকে কৌশলে প্রবেশ করানো হয়। ইরানে, সৌদি আরবে যে ইসলামিক বিধির বিরুদ্ধে নারীরা লড়ছে, সেটাকেই পশ্চিমে ‘জাতিগত সংস্কৃতি’ দেখিয়ে প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। আমেরিকার নাজমা বেগমের ‘হিজাব দিবস’ সেই বৃহৎ উম্মাহ হয়ে একটি অবদান মাত্র। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে জার্মানির আদালত ‘শরীয়া পুলিশে’ কোন আইন লঙ্ঘন দেখতে পায়নি! ইউনিফর্মের গায়ে ‘শরীয়া পুলিশ’ লিখে পথেঘাটে মানুষজনকে গান-মদ পরিত্যাগ করতে উপদেশ দেয়াটা জার্মানিতে কোন অপরাধ নয়। পশ্চিমারা সন্তান জন্মদানে অনাগ্রহী। অপরদিকে মুসলমানরা দেশ দখলেরে জন্য একেকজনকে চারটি করে বিয়ে আর চল্লিশজন করে সন্তান নিতে বলছে। এরা সংখ্যা দিয়ে ইউরোপ ভরে ফেলবে! তখন এরকম ‘শরীয়া পুলিশ’ বেসরকারীভাবে আইন হাতে তুলে নিবে। সংঘবদ্ধ হয়ে এরা নারীদের নাজেহাল করবে। মদের বারে হামলা চালাবে। গানের কনসার্টে বাধার সৃষ্টি করবে। কারণ এরা মনে করে, কুরআনে আল্লাহ যে নির্দেশ দিয়েছে সেটাই সর্বশ্রেষ্ঠ। যেহেতু এটাই শেষকথা তাই গায়ের জোরে এটাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এরকম বর্বরদের ঠেকানোর কৌশল জার্মানির হাতে নেই। চীন-শ্রীলংকা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাচ্ছে কিভাবে ইসলামকে দমন করতে হয়। ন্যাৎসিবাদ পৃথিবীতে নিষিদ্ধ হতে পারলে ইসলাম কেন নয়?