গণিতে হিন্দুদের অবদান অনেক। আজ দুটি বিষয়ে ফোকাস করবো। 
1. Quadratic equation(দ্বিঘাত সমীকরণ)এর প্রথম সুত্র আবিস্কার করেন শ্রীধর !
2. হিন্দুরাই প্রথম শূন্য( ০)ব্যবহার করেন !
ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে আমরা বীজগণিত এর জনক হিসেবে পড়েছি আল-খোয়ারজিমির কথা।কিন্তু হয়তোবা উদ্দেশ্যমূলকভাবেই রাষ্ট্র আমাদের পড়ায়নি শ্রীধরাচার্যের কথা।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন ১৪ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে,এদেশের মেরুদণ্ডকে ভেঙ্গে দেবার জন্য সব বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল ঠিক তেমনি এইউপমহাদেশের সব শিক্ষা,বিজ্ঞান,ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেয়ার জন্য বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা মহাপীঠ ধ্বংস করে দেয় ইখতিয়ার খলজি,যে নরাধম কিনা আমাদের বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে আজ রাষ্ট্র কর্তৃক বীর হিসেবে স্বীকৃত।

আর এহেন শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রীধরাচার্যের নাম প্রকাশ হবেনা এটাই স্বাভাবিক।
কে ছিলেন এই শ্রীধরাচার্য ?

৭৫০ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ভূরিশ্রেষ্ঠী(বর্তমানে হুগলী জেলা) তে জন্মগ্রহন করেন এই মহান গণিতবিদ,সংস্কৃত পণ্ডিত ও দার্শনিক।তিনি পৃথিবীর প্রথম বিজ্ঞানী যিনি গণিতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিস্কারটি করেছিলেন আর তা হল “শুন্য(০)” এর আবিস্কার।তিনি প্রথম আবিস্কার করেছিলেন-

১) কোন সংখ্যা হতে শুন্য বিয়োগ করলে অথবা কোন সংখ্যার সাথে শুন্য যোগ করলে ফলাফল ওই সংখ্যাটি ই হয়।
২) কোন সংখ্যাকে শুন্য দিয়ে গুন করলে ফলাফল শুন্য হয়।

তাঁর আরেকটি অনবদ্য অবদান হল তিনি প্রথম বীজগনিত ও পাটীগণিতকে আলাদা করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “ত্রিশতিকা”(তিনশ শ্লোকবিশিষ্ট) বা “পাটীগণিতশর” রচনা করেন।

তিনি পৃথিবীর প্রথম গণিতজ্ঞ যিনি Quadratic equation(দ্বিঘাত সমীকরণ) সমাধান করার জন্য প্রথম সুত্র আবিস্কার করেন যা আমরা এখন স্কুল-কলেজে করে থাকি অথচ আমরা জানি ই না কে এটি আবিস্কার করেছেন !
সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড  বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে শূন্য বা জিরো এর প্রথম ব্যবহার হয়েছে আগের ভাবনার চেয়ে অন্তত ৫০০ বছর আগে। তাদের লাইব্রেরিতে একটি সনাতনী নথি সংরক্ষিত আছে যেখানে শূণ্যের ব্যবহার আছে। এই নথিটি বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ারের বাকশাল গ্রাম থেকে অনেক আগে (1902সালে ) সংরক্ষণ করা হয়েছিলো। (দেখুন: ডন পত্রিকা, September 16, 2017)