“আমার দেখা বামপন্থী জামানা”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

১৯৮০ সালে আমি প্রথম বিদেশে যাই। প্রথম দেশ ‘ব্রিটিশ গায়ানা’, দক্ষিন আমেরিকায়। ওখানে যাবার ৪ মাস পর ভারত ক্রিকেট খেলতে যায়। সুনীল গাভাসকর, কপিলদেব সংগে রবি শাস্ত্রী ( সেটা ছিলো রবি শাস্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর, সুনীলের ২৯ তম সেঞ্চুরি)। তখন ক্রিকেটারদের অনেক সুবিধা ছিলো না। সমস্যাটা সেখানে নয়।

গায়ানাতে তখন সরকারী কর্মচারী ছাড়া কারো গাড়ি রাখা নিয়মের বাইরে । আমার ছিলো,কারন আমি সরকারী ডাক্তার। আমার কাছে খবর এলো, সুনীল এবং কপিল একটু মার্কেটিং এ যাবে, আমি গাড়িতে নিয়ে যেতে পারবো কি না। বলুন কে না করবে ? গেলাম হোটেল  ‘পেগাসাসে’ । আমি দুজনকেই বললাম, এই দেশে মার্কেটিং কি করে করবেন ,এখানে কিছু পাওয়া যায় না, এটা ক্যমুনিষ্ট দেশ ।

সুনীলের বিশ্বাস হলো না। বললো,” কেনো এখানে ‘গায়ানা স্টোরে’ আমি আগের বার গিয়েছি। অমন বিরাট শপিং মল আমি লন্ডনেও দেখিনি।” খাটি কথা। আমি কথা না বাড়িয়ে নিয়ে গেলাম। সেই সুবিশাল স্টোরে ( প্রায় ৫ টি বিগবাজারের সমান) পাওয়া গেলো শুধু কয়েক পাউন্ড কাসাবা ( এক জংলী গাছের শিকড় যা নিগ্রোরা খায়।) কারো যদি সুনীল বা কপিলের সংগে খাতির থাকে জিজ্ঞাষা করে দেখবেন আমি কি বলছি। ( সেই ক্রিকেট টিমের সকলের সংগে আমার পরিবারের ছবি আছে, পরে স্ক্যান করে দেখাবো)

আমি এটাই বলতে চেয়েছি, বামপন্থী শাসন (১৯৮০ সালে প্রসিডেন্ট ছিলো বারনহাম- গোড়া ক্যমুনিষ্ট,  বিশেষ বন্ধু- কিম উল সুং -উত্তর কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্টের বাবা,) একটি উন্নত সম্পদশালী দেশকে কি ভাবে একেবারে শেষ করে দিতে পারে তার চরম উদাহরন ব্রিটীশ গায়ানা। মিসেস দেবনাথ যদি ভারতীয় হাই কমিশনে কাজ না করতেন তাহলে আমরা ৩ বছর ওখানে বাস করতেই পারতাম না।

পরে কিউবাতে গেছি ৩ বার কর্ম সুত্রে। হাভানা গেলে মনে হবে স্বর্গরাজ্য। সন্ধ্যা হলে হাভানার সামান্য দূর থেকে রাস্তায় রাস্তায় অল্প বয়ষী মেয়েদের ভিড়। পেটের জ্বালায় তারা কি করে দেখে আসবেন,না হলে বিশ্বাস হবে না।

কম্বোডিয়াতে যান দেখতে পাবেন একই দৃশ্য, লাওসে যান সেই একই দৃশ্য।

গায়ানা ছেড়ে ছিলাম কারন ওখানে কিচ্ছু পাওয়া যেতো না। অথচ যে ধাতু দিয়ে উড়ো জাহাজের বডি তৈরী হয় (ক্যালসিনেটেড বক্সাইট) তা গায়ানাতে প্রচুর পাওয়া যায়। এক সময় গায়া্না ডলার আমেরিকান ডলারের চেয়েও দামী ছিলো। আমি যে ৩ বছর ছিলাম, সব  জিনিষ এমনকি টুথপেষ্ট ও ডিপ্লোম্যটিক ব্যাগে করে যেতো যেহেতু মিসেস দেবনাথ “ভারতীয় সংষ্কৃতি কেন্দ্র” পরিচালনা করতেন এবং গান শেখাতেন। বারনহামের স্ত্রী পরিবার পরিজন এবং বন্ধু বান্ধবদের পরিবার নিয়ে প্রতি শনিবার ত্রিনিদাদ যেতেন শপিং করতে। বারনহামের গাড়ি ছিলো ৩৬ টা, দুটো রোলস রয়েস অর্ডার দিয়ে বানানো ছিলো। সব নিজের চোখে দেখে এসেছি।

কারো যদি দুর্ভাগ্য থাকে তাহলে কিছুদিন উত্তর কোরিয়া থেকে আসুন। দেখে আসুন কম্বোডিয়া (পল পট)  দেখে আসবেন বামপন্থার নামে কি ভাবে “নিজপন্থা’ বানানো হয়। সর্বহারাদের জন্য সংগ্রাম না তাদের সব অধিকার ছিনিয়ে নেবার সংগ্রাম তা দেখতে হলে যেতে হবে, কিউবা, লাওস (আমি গিয়েছি), উত্তর কোরিয়া (যাইনি, যাবো না), চীন (যাবো যেদিন ক্যমুনিষ্ট বিদায় হবে)। রাশিয়া আর ক্যমুনিষ্ট নেই।

গায়ানা এখন একটি অতি উন্নত দেশ-প্রেসিডেন্ট ভারতী বংশোদ্ভুত হিন্দু (২০১৩ সালে আবার ঘুরে এসে লিখছি), কারন ওই দুটি দেশে আর ক্যমুনিষ্ট নেই।।