“‘মনের ধর্ম এবং সনাতনি প্রজ্ঞা”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

সনাতনি শাস্ত্রে (সাংখ্য দর্শন মতে) ‘পুরুষ’ বলতে বোঝায় বিশ্ব শক্তি। এই পুরুষ কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।।

‘ক্ষর পুরুষ’ হচ্ছে ‘প্রকৃতি’র পদার্থ এবং তার ‘গুন’ , আর ‘অক্ষর পুরুষ’ হচ্ছেন ‘ বিশ্ব চৈতন্য’- Universal consciousness (এর বাস্তবতা Quantum Physics মেনে নিয়েছে)।

প্রানী কর্ম করে এবং তার ফল ভোগ করে প্রকৃতি থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন গুনাবলীর প্রভাবে। অর্থ্যাত, কর্ম করান ‘ক্ষর পুরুষ’।

‘অক্ষর পুরুষ’ (আত্মা) নির্গুন তাই কোনো কর্ম করেন না, শুধু কর্মীর চালিকা শক্তি হিসাবে আছেন। মানুষ যা কিছু করে তার সব টুকুই তার ‘প্রকৃতি দত্ত” গুন থেকেই করে।

এই ‘প্রকৃতি’ ভেদে মানুষ  নানা প্রকার। প্রতিটি মানুষের শারীরিক গঠন এবং তার অভ্যন্তরীন ক্রিয়া এক রকম নয় সেটা শরীর বিদ্যা ই আমাদের বলে। প্রমান, সব মানুষের রোগ একই রকম হয় না। মানুষের দেহ নানা পদার্থের মিশ্রন আর সেই মিশ্রন মানুষ ভেদে নানা রকম। সেই জন্যই প্রতিটি মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ভিন্ন এবং ‘জিন’ এর অভ্যন্তরস্ত RNA এবং DNA’র মধ্য কার Amino acid এর সংযোজন ভিন্ন প্রকারের। সেই জন্যই এক এক জন মানুষের চিন্তা ভাবনা , কর্ম করার প্রবনতা ইত্যাদি গুনাবলী, যা দিয়ে মানুষে মানুষে প্রভেদ বোঝা যায়। জমজ যারা তাদের শারীরীক সাদৃশ্য প্রায় এক হলেও তাদের মানসিক প্রকৃতি এক হয় না।

আমাদের দেহ,মন ,বুদ্ধি, অহংকার (আমিত্ব ভাব) প্রকৃতি থেকে আসে। মাংসাশী প্রানী (বাঘ, ভাল্লুক, সিংহ ইত্যাদি) হিংস্র হয়, তৃন ভোজি প্রানী (গরু ঘোড়া, হাতি) শান্ত হয়, কর্মী হয়। যে যা খায় তার প্রকৃতি সেই রকম হবেই। গরুর মাংস সস্তা , মাংস খেলে প্রোটিন পাওয়া যায়। ডাল সোয়াবিনে তার চেয়েও বেশী প্রোটিন এবং ক্যালোরি থাকে। যারা বেশী মাংস খায় তারা হংস হবেই, কারন খাবার থেকেই অনেক কিছু আসে যা আমাদের মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করে।

****** (ভাগাড়ের পচা মাংস খেলে মানুষ বিকৃত মস্তিষ্ক হবেই। হায়েনা পাচা মাংস খায় । পচা মাংস যারা খেয়েছেন, —- দেখা যাচ্ছে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে অসংখ্য মাংসাশী মানুষ এই কাজ করেছেন– সেই জন্য কলকাতা এবং তার আশ পাশ অঞ্চল বিকৃত চিন্তা ধারার মানুষে ছেয়ে গেছে)**********

এই দেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ই সব কাজ করায়। ইন্দ্রিয়কে উত্তেজিত করে কাম, ক্রোধ, লোভ, মৎ, মাৎসর্য্য রুপী ৬ টি রিপু (আদিম প্রবৃত্তি –Instincts–যা প্রকৃতি থেকেই আসে)। ইন্দ্রিয় মনকে বশীভুত কোরে মানুষকে তার বুদ্ধি (চৈতন্য থেকে আসে) থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিপথে চালিত করে। আদি শক্তি চৈতন্য থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ প্রবৃত্তির তাড়নায়, ইন্দ্রিয় যা বলে তাই করে। সেই বিকৃত চিন্তা এবং বিকৃত কর্ম যজ্ঞ সব জায়গায় চলছে।

এই ব্যাপারটাকে তুলনা করুন ঘোড়ায় টানা রথের সংগে। রথে ৬ টি ঘোড়া আছে (৬ টি রিপু), তাদের সংযত রাখার জন্য বল্গা আছে সারথির হাতে। পিছনে বসে আছন এক মালিক। সেই মালিক জ্ঞানী,চৈতন্য শক্তির অধিকারী। ৬ টি দুরন্ত ঘোড়া ছয় দিকে যাবার চেষ্টা করবে। হাতে বল্গা ধারী সারথি তাদের সংযত রাখবে, মালিক বলবেন রথ কোন দিকে যাবে। এটাই নিয়ম।

যদি এই নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটে তাহলে কি হবে??? ৬ টি ঘোড়ার প্রভাবে সারথী যদি বিভ্রান্ত হয় তখন সে আর বল্গা হাতে থাকলেও কিছু করতে পারবে না। তার চিন্তা ভাবনা তখন ওই দুরন্ত ঘোড়া দিয়েই চালিত হবে। জ্ঞানী মালিকের কথা সে শুনবে না। রথ যাবে গাড্ডায়। বেশীর ভাগ মানুষ সমাজে সেই গাড্ডায় পড়ে আছে। দেহের মধ্যে যে চৈতন্য শক্তি (অক্ষর পুরুষ=পরমাত্মা=ঈশ্বর) বিরাজমান, তার সংগে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ জংগলে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর হিংস্র শ্বাপদের শিকার হচ্ছে।