নাগর জানেন নিশ্চয়ই, নাগর ব্রাহ্মণ, নাগর কায়স্থ হন উত্তর ভারতে, তাঁরা পদবী হিসেবে অনেক সময়ে নাগরই লেখেন। তো মহামেধা নাগর নামে একটি ছাত্রী, আইন পড়েন, এবার ডুসু (দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচনে – কদিন পরেই নির্বাচন- সম্পাদকের পদে এবিভিপির প্রার্থী। তাই নিয়ে বিশাল মড়াকান্না শুরু করেছেন দেখি আজ সকাল সকাল বামেরা। কেসটা কি? না, এই মহামেধা সেই রামজস কাণ্ডের সময় নাকি কোন আজাদিপ্রিয় অধ্যাপককে পেঁদিয়েছেন, এমন অভিযোগ। প্রমাণ হয়নি অবিশ্যি, কিন্তু অভিযোগ আছে।

সেই রামজস মনে পড়ে গেল। সেই গলায় মাফ্লার জড়িয়ে ছুটে যাচ্ছেন প্রশান্ত চক্রবর্তী। উমর খালিদের বাকস্বাধীনতা রক্ষার জন্য সে কি জীবনমরণ সংগ্রাম। নিজের পরিচালিত গ্রুপে অবশ্য সপ্তডিঙার কণ্ঠরোধ করেছিলেন তিনি, কিন্তু আজ সে তুচ্ছ বিষয়ে ভাবলে চলে না। রামজস আজ স্বাধীন ভারতের পানিপথ, রামজস আজ কারবালার প্রান্তর। হায় হাসান, হাউ হোসেন করতে করতে ওই কারা মিছিল করছেন, বুক চাপড়ে চাপড়ে, কারা বিলাপ করছেন আজ ভারতে ফ্যাসিজমের উত্থানের মারাত্মক এই রাক্ষসীবেলায়? কে নেই সে মিছিলে? ফ্যাশনদুরস্ত বাম নেত্রী আছেন, বিপ্লবী মামনি আছেন, গাঁজাখোর র‍্যাডিক্যাল আছেন, পেশাদার জিগিরবাজ আছেন,  এবং পাতাখোর মাওবাদীও আছেন। ওই, ওই শুনুন এক বৃদ্ধ অধ্যাপক সুর করে ছাত্রদের শেখাচ্ছেন, সুন্দর সুন্দর আজাদি, পেয়ারি পেয়ারি আজাদি। মনিপুর মাঙ্গে আজাদি, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি।

এই পদ্মবনে, এই তপোবনে নিতান্ত বেরসিক মত্তহস্তীর মত হাজির মহামেধা নাগর। হাজির হয়েই কাকে যেন পেঁদিয়ে দিলেন। অভিযোগ, প্রমাণ  হয়নি। তবে পেঁদিয়ে থাকলে কোনও পণ্ডিতকেই প্যাঁদালেন। সে মহাযজ্ঞে তো শুধু পণ্ডিত আর পণ্ডিত, চারদিকে শুধু মহাজ্ঞানীরা বসে আছেন।

কি বিপজ্জনক ভাবুন। ভারত রাষ্ট্রকে টুকরো করতে চাওয়া তো প্রত্যেক অধ্যাপকের অধিকার। মা দুর্গাকে বেশ্যা বলে খিস্তি করা প্রত্যেক প্রগতিশীল আঁতেলের অবশ্যকর্তব্য। ছাত্রদের একমাত্র তপস্যা হল অধ্যয়ন, অর্থাৎ শুনে শুনে এইসব বিপ্লবের আত্তীকরণ করে নেওয়া। যাদবপুরে যেমন। ধেড়ে দাদারা ক্যাম্পাসে নিয়মিত বসে বসে কচি ভাইদের মগজ থেকে পাছু, সমস্তই ধোলাই করার বিপ্লবী কর্তব্য পালন করে চলেন। এবং এভাবে বিপ্লব এগিয়ে চলে, এভাবে ইতিহাস এগিয়ে চলে। এভাবে সেমিনার হয়, এবং এভাবে ভারতকে টুকরো করার ব্যাপারে, এবং মা দুর্গাকে বেশ্যা প্রমাণ করে ফুকোর উত্তর-স্ট্রাকচারালিজম, লাকাঁর মনোবিশ্লেষণ এবং পার্থ চ্যাটার্জির উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্বের ফ্রেমওয়ার্কে নানা মেধাসম্পন্ন আলোচনা চলে। উমর খালিদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন কচিকাচা কমরেড এবং তাদের দেড়েল ও ঘোড়েল অধ্যাপকেরা। এই চিন্তন তপোবনে যখন সেই ব্রাহ্ম মুহূর্ত আগতপ্রায়, ওই দূরে বুঝি দেখা যাচ্ছে খালিদের থুতনির সামান্য ছাগলদাড়ি, এমন সময়, এমন সময়, এমন সময়…

এমন সময় আচমকা হাজির মহামেধা নাগর। এবং এসেই পেঁদিয়ে দিলেন।

অভিযোগ, প্রমাণ হয়নি।

শোনা যায়, সুভাষ বসুর সেই ওটেন প্যাঁদানোও নাকি শেষমেশ প্রমাণ হয়নি।