Home Bangla Blog আমার বয়ফ্রেন্ড মুসলিম, কারণ আমি মনে করি বিপদে পড়লে ও আমাকে সেভ...

আমার বয়ফ্রেন্ড মুসলিম, কারণ আমি মনে করি বিপদে পড়লে ও আমাকে সেভ করতে পারবে :

198

আমার বয়ফ্রেন্ড মুসলিম, কারণ আমি মনে করি বিপদে পড়লে ও আমাকে সেভ করতে পারবে :

তোমার বয়ফ্রেন্ড মুসলিম কেনো ?

এই প্রশ্নের জবাবে নির্দ্বিধায় উপরের এই কথাগুলো বলেছিলো কোলকাতার এক মেয়ে। মেয়েটির এই মন্তব্য শোনা বা জানার পর আমরা হিন্দুরা তার সম্পর্কে নানা বাজে মন্তব্য ভাবতে বা করতে পারি, কিন্তু তাতে যা বাস্তব ও সত্য তা উল্টে যাবে না। সত্যিই কি আমরা হিন্দুরা, আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে পারি বা পেরেছি ?

ইতিহাসের কিছু ঘটনার দিকে চোখ ফেরানো যাক :

সিন্ধুর রাজা দাহির, তার সেনাবাহিনীতে কিছু সংখ্যক মুসলমানকে চাকরি দিয়েছিলো, যা ছিলো তার সেনাবাহিনীর সৈন্য সংখ্যার প্রায় অর্ধেক । বিন কাশেম যখন সিন্ধু আক্রমন করে, তখন মুসলমানরা সিন্ধু আক্রমন করেছে বলে, মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই এই সূত্রে, দাহিরের মুসলমান সেনারা অস্ত্রসহ কাশিমের পক্ষে যোগ দেয়, মুসলমান সেনাদের এই বিশ্বাস ঘাতকতায় রাজা দাহির খুব সহজেই পরাজিত ও নিহত হয়। মুসলমানরা মৃত মেয়েদেরকেও ধর্ষণ করে এটা জানা বা শোনার পর রাজপরিবারের মেয়েরা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে নিজেদেরকে শুধু নয়, নিজেদের দেহকেও শেষ করে দেয়, যে ঘটনা থেকে শুরু হয়, সতীদাহ নামক প্রথার উদ্ভব। কিন্তু দুই রাজকুমারী ও এ রানী মুসলমান সৈন্যদের হাতে জীবিত ধরা পড়ে। এই তিনজন সহ প্রায় ৬০ হাজার হিন্দু মেয়েকে যৌনদাসী হিসেবে বন্দী করে কাশিম তাদেরকে বাগদাদের খলিফার কাছে প্রেরণ করে। পরে এই মুসলমানরা এই হিন্দু মেয়েগুলোকে ধর্ষণ শেষে দাস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে এবং এই হিন্দু মেয়েগুলোই পরে মুসলমানদের মুসলিম বাচ্চা উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত হয়।

অনেকই জানেন, বর্তমান আফগানিস্তানে গজনীর সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমন করে সোমনাথ মন্দির লুঠ করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গজনীতে লুঠ করে নিয়ে গিয়েছিলো। সেই সঙ্গে প্রত্যেকবার সে কমপক্ষে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ পর্যন্ত হিন্দু মেয়েদেরকে ক্রীতদাস হিসেবে বন্দী করে গজনীতে নিয়ে গিয়ে বিক্রী করে দিয়েছিলো। আর সেই মেয়েগুলো পরো মুসলমানদের শয্যাসঙ্গিনী হতে, তাদের সন্তান পেটে ধরতে, তাদেরকে জন্ম দিতে এবং তাদের লালন পালন করতে বাধ্য হতো।

এরপর ভারতের প্রত্যেকটা মুসলিম শাসকের সময়, যখন খুশি তখন মুসলমানরা হিন্দু জনবসতির উপর আক্রমন ও হামলা করে তাদের ধন সম্পদ লুঠ করা ছাড়াও হিন্দু মেয়েদেরকে ধরে নিয়ে যেতো। এই অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে মেয়েদেরকে রক্ষার করার জন্যই উদ্ভব হয় বাল্যবিবাহ ও রাত্রীকালিন বিবাহের। মুসলমান শাসকদের তত্ত্বাবধানে কাফের মারার সূত্রে মুসলমানরা যখন হিন্দু জনবসতিগুলোর উপর হামলা করতো তখন হিন্দু পুরুষরা প্রাণভয়ে ঘর বাড়ি বউ ছেলে মেয়ে ছেড়ে জঙ্গলে পালিয়ে যেতো এবং পরে ফিরে এসে দেখতো বউ মেয়েদেরকে মেয়েরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে।

মুসলিম শাসনের হাজার বছর ধরে হিন্দুদের নপুংসকতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে এভাবেই নির্যাতিতা হয়েছে হিন্দু মেয়েরা।

নিকট অতীতে, ভারতে গান্ধীযুগ শুরু হলে, ১৯২১ সালে কেরালা্য় মুসলমানরা ব্যাপকভাবে হিন্দুদের উপর হামলা আ্ক্রমন শুরু করে হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্মান্তর শুরু করলেও ২০% মুসলমানদের বিরুদ্ধে ৬০% হিন্দু কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে নি, মেয়েদেরকে হতে হয়েছে ধর্ষিতা নির্যাতিতা।

১৯৪৬ সালে কোলকাতার ডাইরেক্ট এ্যাকশনের সময়ও কি আমরা আমাদের মেয়েদেরকে রক্ষা করতে পেরেছি? এক হিন্দু মেয়ের পরিবার মুসলমানদের আক্রান্ত হওয়ার পর, তারই প্রতিবেশি মুসলমানের কাছে আশ্রয় চাইলে তাকে ডাইরেক্ট এই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিলো যে, মুসলমান হলে তাকে রক্ষা করা হবে। সেই সময় এই ধরণের ঘটনা যে শত শত ঘটেছিলো তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই। কারণ, ১৯৪৬ সালের ঘটনায় কোলকাতাতেই শুধু নিহত হয় প্রায় ২০ হাজার হিন্দু।

১৯৪৬ সালের নোয়াখালির নোয়াখালির হিন্দু নিধনযজ্ঞের কথা যারা জানেন না, তাদের জন্য বলছি, ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী সেই হিন্দু নিধনযজ্ঞে ৮ থেকে ৫২ বছর বয়সী এমন কোনো হিন্দু মেয়ে ছিলো না, যাকে মুসলমানরা ধর্ষণ করেছিলো না।

এরপর ১৯৫০, যখন মুসলমানদের ধর্ষণ ও অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ লক্ষ হিন্দু, জমি-জমা, বাড়ী-ঘর সব ফেলে এক কাপড়ে পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এরপর ১৯৬৫, ভারত পাকিস্তানের এই যুদ্ধে পূর্ববঙ্গের অনেক হিন্দু মেয়ে নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে মুসলিম ছেলেদের বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলো।

এরপর ১৯৭১, যেখানে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় হিন্দু সেনারা পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করেছে, সেই যুদ্ধে বাঙ্গালি মুসলমানরা হিন্দুদেরকে জোর পূর্বক ধর্মান্তর ও মেয়েদেরকে ধর্ষণ করার উৎসবে মেতে উঠেছিলো। সেই সময়ও কি পেরেছি আমরা আমাদের মেয়েদেরকে রক্ষা করতে ? আমরা বাংলাদেশি হিন্দুরা কি পেরেছি ২০০১ সালে পূর্ণিমার মতো মেয়েদেরকে মুসলমানদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষার করতে ? এই ২০১৬ তে এসেও আমরা হিন্দু যুবকরা আমাদের বাড়ির মেয়েদেরেকে রক্ষা করার জন্য কত টুকু বা কী করতে পারছি ?

এবার দেখা যাক পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা, তাদেরকে মেয়েদেরকে রক্ষা করার জন্য কতটুকু বা কী করতে পেরেছে ?

ধানতলা, বানতলার গণধর্ষণের ঘটনায় আপনারা কোনোই প্রতিক্রিয়া দেখান নি। এই দুটি ঘটনায় পাইকারীভাবে মুসলমানরা ধর্ষণ করেছিলো হিন্দু মেয়েদেরকে। ক্যানিং, দেগঙ্গাসহ পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য জায়গায় মুসলমানদের দ্বারা হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছে, হিন্দুদের বাড়ী ঘর লুঠ হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে মেয়েদের সাজানো সংসার, সব ক্ষেত্রে হিন্দু মেয়েরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়েছে, এসব দেখতে দেখতে তাদের এই উপলব্ধি হয়েছে যে, হিন্দুরা তাদের নিরাপত্তার জন্য কিছুই করতে পারবে না, এবং এই বিষয়টা এক সময় অনেক হিন্দু মেয়ের বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। মেয়েরা শারীরিকভাবে পুরুষের চেয়ে কিছুটা দুর্বল বলে সব মেয়েই প্রথমত চায় শারীরিক নিরাপত্তা, আমরা কয়জন হিন্দু ছেলে মেয়েদেরকে সেই নিরাপত্তা দিতে সক্ষম ?

হাজার বছরের এই সব ইতিহাস পর্যালোচনা করে এবং বর্তমানের বাস্তব অবস্থা দেখে কোনো মেয়ের মাথায় যদি এই বিশ্বাস ঢুকে যে তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য তাকে কোনো মুসলিম ছেলের উপরই নির্ভর করতে হবে, তাহলে ঐ মেয়েক মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম এবং তাদেকে বিয়ে করার জন্য তাকে দোষ দেওয়া যায় কি ?

আবার কোনো মেয়ে এইসব ইতিহাস না জানলেও, শত শত বছর ধরে হিন্দু মেয়েদের জিনে যে নিরাপত্তাহীনতার ভয় ঢুকে আছে, সেই কারণেও সে অনায়াসেও কোনো মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম ও তাকে বিয়ে করতে পারে, সেক্ষেত্রেও তাকে কোনো দোষ দেওয়া যায় কি ?

আমরা হিন্দুরা সাত্ত্বিক জীবন যাপনের জন্য মাছ, মাংস পেঁয়াজ রসুন খাবো না, এভাবে শরীরের রক্তকে ঠাণ্ডা করে শরীরকে হীন দুর্বল করে নিজেদেরকে এক একটা নপুংসক বানাবো, তারপর বাড়িতে মুসলমানদের আক্রমন হলে, চোখের সামনে নিজের মা মেয়ে বউকে ধর্ষিতা হতে দেখেও প্রাণের ভয়ে চিৎকার করবো না, চুপ করে থাকবো এবং ভগবানকে ডেকে ডেকে বলবো, হে ভগবান তুমি আমাদের রক্ষা করো। ওরে নির্বোধ হিন্দু, যে হাতে অস্ত্র তুলে নেয় না এবং যার গায়ে শক্তি নেই, ভগবান তাকে সাহায্য করে না, সেটা কি তুই জানিস ?

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ কেনো অর্জুনকে গান্ডীব ধনুক হাতে নিয়ে যুদ্ধ করতে বলেছেন ?

যে কৃষ্ণ, গীতার বাণী বলার ও বিশ্বরূপ দেখানোর সময় যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত সবাইকে স্থির করে রাখতে পারেন, মাত্র ৪ বছর বয়সে যে কৃষ্ণ কালীয়নাগের মতো ভয়ংকর সাপকে জলের মধ্যে নেমে দমন করতে পারেন, ৭/৮ বছর বয়সে আঙ্গুলের উপর পর্বতকে তুলে ধরতে পারেন, অলৌকিক ক্ষমতা বলে দুর্যোধনের কারাগার থেকে নিজেকে মুক্ত করে দুঃশাসনকে বন্দী করতে পারেন, সেই কৃষ্ণ কি পারতো না তার মায়া বলে কুরুবংশের সকল অধর্মীকে বিনাশ করতে ? পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পাণ্ডবদেরকে দিয়ে যুদ্ধ করিয়ে এই লোক শিক্ষা দিলেন যে, যুদ্ধ করতে হবে নিজেদেরকেই। কিন্তু সেই শিক্ষা আমরা হিন্দুরা ভুলে গিয়ে শুধু চোখের জল ফেলছি আর এই বিশ্বাস করে বসে আছি যে, কেউ একজন এসে আমাদেরকে উদ্ধার করবে!

ওরে নির্বোধের দল, কোনো অবতার আসার অপেক্ষায় না থেকে নিজেকেই অবতার ভাব, হিন্দু জাতিকে শক্তিশালী কর, শক্তিশালী হওয়ার পথ দেখা, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়া, তাদেরকে রক্ষা কর; তারপর দেখ, যে মেয়ে তার নিরাপত্তার জন্য হিন্দুদের উপর বিশ্বাস রাখতে না পেরে মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম করছে এবং তাকে বিয়ে করার কথা ভাবছে, সেই মেয়েই এসে তোর পায়ে গড়াগড়ি খাবে, হিন্দু সমাজ তোকেই অবতার রূপে পূজা করা শুরু করবে।

%d bloggers like this: