ত্রিখন্ডিত ভারত এবং গান্ধী, নেহেরু, ব্রিটিশ এবং জিন্না প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে এবং পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফল স্বরুপ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশ ভাগ হয়েছে, অনেক ভৌগলিক পরিবর্তন হয়েছে। উদাহরন, জার্মানী, ভিয়েতনাম, কোরিয়া। জার্মান এক হয়ে গেছে, ভিয়েতনাম এক হয়ে গেছে । বাকী আছে কোরিয়া, সেটাও হবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলো ১৯৪৫ সালে ।তার দুই বছর পর,অর্থ্যাত বিশ্ব যখন শান্ত হয়েছে ,কোথাও কোনো অশান্তি আর নেই, ঠিক সেই সময় হিন্দুদের প্রাচীন মাতৃভুমি ভারতবর্ষ তিন খন্ড করা হলো। এবং সেটা করা হলো ধর্মের ভিত্তিতে।

কারা করলো ? ব্রিটিশ তখন শাসন ক্ষমতায়, সুতরাং ভাগ বাটোয়ারায় তারা মধ্যস্থতা করলো। ভাগের প্রধান দাবীদার “মুসলিম লীগ’, প্রতিনিধি জিন্না।  একমাত্র “সীমান্ত গান্ধী”  নামে পরিচিত একজন, খান আবদুর গফফর খান,পাকিস্তানের বর্তমান ‘উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (প্রাচীন গান্ধার এবং কম্বোজ রাজ্য) বাসিন্দা, ভারত ভাগের বিরোধিতা করে মিঃ করম চাঁদ গান্ধীর (ভারতের জন্ম দাতা???=জাতির পিতা তাই জন্মদাতা, এর আগে কি ভারত বা ভারতীয় ছিলো না,প্রথম পয়দা হলো ?

ভারত বিভাগ ও কাশ্মীর সমস্যার জন্য দায়ী কে?
ভারত বিভাগ ও কাশ্মীর সমস্যার জন্য দায়ী কে?

পাকিস্তান ছিলো না সুরতরাং পাকিস্তান সৃষ্টি করে জিন্না কায়েদ-ই-আজম হতে পারেন। কিন্তু ভারতীয় জাতির জনক কে??? )  বিরাগ ভাজন হয়েছিলেন। ব্রিটিশ ভারতে বসবাস কারী অন্য সমস্ত মুসলিম ‘পাকিস্তান’ নামে একটি দেশ তৈরীর পক্ষে ছিলো এবং সেটাই তাদের স্বপ্নের দেশ ছিলো। দেশ ভাগ হলেই, তাদের নিজেদের দেশ হলেই, তারা নাকি সেখানেই চলে যাবে , এই দার-উল-হারাবে আর থাকবে না, এটাই তখন সকলের মুখে।

সেই মহৎ কার্য সাধনের জন্য, কলকাতায় তখনকার স্বায়ত্ব শাসন কালীন মুসলীম লীগের বাংলার মুখ্য মন্ত্রী সুরাবর্দির সরকার, সরকারী ভাবে ১৯৪৬ সালের আগষ্টে পরিকল্পিত ভাবে হাজার হাজার হিন্দুকে মারলো। সেই মারন যজ্ঞ বন্ধ করতে গান্ধী  কলকাতায় এসে সুরাবর্দির কাছে কাকুতি মিনতি করলো। আসল কারন বোধহয় হিন্দুরাও তখন জীবন বাচাতে পালটা মার দিতে শুরু করেছিলো।

গান্ধীর সংগে ছিলো, কংগ্রেস নামে একটি রাজনৈতিক দল। গান্ধীর একান্ত বশংবদ নেহেরু বাপু যা বলেন তাই করেন, বাপুও নেহেরু যা চান তাই দান করেন। শুনেছি যে খন্ডিত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী না হতে পারলে তিনি নাকি জীবন নিসর্জন দেবেন ( এটা শোনা কথা,

জওহরলাল নেহেরু কি সত্যিই ভারত বিভাগের জন্য দায়ী ছিলেন?
জওহরলাল নেহেরু কি সত্যিই ভারত বিভাগের জন্য দায়ী ছিলেন?

মহাভারতে দুর্য্যোধন ও তার বাবাকে বার বার জীবন বিসর্জেনের হুমকি দিয়েছিলো) ভারতের অন্য রাজনৈতিক দলগুলি সব ভারত মাতাকে কেটে ফেলার সম্পুর্ন বিরোধী। একমাত্র সি পি আই নামে একটি দল, যারা তৎকালীন রাশিয়ার পোঁ ধরা, তারা দেশ ভাগের সমর্থন করে, কারন তাদের বহুদিনের স্বপ্ন ভারত ভেঙ্গে ১৭ টুকরো করে, সেই ঘোলা জলে মাছ ধরে খাবার।

শুনেছি, পড়েছি ,জেনেছি, ভারতবর্ষ যাদের মাতৃভুমি সেই দেশ বাসীর কাছে থেকে কোনো মতা মত নেওয়া হয়নি (Plebiscite)  তা জিন্না জানতো যে ৯৯.৯% মুসলীম আর হিন্দুদের সঙ্গে থাকতে চায় না ,একটি দার-উল-ইসলাম বানিয়ে সেখানে থাকতে চায়। গান্ধী-নেহেরু কি করে জানলো যে ভারতের সংখ্যা গুরুরা (হিন্দুরা) একবাক্যে তাদের মাতৃ ভুমি ভাগ করতে চরম উৎসাহী ???

কি হলো, ১০০০ বছর আগে ভারত দখল করে নেওয়া একটি  ঔপনিবেশিক গোষ্টি ,মাত্র ১২%, যারা বৈদিক ধর্ম ত্যাগ করে আরব এবং তুর্কিদের ধর্ম নিয়েছিলো, আর ২০০ বছর আগে সেই আরবী/তুর্কিদের সরিয়ে দখল নেওয়া এক ইউরোপীয় সাম্রাজ্য বাদী শক্তি আলোচনার টেবিলে বসলো, কংগ্রেস নামে একটি দলের দুই স্বয়ং ঘোষিত নেতা গান্ধী এবং নেহেরুর সংগে।

কংগ্রেসের বহু নেতা কিন্তু এর সম্পুর্ন বিরোধী ছিলেন। কিন্তু তাদের কথা কে শোনে। দলটাই তখন গান্ধীর হাতের মুঠোয়, যিনি নেহেরুকে পুত্রবৎ স্নেহ করেন আর ব্রিটিশ দের ভালোবাসতেন।

আহা!!!! কি সুন্দর খেলা হলো। ‘ওয়ান সাইডেড গেম’।। দুই দখল কারী শক্তি মাত্র দুজন মানুষের সংগে বসে হাজার হাজার বছরের এক প্রাচীন সভ্যতার সুতিগাগার কে ভেঙ্গে তিন টুকরো করলে। দুই টুকরো নিয়ে গেলো তারাই, যারা এবং যাদের পুর্ব পুরুষ হিন্দুদের মেরে কেটে লাশের পাহাড় বানিয়েছে ৮০০ বছর ধরে। আজো, সেই তারাই ঝড়তি পড়তি দুই হাত কাটা ভারতমাতার মাথাটাই (কাশ্মীর) কেটে নিয়ে এক কবন্ধ ( মুন্ড হীন দেহ) তৈরীর স্বপ্নে মশগুল।

আমার মাথার এই ছোট্ট খুপড়িতে বুদ্ধি বেশী নেই তা জানি। কিন্তু সবটাই গোবরে ভর্তি তাও স্বীকার করতে ইচ্ছে হয় না। তা সেই অল্প বুদ্ধি দিয়ে যা বুঝি সেটা হলো, ভারতবর্ষের বৈদিক হিন্দুরা এক মহাচক্রান্তের শিকার ।

সেই চক্রান্ত শুরু হয়েছে ১০০০ বছর আগে, পরিপক্ষতা লাভ করেছে ১৯৪৭ সালে। কিছু বিদেশী, স্বদেশী, দেশ ভাগ কারী প্রতারকদের শিকার হিন্দুদের ভারতমাতা। ভাবতেও লজ্জা লাগে, কষ্ট হয়, সেই ভারত মাতাকে কবন্ধ হয়ে থাকতে হবে। কে বাচাবে, হিন্দুরাই হিন্দুদের সমস্যা বোঝে না ,জানে না, জানলেও চুপচাপ থাকে।

লেখক-ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ

আরো পড়ুন…