একটা কথা তপনদার মতো কিছু হিন্দু নেতৃত্বরা ঠিকই বলে থাকেন- ‘হিন্দুরা সরাসরি লড়াইয়ে হারে না বা বলা যায় খুব কম হারে| তাহলে হারে কখন? লড়াইয়ের আগে অথবা লড়াইয়ের পরে গোলটেবিলে’|

মাথাভাঙ্গায় ঝামেলার কথা অনেকে শুনেছেন হয়তো| কালী মন্দিরে গরুর মাংস ছোড়া বা কালীর মাথা ভেঙে নেওয়া ইত্যাদি হয়েছে, হিন্দুদের উপর আক্রমণও হয়েছে| তবে একতরফা লড়াই হয়নি এটা জানুন| প্রতিক্রিয়ায় অবরোধ, ক্যালানি সবই হয়েছে| মন্দিরের সাথে যা করা হয়েছে তার রিয়্যাকশন মসজিদেও হয়েছে|
লড়াই শেষ| এবার? ১৪৪,পুলিশ,অ্যারেস্ট ইত্যাদির পালা| হিন্দুরা হারে এই জায়গায়| এরপর ক্রমাগত প্রশাসনিক হ্যারাসমেন্ট ও মানসিক চাপের ফলে এই লড়াকুদের অনেকে একসময় লড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করবে|
এই সমস্যার কারণ – হিন্দুরা হয় পুরোপুরি অরাজনৈতিক হয় অথবা রাজনৈতিক হলে দলদাস হয়| আমাদের কাজ হিন্দু শক্তিকে রাজনৈতিক এবং দলনিরপেক্ষ করা – অর্থাৎ যেটা সচরাচর চলে আসছে তার বিপরীতমুখী মতবাদ; বা বলা চলে সোজা মুসলমানদের নীতি অবলম্বন|
শেষ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো একটা পুরো পাড়া কাঁপিয়ে দিতে ১০-১৫ জন হিন্দুই যথেষ্ট| এটা নিজের চোখে দেখেছি| মাথাভাঙ্গায় আমার আত্মীয় আছে, তাদের কাছে বিবরণ শুনেছি| কিন্তু এই লড়াকু ছেলেদের যে দুটো জিনিসের প্রয়োজন তা হলো সাপোর্ট-  লড়াই করার বা লড়ার পরে ,সবরকম সাপোর্ট|
আমি হিন্দু সংহতির সমর্থন,প্রচার এমনি এমনি করিনা| একমাত্র হিন্দু সংহতিই উপরে উল্লেখিত সমস্ত পয়েন্টগুলোর উপর জোর দিয়ে চলে|

তার জন্য কেউ আমাকে তৃণমূলের দালাল বললেও আপত্তি নেই| মতবাদ,থিয়োরীর থেকে বাস্তব আমার কাছে অনেক বেশি গ্রহণীয়| বাস্তবিক ইমপ্লিমেন্টেশন না হলে কোনো মতবাদ টিকে না|
যে হিন্দুত্ববাদীরা মনে করেন রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরী তারা সেই মতো কাজ করুন গে, সমস্যা নেই| আমাদের লাইন একটু আলাদা| আমরা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনে সবকিছু সম্ভব বলে মন করিনা| আপনারা কেউ মনে করলে সেই মতো কাজ করে দেখুন কদ্দুর কি হয়|

Rudrāngshō Rāy-র কলমে।