‘আল্লার দলের’ চার জঙ্গি ঈদ, কোরবাণী, হজে বিশ্বাস করে না। এরা আবার মুসলমান নাকি? আছে কোন মুসলমানের পোলা যে বলবে সে ঈদ পালন করবে না। কুরবানী দিবে না। হজ করবে না? তাহলে তো সে মুসলমানই থাকে না। সে হয়ে গেলো নাস্তিক কিংবা বিধর্মী…। তাহলে যে লোকজন বলে এগুলো সব ইহুদীনাসারাদের ষড়যন্ত্র, র’ মোসাদের চক্রান্ত- তা মিথ্যে নয়? এজন্যই এই চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করা র্যা ব কর্মকর্তা বলেছেন, “তাদের দলের নাম ‘আল্লাহর দল’ হলেও তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে কথিত ইসলামী গানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উগ্রবাদে উৎসাহিত করে থাকে।”

কাল যদি শুনেন ৫ ওয়াক্তের বদলে ৩ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার কথা বলছে কেউ তাহলে নির্ঘাৎ তাকে ইসলামের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সন্দেহ সৃষ্টিকারী কাফের ইহুদীনাসারাদের ষড়যন্ত্র বলবেন? আমি জানি বেশির ভাগ মুসলমানের আসলে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো ছাড়া কোন উপায় নেই। কারণ তারা যা জেনে এসেছেন সবটাই অন্যের মুখে শুনে শুনে। জীবনে কুরআন অর্থসহ পড়ে দেখেন নাই। তাছাড়া কুরআন অর্থসহ পড়েই বা কি হবে? মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝার কি জো আছে? কুরআন পড়তে হয় হাদিস তাফসির সঙ্গে নিয়ে। সাধারণ মানুষ এতসব করতে পারে না। তাদের তাই ভরসা পেটমোটা মৌলবী মুফতি…। এরাই যখন যা খুশি চেপে যায় তাকিয়া করে। মানে দ্বিনের স্বার্থে মিথ্যা বলে ইসলামের উদোম পাছা ঢেকে ফেলে। যখন বুঝতে পারে বিশ্বাসের ভাইরাস গিলে ফেলেছে আর উগড়ে দিতে পারবে না- তাকেই শুধু বলে জবাই করে ইসলাম কায়েম করো। বাকীদের উল্টোটা বলবে, ‘ইসলাম মানে হচ্ছে শান্তি’!…

এই কথাটাই তো বিরাট ধাপ্পা! ইসলাম মানে হচ্ছে ‘আত্মসমর্পন করা’। মানে আপনি ইসলামের মধ্যে বিনা শর্তে বিনা আলোচনা যাচাই বাছাই ছাড়া ইসলামের আনুগত্যতা স্বীকার করে নিবেন। তারপর ইসলাম আপনাকের জিহাদের ভেড়ার পালের যোগ করিয়ে দিবে। শুনুন, ভালো করে শুনুন, আল্লার দলের চারজন কোনভাবেই ইসলামের বাইরে কিছু বলেনি। ইসলাম বলে, যে দেশ ইসলাম অনুসারে চলে না তা হচ্ছে ‘দারুল হার্ব’। আর যে দেশ ইসলাম অনুসারে চলে তাকে বলে ‘দারুল ইসলাম’। আর যে দেশে অমুসলিম শাসন থাকলেও সেক্যুলার ধাচে চলে তাকে বলে দারুল আমান’। ইসলামের নিয়ম হচ্ছে দারুল হার্ব থেকে মুসলমানরা যত দ্রুত সম্ভব বেরিয়ে আসবে। দারুল হার্বে ঈদ, কুরবানী মুসলমানরা দিবে না। দারুল হার্ব থেকে হজেও তারা যাবে না। তবে দেশটাকে যদি দারুল আমান মনে হয় তাহলে এগুলো করা যেতে পারে। ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষে আলেম মোল্লাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিলো ইংরেজি শাসিত ভারত দারুল হার্ব নাকি দারুল আমান ধরা হবে? আলেমদের যারা মত দিয়েছিলেন ভারত দারুল আমান তাদের অনুসারীরা নামাজ হজ কুরবানী চালিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু যারা ভারতকে দারুল হার্ব মনে করেছিলো তারা এসব বর্জনের ডাক দেন। এদের মধ্যে হাজি শরীতুল্লাহ, দুদুমিয়ার উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারতকে দারুল হার্ব মনে করা ইসলামপন্থিদের বড় অংশটাই চরমপন্থা বা সশস্ত্র জিহাদে মনস্থির করেছে। যে কারণে শোলাকিয়ার ঈদের নামাজে হামলা চালিয়েছিলো জেএমবি। এরকম কতগুলো জঙ্গি গ্রুপ বাংলাদেশকে দারুল হার্ব মনে করে আর কতজন দারুল আমান মনে করে আমরা তা জানি না। তবে তাদের মুসলমান কিনা সন্দেহ করা নিতান্তই মুর্খতা। কেউ ৩ ওয়াক্ত নামাজের কথা বললেও সন্দেহের কিছু নেই। কারণ কুরআনে কেবলমাত্র ৩ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলা আছে বলে তারা সেটাই মানতে চান। অর্থ্যাৎ এরা মুসলমান তো বটেই ইসলামে দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় মুসলমান তারা কারণ ইসলাম সন্ত্রাসকারীকে বলেছেন নামাজ রোজা করা মুসলমানের চাইতে উঁচুতে স্থান তাদের। কাজেই কতল করে জিহাদ করে বোমা মেরে খিলাফত কায়েমের যে সন্ত্রাসী কাজকারবার তাকে ইহুদীনাসারাদের ষড়যন্ত্র বলে আর অযথা নিজের অজান্তে নিজের পাছায় আগুন লাগাবেন না। খুনি আপনার ঘরেই হয়ত আছে। ধার্মীক ইসলামী মাইন্ডের যে কেউ হতে পারে ঠান্ডা মাথার একজন খুনি। স্মরণে রাখতে হবে, অধিক ধার্মীক মানেই সে ধর্মের একদম শেষতম ধাপে যেতে চাইবে। আর ইসলামের শেষ ধাপ হচ্ছে সশস্ত্র জিহাদ। কাজেই আপনার সন্তান অতিমাত্রায় ধার্মীক মুসলমান হচ্ছে কিনা সেই খবর রেখেছেন তো?

https://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1658847?fbclid=IwAR2apvfvwZRE1tTMOlzXyLQe388cgs3ierscA9r8Mi8660pU9DLVSJrXVNI