বিদ্যাদেবী কথা ও ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা’র অসাম্প্রদায়িক সরস্বতী………….।।।

2ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলে , ইংরেজির জাঁদরেল শিক্ষক  ‘বিনয়’ বাবু স্যার পড়াচ্ছিলেন,
-She is the Goddess of learning, eloquence and wisdom.
–মানে স্যার ?
-তিনি হচ্ছেন বিদ্যা ,বাচন ও প্রজ্ঞা’র দেবী।
-আচ্ছা স্যার।
-She is dressed in a beautiful white outfit and she is accompanied by a white swan, symbolizing purity and tranquility.
-স্যার আবার যদি বলতেন?
-সুন্দর শুভ্র সাদা শাড়িতে দেবীর সঙ্গী হয় সাদা রাজহাঁস যা মূলত বিশুদ্ধতা এবং শান্তির এক প্রতীক।
-লাইনের শেষটা কিন্তু  সহজ নয় স্যার !
-She represents the union of power and intelligence.
-স্যার বেশ কঠিন লাগছে।
-তিনি শক্তি ও বুদ্ধি’র এক মিলিত রূপ।
-অনেক জটিল কিন্তু স্যার!
-Worship of her is symbolic of the constant search for knowledge and respect for creativity in art, music and speech.

-স্যার, এইবার কিন্তু একদমই বুঝতে পারলাম না !
-দেবীর প্রতীকী উপাসনা মানে,  নিয়ত জ্ঞান অনুসন্ধান এবং চারু সঙ্গীত এবং বাচন সৃজনশীলতায় সম্মান প্রদর্শন।
-স্যার মারাতমক  কঠিন কথা !
-আমি তো বাংলা ইংরেজি দুটোতেই বলছি, কঠিন কেন হবে?
-স্যার, ইংরেজি না বলে, এখন থেকে পুরোটাই বাংলায় বলেন, প্লিজ স্যার।
-আচ্ছা তোমরা বাংলায় দেবীর নাম লেখ তো দেখি ?
সনাতন ধর্ম সম্প্রদায়ভুক্ত ছাত্রগণ এইবার চরম বিপদে পতিত হইল । তাহারা লিখিল -সরসতী, সরসতি স্বরসতী , স্বরস্বতী ,সরস্বতি, স্বরস্বতি।
একমাত্র  ক্লাসের ফার্স্ট বয় ‘আবুল হোসেন’  ঠিক ঠিক লিখিয়া দিল ‘সরস্বতী’ ।
বিনয় বাবু স্যারের নয়নে অসম্ভব মুগ্ধতা পরিলক্ষিত হইল।  অতঃপর তিনি সবাইকে
আবুলের সামনে নীল ডাউন হইবার  নির্দেশ প্রদান করিলেন। আবুল, স্যারের এহেন
সিদ্ধান্তে অবাক হইয়া চক্ষু মুছিতে লাগিল।

আর এদিকে পাল মশায় ছাড়াই প্রতিবছর ‘বিদ্যা দেবী’ বানিয়ে চলছেন চারুকলার ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলে
-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ , নিয়মিত সরস্বতী পূজা’র আয়োজন করে থাকে ।
তন্মধ্যে জগন্নাথ হল পুকুরে’র প্রতিমাটি নির্মাণ করে শুধুমাত্র চারুকলা
বিভাগের ছাত্র ছাত্রীগণ । এই প্রতিমা’টি নির্মাণে পাল মশায়’র কোন খাওয়া
নাই। পূজার প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগেই এর নির্মাণ কাজ’টি শুরু করতে হয় ।
তাদের নির্মিত প্রতিমার -নির্মাণ পদ্ধতি ও উপকরণেও থাকে
নানাবিধ বৈচিত্রময়তা । প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শুধু  মাটি ও খড় দিয়ে এখানে
 প্রতিমা নির্মাণ করা হয় না । কাঠ বাঁশ বোর্ড দড়ি কাগজ বেত শোলা ইত্যাদি
বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হন দেবী  ‘সরস্বতী’ । দেবীর আকার হয় সুবিশাল ,উচ্চতা হয়  -প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ফুট ,  যা প্রস্থে হয়ে থাকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট।

দেখুন ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ‘চারুকলা’র সরস্বতী।

2010
2011
2012
2013
2014
2015
2016

২০১৭’র  নির্মাণ শেষ – জগন্নাথ হল পুকুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় আছেন, দেবী ।

3
6
5
2
4
ছবিঃ ইন্টারনেট ও লেখক