“গীতা সার”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

সমস্ত গীতা গ্রন্থ পাঠ করলে কেউ এটা কোনো মতেই ধারনা করতে পারবেন না যে এখানে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে। “হিন্দু” শব্দটা এই গ্রন্থের সাতশো শ্লোকের কোথাও নেই।

এই গ্রন্থ যখন সম্পাদিত হয়েছিলো তখন সারা পৃথিবীতে একটি মাত্র ধর্ম ছিলো, সেই ধর্ম ‘মানুষের ধর্ম”, যাদের বলা হয় ‘সনাতনি’। মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের সৃষ্টি শুরু হয় ভৌগলিক এবং অর্থনৈতিক কারনে, কিছু মানুষের অন্তরস্থ আদিম প্রবৃত্তি পুরনে, অন্যের ওপরে অত্যাচার করতে পারার এক অমানবিক প্রবৃত্তি এবং দখলদারি মনোভাবের কারনে।

“নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখো বিদ্বেষ (মিলন) মহান”।

গীতার সর্বত্র মানুষের কথা বলা হয়েছে, এই বিশ্বের কথা বলা হয়েছো, সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, ধর্ম এবং অধর্মের কথা বলা হয়েছে। কিসে, কোন ভাবনায়, কোন চিন্তায়, কোন জীবনাদর্শে মানুষের সার্বিক কল্যান হবে সেই কথা বলা হয়েছে। মানব কল্যানের সর্বস্তরের কথা (জগদ্ধিতায়) এর প্রতিটি অধ্যায়ে,প্রতিটি শ্লোকে তুলে ধরা হয়েছে।

গীতার বক্তা কোনো সম্প্রদায় বা দল তৈরী করেন নি। বিনা কারনে ,শুধু মাত্র দেশ দখল করা বা নিজ মত অন্যের ওপরে চাপিয়ে দেবার জন্য যুদ্ধ করতে বলেন নি। এমনকি ঈশ্বর কে না মানলে বা ঈশ্বর বিরোধিকে যেন তেন প্রকারেন নিপাত করার কথাও বলেননি। যা বলেছেন তা হলো, যে বা যারা, সাধারন মানুষের অকল্যান করছে, ক্ষমতার দম্ভে অপরের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে, মাতৃজাতির অসম্মান করছে, অক্ষমের ওপর নিজের ক্ষমতা জাহির করে শোষন করছে, জোর করে অপরের সম্পদ অধিকার করে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো।

সেই সংগ্রাম অবশ্য করনীয়। না করাটাই অন্যায়,পাপ।
*********************