পরিচয়হীন লেংটা বালক এর মাধ‍্যমে চানক‍্য অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছিলেন। টানা সাড়ে পাঁচশত বছর বিদেশী শাসনের পর, অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে ভারতবর্ষে যখন (ভূমিপুত্র) মারাঠা সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে, তখন বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ মহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ বিরাট ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অপ্রতিরোধ্য ব্রাহ্মণ জেনারেল বাজীরাও বল্লাল ভট্টের নেতৃত্বাধীন মারাঠা বাহিনী যখন বিদেশী দখলদারদের বিরুদ্ধে একের পর এক অসম যুদ্ধে অবিশ্বাস্য বিজয় অর্জন করে, সমগ্ৰ ভারতভূমিতে ভূমিপুত্রদের শাসন প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নে বিভোর,

তখন শাহ মহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ মাদ্রাসায় অধ‍্যাপনার পাশাপাশি নিরন্তর চিন্তা করে যাচ্ছিলেন যে,কিভাবে মুশরিক(পৌত্তলিক) মারাঠাদের উৎখাত করে ভারতভূমিতে আবার ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা যায়।

এই চিন্তার ঠিক বিপরীত উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয় সাড়ে তেইশ শত বছর পূর্বে, যখন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কূটিল ব্রাহ্মণ অধ‍্যাপক চানক‍্য চিন্তা করছিলেন,কিভাবে ভয়ঙ্কর গ্রীক আগ্রাসন থেকে খন্ড বিখন্ড ভারতবাসীকে রক্ষা করা যায়।

চানক‍্য বলেছিলেন, ভারতবাসীকে রক্ষা করার একটাই উপায়―তা হচ্ছে, অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠা।অখন্ড ভারত অজেয়।কিন্তু ভারতভূমি যদি এরকম শতখন্ডে বিভক্ত থাকে, তাহলে ভারতবাসীর ভাগ্যে দাসত্ব অবধারিত।

কথায় বলে,জহুরী মুক্তা চেনে। এক শূদ্রানী দাসীর জারজ সন্তান-নয় বছর বয়সী এক ক্রিতদাসকে দেখে চানক‍্য তার এক শিষ্যকে বলেছিলেন, ‘দেখে রাখো,এই হচ্ছে অখন্ড ভারতের ভাবী প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট।’

চানক‍্য সেই জন্ম পরিচয়হীন লেংটা শূদ্র ক্রিতদাস বালক চন্দ্রগুপ্তকে খরিদ করলেন।তাকে উপযুক্তভাবে প্রশিক্ষন প্রদান ও প্রখর বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত করে – তার মাধ‍্যমে চানক‍্য অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছিলেন।

আজকের ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার বিশাল ভারত রাষ্ট্রটি মূলত চানক‍্য-চন্দ্রগুপ্তের অবদান।

শাহ মহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ ইসলামী সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংকল্পে ভারতভূমিতে কোন মুসলমান চন্দ্রগুপ্তের সন্ধান করেন নি।

তিনি আফগান বাদশাহ আহমেদ শাহ আবদালিকে ভারত আক্রমনের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং নিজের ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রভাব খাটিয়ে ভারতভূমির প্রায় সমস্ত মুসলমান সামন্ত জেনারেলদের একত্রিত করেছিলেন― আফগান বাদশাহর সমর্থনে।

পক্ষান্তরে মারাঠা পেশওয়া নানা সাহেব ও তার সেনাপতি (খুড়তুতো ভাই) সদাশিব রাও ভাউ কোন হিন্দু আ্যালায়েন্স গঠন করতে পারেন নি।কারন তাদের পিছনে শাহ মহম্মদ ওয়ালীউল্লাহর মতন কোন হিন্দু ধর্মগুরুর কার্যকর সমর্থন ছিল না।

যার ফলশ্রুতিতে ১৭৬১ খৃস্টাব্দে পানিপথের  তৃতীয় ঐতিহাসিক যুদ্ধে  মুসলিম আ্যালায়েন্সের নিকট মারাঠা বাহিনীর পরাজয় বরনের মধ্য দিয়ে, ভারতের ইতিহাস সুস্পষ্টভাবে বদলে যায়।

মূল ভারতভূমিতে বিদেশী দখলদারদের আধিপত্যের সূচনা দ্বাদশ শতকের শেষ প্রান্তে ।সেই থেকে ১৯৪৭ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত সাড়ে সাতশত বছরে পরাধীন ভারতে অগনিত গুরুদেব, মহাপ্রভু ও স্বামীজী জন্মগ্রহণ করেছেন।

এই মানবরূপী অসংখ্য ভগবানদের মধ্যে আমি একজনকেও খুঁজে পেলাম না, যিনি বিদেশী দখলদার উচ্ছেদে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

উল্টো অনেকে প্রত‍্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে,ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় বিদেশী দখলদারদের সহায়তা করেছিলেন।

রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে না থাকলে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা যায় না–এটাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা।আকাশে যখন সূর্য ওঠে, তখন কি পথ চলতে লন্ঠনের প্রয়োজন হয় ?

আমার হাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ নিঃসৃত সর্বশাস্ত্রের মূলতত্ত্ব ‘শ্রীমৎভাগবত গীতা’-ই তো আছে; তাহলে আমি কেন ঐ সব ভন্ড-প্রতারক-কায়েমী স্বার্থের তল্পিবাহক ধর্মগুরুদের ধর্মের অপব‍্যখ‍্যা সম্বলিত পুস্তক নর্দমায় নিক্ষেপ করব না?

আমাদের আদিপিতা মনু―এজন্য আমরা মানুষ।মনু যেহেতু ব্রাহ্মণ ছিলেন,কাজেই তার প্রতিটি সন্তান অর্থাৎ সমস্ত হিন্দুই ব্রাহ্মণ।

অধার্মিক রাষ্ট্র নিয়ন্তাদের ইতরামিতে যারা অচ্ছুৎ বা দলিত পরিচয়ে অবহেলিত ও অপমানিত ― তারা ব্রাহ্মণ আদিপিতা মনুর সন্তান হিসেবে নিজেকে কূলশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ ঘোষণা করে ইচ্ছামাফিক কূলপদবী পরিবর্তন করুন  এবং জাতিভেদ প্রথা নির্মূল করে, সামাজিক সাম‍্য প্রতিষ্ঠা করুন।

 

আরো পড়ুন…..