কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (২৪ মে, ১৮১৩১১ মে, ১৮৮৫) উনিশ শতকের অন্যতম বাঙ্গালী মনীষী। তিনি ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল দলের সদস্য, শিক্ষাবিদ, ভাষাতত্ত্ববিদ । হিন্দুধর্মের বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন।

পারিবারিক পটভূমি

কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে কলকাতার
ঝামাপুকুর নামক স্থানে (বর্তমানে বেচু চ্যাটার্জি স্ট্রীট) মাতুলালয়ে
জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতামহ রামজয় বিদ্যাভূষণ তৎকালপ্রসিদ্ধ কলকাতার জোড়াসাঁকো নিবাসী শান্তিরাম সিংহের (কালীপ্রসন্ন সিংহের পিতামহ) সভাপণ্ডিত ছিলেন। কৃষ্ণমোহনের পিতা জীবনকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ পরগণা
জেলার নবগ্রাম নামক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বিদ্যাভূষণ মহাশয়ের কন্যা
শ্রীমতি দেবীকে বিবাহ করে তিনি শ্বশুরালয়ে বাস করতে থাকেন। উক্ত দম্পতির
কৃষ্ণমোহন ব্যতীত আরও দুটি পুত্র ও একটি কন্যা ছিল।[১]
তাদের মধ্যে ভুবনমোহন ছিলেন সর্বজ্যেষ্ঠ এবং কালীমোহন কনিষ্ঠপুত্র ছিলেন।
পরবর্তীকালে কৃষ্ণমোহনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কালীমোহনও খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষা
নেন। বংশবৃদ্ধি হওয়াতে জীবনকৃষ্ণ শ্বশুরালয় ত্যাগ করে গুরুপ্রসাদ চৌধুরী
লেনে একটি আবাসগৃহে নির্মাণ করে অতি ক্লেশে পরিবার প্রতিপালন করতে থাকেন।
এইসময় তাঁর স্ত্রী শ্রীমতী দেবী গৃহকার্যের সাথে সাথে বেতের দড়ি পাকিয়ে,
পৈতের সুতো তৈরী করে কিছু কিছু উপার্জন করতেন এবং তার দ্বারা সংসার
নির্বাহ করতে সহায়তা করতেন।

শিক্ষাজীবন

১৮১৯ সালে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় কালীতলায় ডেভিড হেয়ার প্রতিষ্ঠিত স্কুল সোসাইটি ইস্টিটিউশনে ভর্তি হন। অল্পদিনের মধ্যে তাঁর প্রতিভার পরিচয় পেয়ে ১৮২২ খ্রিষ্টাব্দে হেয়ার তাঁকে নবনির্মিত হেয়ার স্কুলে ভর্তি করে দেন। এরপর ১৮২৪ সালে তিনি স্কুল সোসাইটির অবৈতনিক ছাত্ররূপে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। ডিরোজিও হিন্দু কলেজে
শিক্ষক হিসাবে যোগদান করলে অন্যান্য ছাত্রদের মত কৃষ্ণমোহনও তাঁর প্রতি
আকৃষ্ট হন এবং নব্যবঙ্গ দলের অগ্রগণ্য সদস্য হয়ে ওঠেন। পরবর্তীকালে একাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি তার যুবক সভ্যদের নেতৃত্ব দিতে থাকেন।