vনৃশংস ইতিহাস…, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ …,  আর…আর… প্র্যাকটিক্যাল আর থিওরির যোগসূত্র !

একমাত্র অমানুষিক নৃশংসতা আর প্রবঞ্চনা, ছল চাতুরির মাধ্যমে নিছকই অসভ্য বর্বর যুদ্ধবাজ দস্যু থেকে সম্রাট বনে যাওয়া মুসলিম শাসকদের যে নৃশংসতার বর্ণনা আমাদের স্নায়ুগুলিকে অবশ করে দেয়, সেগুলি কি ছিল নিছকই রাজ্য জয় বা সাম্রাজ্যবিস্তার? সেগুলির সঙ্গে কোন সম্পর্ক আছে কি হালের আই এস, তালিবান বা বোকোহারামদের নৃশংসতার? থাকলে এর উৎস কোথায়? 

….চৌদ্দশো বছর আগে বিধর্মী বনু কুরাইজা গোষ্ঠীর নিরপরাধ মানুষদের নৃশংস হত্যা থেকে শুরু করে রাজা দাহীরের কাটা মুন্ডু থালায় নিয়ে বিন কাশীমকে উপহার, তৈমুর লং এর  বিধর্মী হিন্দুদের কাটা মুন্ডু দিয়ে পিরামিডের মত তোরণ বানানো, নোয়াখালীর জমিদার রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর কাটামুন্ডু নিয়ে গোলাম সোরোয়ার হুসেনিকে উপহার বা হালের আই এস, আল কায়দা বা তালিবানরা যে কাটামুন্ডু নিয়ে হা ডুডু খেলা করে – এগুলি কি বিচ্ছিন্ন কিছু…?

ইসলাম প্রবর্তনের সময়ই পরাজিত গোষ্ঠীর নারীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্মত লুঠের মাল অর্থাৎ ‘গণিমতের মাল’ হিসেবে গরু ছাগলের মত ভাগ বাটোয়ারা করে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দখল নিয়ে ধর্ষণ, যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি বা উপহারের সঙ্গে কোনো পার্থক্য আছে কি – সম্রাট নামধারী বহিরাগত মুসলিম দস্যুদের হিন্দু রমনীদের ধরে ধরে এনে হারেমে ঢোকানো, ভোগ্য বস্তু হিসেবে এ ওকে উপহার পাঠানো, পরাজিত বন্দী রাজা পৃথ্বীরাজের রানী সংযুক্তাকে বন্দী করে ঘোরী আর কুতুবউদ্দিনের ধর্ষণের পর জেহাদী সৈন্যদের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্যে? দেশভাগের ঠিক আগে বা পরে বর্তমান  পাকিস্তান বা বাংলাদেশের অংশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু নারীদের টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের মধ্যে?  চৌদ্দশো বছর আগে ৬২৭ সালে দুপুর বেলা চোখের সামনে স্বামী ও পিতাকে নৃশংস ভাবে খুন হতে দেখা সাফিয়াকে সেই সন্ধ্যাতেই ধর্ম প্রবর্তকের বিছানায় তোলার সঙ্গে কোন পার্থক্য আছে কি, ১৯৭১ সালের মুক্তি যুদ্ধের সময় দুপুর বেলা চোখের সামনে স্বামী ও পিতাকে পাকিস্তানী মেজরের গুলিতে খুন হতে দেখা করিমনকে সেই সন্ধেতেই ঐ মেজরের বিছানায় তোলার সঙ্গে? চোখের সামনে বাড়ির মানুষকে চোখের সামনে খুন হতে দেখা জমিদার রাজেন্দ্রলাল রায়চৌধুরীর শিক্ষিত সুন্দরী দুই মেয়েকে সোরোয়ারের বিশ্বস্ত দুই সেনাপতিকে উপহারের মধ্যে ? স্বয়ং নবী মুহাম্মদ যেভাবে বেছে বেছে যুদ্ধবন্দিনীদের নিজের জন্য রাখতেন, যেভাবে নিজের জামাতা আলী আর ওসমানের মধ্যে নিজের হাতে যুদ্ধবন্দি অসহায় নারীদের ভাগ করে দিয়েছেন – তার মধ্যে?  নাইজেরিয়ায় বোকো হারামরা যে স্কুল থেকে শত শত খ্রীষ্টান ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে যৌনদাসী বানিয়ে রেখেছে বা সিরিয়া ইরাকে আই এস যে খ্রীষ্টান ইয়াজিদি কুর্দিশ নারীদের ধরে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে, যৌনদাসী হিসেবে গরু ছাগলের মত বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছে – এর মধ্যে?

বা ধরুন, মোগলরা যে হারেমে বন্দী নারীদের উলঙ্গ করে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে বিকৃত আনন্দ পেত, এর সঙ্গে কোন পার্থক্য আছে কি – আই এস বা তালিবানরা যে বন্দিনী নারীদের সারাদিন উলঙ্গ করে রাখে, ছেচল্লিশের লাহোরের রাস্তায় হিন্দু আর শিখ নারীদের প্রকাশ্যে গণধর্ষষণের পর রাজপথে উলঙ্গ করে লাইন ধরে হাঁটানো বা বাংলাদেশে পাক বাহিনীর ব্যারাকে সম্ভ্রান্ত মহিলাদের উলঙ্গ করে আটকে রেখে ধর্ষণ করার মধ্যে?

         হুবালের মূর্তি সহ কাবা ঘরের তিনশো ষাটটা মূর্তি ভাংচুরের মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ যে সোয়াব অর্জনের রাস্তা দেখিয়ে গিয়েছিলেন, এর সঙ্গে কোন পার্থক্য আছে কি – তালিবানদের ঐতিহাসিক বামিয়ান বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংস , আই এস এর সিরিয়ার পালমিরার প্রত্নতাত্বিক স্থাপত্য বা ভাষ্কর্য্য গুঁড়িয়ে দেওয়া, একাত্তরে পাক বাহিনীর রমনা কালী মন্দির ধ্বংস আর বাংলাদেশ বা এই বাংলার বিভিন্ন জায়গায় মূর্তি ভাঙ্গার যে উৎসব, এর সঙ্গে?কোন পার্থক্য আছে কি আলী কতৃক মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগার ধ্বংসের সঙ্গে বখতিয়ার খিলজীর নালন্দা ধ্বংসের? বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ন্যায় বিচারের প্রতীক নারী মূর্তি অপসারণের সঙ্গে?

অত্যাচারী মুসলিম শাসকরা যে পরাজিত রাজা বা বিধর্মী সাধারণ নাগরিকদের মুখে গরুর মাংস গুঁজে দিয়ে জোর করে ধর্মান্তরিত করত, এর সঙ্গে কোন পার্থক্য আছে কি, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু রোহিঙ্গা মহিলাদের সিঁদুর মুছিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য করার মধ্যে? স্থান কাল পাত্র, সব আলাদা হলেও সব এক সূত্রে গাঁথা এবং সবগুলি নৃশংসতার উৎস কিন্তু একজায়গায়। সেই উৎসটাকেই কখনো আমেরিকা আর তেল, কখনো ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র, কখনো ভারত অভিযান, কখনো বিদ্রোহ, কখনো শ্রেনী সংগ্রাম বা ভূমি সংস্কার, কখনো রাষ্ট্র বা সংখ্যাগুরুর অত্যাচার, কখনো বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র  নামের আড়ালে অর্থাৎ যখন যেটা খাটবে বলে মনে হয়েছে, তা দিয়ে সযত্নে  ঢেকে রাখা হয়েছে, হচ্ছে। অথচ দেখা যাবে একটা দিয়ে আরেকটার ব্যাখ্যা কোনমতেই হয় না। কিন্তু ঐ উৎস স্থলে বিধর্মীদের প্রতি যে নির্দেশ আছে, তা দিয়ে কিন্তু সবগুলির ব্যাখ্যা অতি সহজে করা যায়, থিওরি আর প্র্যাক্টিক্যাল একেবারে মিলিয়ে দেওয়া যায়। যে উৎসটা আমরা অনেকেই জানি না । এই উৎসটাকে যতদিন সুকৌশলে ঢেকে রাখা হবে, ততদিন এভাবেই সাধারণ নিরীহ মানুষের রক্তে রক্তস্নাত হতেই থাকবে, সভ্যতা ধ্বংস হতেই থাকবে। যে সভ্যতা বিকাশে এদের বিন্দু মাত্র ভূমিকা ছিল না, কতগুলি মানুষ রূপী জন্তুর সৃষ্টিই হয়েছে তিল তিল করে গড়ে তোলা সেই সভ্যতা ধ্বংসের জন্য, ঘড়ির কাঁটাকে পিছিয়ে মধ্যযুগে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

   ৭১২ সালে মহম্মদ বীন কাশীম কর্তৃক বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশের হিন্দু রাজা দাহীরের শিরচ্ছেদ থেকে শুরু করে তৈমুর লং, খিলজি, গজনীর সুলতান, মোগল, টিপু,  তিতুমির হয়ে ১৯২১ এর মপলা গণহত্যা , ছেচল্লিশের লাহোর করাচীর হিন্দু শিখ গণহত্যা, গণধর্ষণ বা কোলকাতা নোয়াখালী, পঞ্চাশের বরিশাল, ষাটের  খুলনা,  নব্বইয়ে কাশ্মীরের ব্যাপক গণহত্যা গণধর্ষণের মাধ্যমে হিন্দু সাফাই বা হালের ধুলাগড় বাদুড়িয়া, বাংলাদেশের নাসিরনগর গোবিন্দগঞ্জ লংদু হোলী আর্টিজেন ….,  সব… , সব একই সূত্রে গাঁথা। এমনকি নাইজেরিয়ার খ্রীষ্টান, ইরাক সিরিয়ার খ্রীষ্টান ইয়াজিদি কুর্দিশ নির্যাতন, মায়ানমারের রাখাইন, আমাদের কাশ্মীর  – সব কিছুর শিকড়, উৎস এক জায়গায়। আর এই আসল জায়গাটা ঢেকে রাখতে গিয়েই কলমের নৈপুন্যে যুগে যুগে সুলতান মামুদদের ব্যাপক ধ্বংসাত্মক আর হিন্দু নিশ্চিহ্নকারী সতেরো বারের ভারত আক্রমণ হয়ে গেছে ‘ভারত অভিযান'(যেন বেড়াতে এসেছিল ! ) , মপলার জেহাদ হয়ে গেছে ‘মপলা বিদ্রোহ’ , পূর্ব বঙ্গের হিন্দু হত্যা যজ্ঞ, হিন্দুদের এথনিক ক্লিনজিং হয়ে গেছে ‘ভূমি সংস্কার’, নিজেদের ‘দার উল ইসলাম’ রক্ষার জন্য ব্রিটিশের সঙ্গে লড়াই করা জেহাদী টিপু সুলতান আর তিতুমিররা ব্রিটিশ বিরোধী দেশপ্রেমিক, ইত্যাদি ইত্যাদি।

না, এই ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না, মানে জানতে দেওয়া হয় নি। ইতিহাসের ইসলাম কর্তৃক এরকম অসংখ্য হিন্দু শিখ বৌদ্ধ ইহুদী হত্যা যজ্ঞ আমাদের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘ কালীন এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে। বামপন্থী রোমিলা থাপার আর ইসলাম পন্থী ইরফান হাবিবের লেখা যে ইতিহাস আমরা পাঠ্য বইয়ে পড়ে বড় হয়েছি, সেখানে এসব ছিল না। ছিল না বহিরাগত বর্বর আরব দস্যুরা কোন নৃশংস পথে সম্রাট বনে গেল, তার কথা । নৃশংসতার সব চাপা দিয়ে যতটুকু না বললে না হয়, দু’লাইনে বলে শেষ করে দিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে দেখিয়েছে ঐ বর্বর নৃশংস ধর্মোন্মাদদের মহত্বের মিথ্যে ফানুস। আর আমরা গোগ্রাসে গিলে গেছি সেই মিথ্যে, আমাদের জানার ভিত্তিটাই গড়ে উঠেছে মিথ্যার উপর, যাতে এক কাল্পনিক সম্প্রীতির গান শুনিয়ে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখা যায়, যে সম্প্রীতির অস্তিত্ব আসলে কোনদিনই ছিল না । ফলে আমাদের সমগ্র জানাটা এত মিথ্যের উপর গড়ে উঠেছে যে, এখন সত্যিটাই মিথ্যা বলে মনে হয়।

    উপরে বর্ণিত মুসলিম শাসক বা শাসক বনে যাওয়া দস্যুদের নৃশংসতা আমাদের স্নায়ুগুলিকে অবশ করে দিলেও এরা কেউ কিন্তু কোন ধর্ম বিরোধী কাজ করে নি। যা করেছে পুরোপুরি ধর্ম মেনেই, কাফের বা বিধর্মীদের প্রতি করণীয় ধর্মীয় নির্দেশ মেনেই। ঔরঙ্গজেব ইসলামে সুপন্ডিত ছিলেন বলেই বিধর্মীদের প্রতি এত নৃশংস ছিলেন। সেই ইতিহাসগুলি আমাদের খুব সুপরিকল্পিত ভাবেই আমাদের কাছে লুকিয়ে রাখা হয়েছে , আর এইসব  নির্দেশ যেখানে আছে – সেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কেও জানা নেই কিছু, ফলে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয় না আমাদের পক্ষে। সম্ভব হয় না ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সাবধান হওয়াও। 

 
     কিন্তু, কিন্তু মনে কি কখনো প্রশ্ন আসে না, সাম্রাজ্য বিস্তার করতে গিয়ে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হবে, বিপক্ষকে হত্যা করবে – এটা তো স্বাভাবিক; হ্যাঁ, লুটপাটও হবে, কিন্তু তাই বলে সাধারণ নিরপরাধ মানুষের গণহত্যা, অসহায় নারী শিশুদের গরু ছাগলের মত ভাগ বাটোয়ারা করে গণধর্ষণ, বিক্রি বা উপহার কেন হবে? কেন হবে গণ ধর্মান্তরকরণ, বিধর্মীদের উপাসনা স্থল কেন গুঁঁড়িয়ে দেওয়া হবে?
যুদ্ধ বিগ্রহ বা সাম্রাজ্যবাদ দিয়ে এগুলির কোন ব্যখ্যা হয় কি? এবার ব্যাখ্যাটা পবিত্র গ্রন্থের ‘জেহাদ’  দিয়ে করুন – দেখবেন থিওরি আর প্র্যাক্টিক্যাল একদম মিলে যাচ্ছে। মুশকিল হল আমরা বেশিরভাগই কোরান হাদিস সম্পর্কে, জেহাদ সম্পর্কে জানি না বলেই এগুলিকে সাধারণ যুদ্ধ বা রাজ্য জয় হিসাবেই দেখি। জানি না বলেই বিভিন্ন কালে ঘটা এই নৃশংসতা, বর্বরতা গুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে হয়।

ইসলামের খুনাখুনির কথা বললেই মুমিন ভাইরা এবং এদের তুতুভাই বামপন্থীরা রামায়ণ মহাভারতের উদাহরণ দেন। হ্যাঁ, রামায়ণ মহাভারতও বলতে গেলে পুরোটাই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সেই রামায়ণ মহাভারতের এতবড় যুুুুদ্ধে এত এত সৈন্য মারা যাওয়ার পর নারী শিশু বৃদ্ধদের  সসম্মানে রাখা হয়েছিল।  কোথাও কি আছে, নিরপরাধ নিরস্ত্র মানুষকে ঠান্ডা মাথায় গণহত্যার কথা, কোতল করার উল্লেখ, ইসলামের মতো? নাকি সেই যুদ্ধে ছিল অনেক নিয়ম কানুন, শত্রুকে হত্যার অনেক শর্ত? আত্ম সমর্পণের পরও শুধু ইসলাম গ্রহণে রাজী না হওয়ায় যেভাবে বুনু কুরাইজা গোষ্ঠীর কোমরের নিচে লোম উঠা প্রত্যেকটা নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছিল স্বয়ং ধর্ম (?) প্রবর্তক , আর বাকি নারী শিশুদের ভাগ বাটোয়ারা করে দখল নিয়ে যৌনদাসী বানানো হয়েছিল, ব্যাক্তিগত সম্পত্তি বানিয়ে ভোগ্য বস্তুর মতোই ভোগ করা হয়েছিল, প্রিয়জনকে উপহার পাঠানো হয়েছিল, বাজারে নিয়ে গরু ছাগলের মতোই বিক্রি করা হয়েছিল – এই রকম একটি উদাহরণও কি রামায়ণ মহাভারতের কোথাও আছে? অজুহাত হিসেবে বলা হয়, যুদ্ধে স্বামী মারা গেলে অসহায় নারীদের কি হবে ভেবেই নাকি যৌনদাসী বানানো হত। কিন্তু শুধু যুদ্ধে যে মারা যেত, তা নয় বিপক্ষ গোষ্ঠীর নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকেও তো বন্দি বানিয়ে হত্যা করা হতো, বন্দিশালায় জীবিত থাকা অবস্থাতেই সেই স্বামীদের সামনেই তাদের স্ত্রীদের ধর্ষণ করতো বর্বররা। রামায়ণ মহাভারতের যুদ্ধেও তো অগুণতি নারী বিধবা হয়েছিল। কিন্তু বিধবা হওয়া একজন নারীরও অসম্মান করার কোন উদাহরণ আছে কি?

সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশরাও তো এদেশ শাসন করেছে। ইংরেজরা তিনশো বছরে কয়টা মন্দির ভেঙে গীর্জা বানিয়েছিল, কতজনকে বন্দুক বা তরবারির মুখে খ্রীষ্টান ধর্মে গণ ধর্মান্তরিত করেছে, যারা রাজী হয় নি – তাদের গণ হারে হত্যা করেছে? অসহায় নারী শিশুদের লুঠের মাল গরু ছাগলের মত ভাগ বাটোয়ারা করে দখলদার হিসাবে ধর্ষণ করেছে, এ ওকে উপহার বা বিক্রি করেছে?

একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই – ইংরেজের হাতে যুদ্ধে নিহত এবং পরাজিত টিপুর পরিবারের প্রতি ইংরেজরা কিন্তু সেরকম কোন আচরণ করে নি, যেটা মুসলমান শাসকরা করে থাকতো। তাদের যৌনদাসী না বানিয়ে সসম্মানে ভেলোরের একটি দূর্গে বন্দী করে রাখা হয়।

আর কবে বুঝবো – ব্রিটিশ ছিল অনেক ছোট বিপদ, ধর্মীয় বিপদ তো নয়ই। কিন্তু ধর্মীয় শুধু নয়, পলিটিক্যালিও জিহাদী ইসলাম এর বিপদ অনেক বড়।

আর কবে বুঝবো, কোনটা ধর্ম আর কোনটা ধর্মের মোড়কে প্রবর্তিত এক সর্বনাশা ভয়ঙ্কর সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শ মাত্র? আর কবে ঐ মতাদর্শের প্রভাবে দুই হাত পা ওয়ালা অবিকল মানুষের মত দেখতে অমানুষ আর মানুষদের আলাদা করতে পারবো?

কেন এই পার্থক্যটা তুলে ধরলেই আপনাকে সাম্রাজ্যবাদের দালাল বলা হবে? তাহলে এরা কি আরব বা ইসলামের দালাল?

http://www.dhormockery.com/2015/08/blog-post_9.html?m=1