এ ব্যাপারে এখানে যারা বিজ্ঞ পন্ডিত আছেন, তাদের কি মতামত?

Spread the love

আপেক্ষিক তত্ত্বের আবিস্কারক কে ? আইনস্টাইন নাকি মুহাম্মদ ??
==========================
গাধার পিঠে চড়ে সাত আসমান পাড়ি দিয়ে মুহাম্মদ নি:সন্দেহে রেকর্ড করেছেন। কারন দুনিয়ার কারও পক্ষেই ১৩২০ কোটি আলোকবর্ষ তো দুরের কথা এখনও পর্যন্ত এক আলোকবর্ষ দুরত্ব অতিক্রম করাও সম্ভব হয় নি। তাই কোরান ও হাদিসে মুহাম্মদের এ ধরনের মহাশূন্য ভ্রমনের যাবতীয় প্রাযুক্তিক জ্ঞান থাকার কথা। আমাদের উচিত সেগুলি রপ্ত করে কাফেরদের আগেই মঙ্গল গ্রহ অভিযান করে তা দখল করা।

কিন্ত এখনকার বিষয় সেটা না। বিষয় হলো কিছু কিছু যায়গায় দেখেছি , মুহাম্মদের গাধার পিঠে চড়ে মহাশূণ্য ভ্রমন থেকে কিছু কিছু তথাকথিত ইসলামী পন্ডিত আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিস্কার করে ফেলেছে। এটা নি:সন্দেহে তাদের আর এক মহা আবিস্কার। তাদের বক্তব্য মুহাম্মদ নাকি গাধার পিঠে চড়ে সাড়ে তের আলোক বর্ষ দুরত্ব পর্যন্ত অতিক্রম করেছিল। তাই যেতে আসতে সে মোট সাতাশ আলোকবর্ষ দুরত্ব অতিক্রম করেছিল। সে হিসাবে পৃথিবী থেকে নিকটতম বেহেস্ত সাড়ে তের আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত। তবে উক্ত ভ্রমনের যে বিষয়টার সাথে আপেক্ষিক তত্ত্বের মিল সেটা হলো – উক্ত সাতাশ আলোক বর্ষ দুরত্ব অতিক্রম করতে মুহাম্মদের নাকি মাত্র কয়েক মুহুর্ত সময় লেগেছিল। কারন আল্লাহ নাকি মুহাম্মদের কাছে সময়কে থামিয়ে দিয়েছিল। আর সেটাই হলো উক্ত মহাশূণ্য থেকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রমান। আর যেহেতু আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদ এটা আবিস্কার করেছিল তাই আপেক্ষিক তত্ত্বের মূল আবিস্কারক হলো মুহাম্মদ , আইনস্টাইন নয়।

এবার আপেক্ষিক তত্ত্বের ভিত্তিতে মুহাম্মদের গাধার পিঠে চড়ে মহাকাশ ভ্রমনের ব্যখ্যা করা যাক। এ তত্ত্ব মতে কোন মানুষ আলোর গতিতে চললেই সে মানুষের কাছে সময় থেমে যাবে। অর্থাৎ তার ঘড়ি বন্দ হয়ে যাবে। এভাবে মুহাম্মদ যদি আলোর গতিতে চলে বেহেস্তে গিয়ে আবার ফিরে আসে তাহলে সে দেখবে তার কাছে মনে হবে সেটা ছিল মুহুর্ত মাত্র কিন্তু পৃথিবীতে ফিরে এসে সে দেখবে এখানে সাতাশ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে কারন সে মোট সাতাশ আলোকবর্ষ দুরত্ব ভ্রমন করেছে। অন্যদিকে পৃথিবী বা পৃথিবীর মানুষরা তো মুহাম্মদের সাথে আলোর গতিতে ভ্রমন করে নি। তাই তাদের কাছে সময় থেমে না থেকে চলতেই থাকবে এবং তারা ইতোমধ্যে সাতাশ বছর অতিক্রম করে ফেলবে। সুতরাং মুহাম্মদের গাধায় ভ্রমন তত্ত্ব যদি সত্যিকার আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিস্কার করে থাকত তাহলে বাস্তবে যেটা হতো তা হলো – মুহাম্মদ গাধার পিঠে উঠে রওনা হয়ে আল্লাহর সাথে বাৎচিত করে ফিরে এসে যদি দেখত –তার কাছে মনে হচ্ছে সেটা মুহুর্ত মাত্র, অথচ পৃথিবীতে ইতোমধ্যে সাতাশ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে। অর্থাৎ সে ফিরে এসে যদি দেখত তার ৬ বছরের শিশু বধূ আয়েশা ৩৩ বছরের তাগড়া যুবতী হয়ে গেছে তাহলেই সেটা হতো আপেক্ষিক তত্ত্বের পক্ষে এক বিশাল ও অকাট্য প্রমান। আর তা হলেই আপেক্ষিক তত্ত্বের আবিস্কারক হিসাবে আইনস্টাইনের মত এক ষড়যন্ত্রকারী ইহুদির নাম কেটে মুহাম্মদের নাম রেজিস্ট্রি করা যেত।

এ থেকে একটা বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় – যারা মুহাম্মদের গাধার পিঠে চড়ে মহাকাশ ভ্রমন থেকে আপেক্ষিক তত্ত্ব আবিস্কার করত: তা প্রমানের জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে , তারা মিডিয়ার কল্যানে আইনস্টাইন ও তার আপেক্ষিক তত্ত্বের নাম শুনেছে মাত্র, কিন্তু আইনস্টাইন কে ও তার আপেক্ষিক তত্ত্ব কি তা তারা তে বটেই তাদের চোদ্দ গুষ্টির কেউ জানে না।

এ ব্যাপারে এখানে যারা বিজ্ঞ পন্ডিত আছেন, তাদের কি মতামত?

Rezaul Manik