কেন আমি বামপন্থীদের ঘৃণা করব না… !

ব্যস্ততার কারণে পোষ্টটা দিতে অনেক দেরী হয়ে গেলেও একেবারে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় নি। বামপন্থীদের জালিয়াতি, মিথ্যাচার – এগুলি চিরন্তন, কখনো পুরনো হয় না। নতুন নতুন রূপে ফিরে ফিরে আসে মাত্র ।

যেমনটা এসেছে কেরলে। কেরলের ভয়ঙ্কর বন্যার জল নেমে গেছে, কিন্তু রেখে গেছে বামপন্থীদের ঘৃণা করার অনেক রসদ। তথ্য প্রমাণ সহ একে একে তুলে ধরছি।

একেবারে প্রথম থেকেই বামপন্থীরা বেশ পরিকল্পনা করেই চুড়ান্ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে ত্রাণকার্যে RSS এর ভূমিকা নিয়ে। প্রায় কুড়ি হাজার স্বয়ং সেবক নিজেদের জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এই বিপর্যয় মোকাবিলায়। সবচেয়ে বড়ো কথা, নিজেদের বিশাল পার্টি তহবিল থাকা সত্ত্বেও নিজেদের টাকায় হাত না দিয়ে কৌটো নাড়িয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তোলা টাকা দিয়ে নয়, সম্পূর্ণ স্বয়ং সেবকদের নিজেদের টাকা দিয়ে। এই ত্রাণ শুধু দূর থেকে টাকা পাঠিয়ে দায়িত্ব খালাস নয়, এই ত্রাণ সরাসরি বিপন্নদের পাশে থেকে জান কবুল লড়াই। নয় নয় জন স্বয়ং সেবক মারা গেছেন দুর্গতদের উদ্ধার করতে গিয়ে সেই কেরালায়, যে বাম এবং জেহাদী ঘাঁটি কেরালায় জাতীয়তাবাদী যুবকদের নিয়মিত জবাই করা হয়। কমেন্টের ছবি গুলি দেখুন, সিপিএম নেতার বাড়ি পর্যন্ত পরিষ্কার করছে স্বয়ং সেবকরা। পরিষ্কার করছে মসজিদ এবং চার্চ। এটাই প্রমাণ করে রাষ্ট্র সেবাই যে এদের সবার উপরে, এরাই যে রাষ্ট্র সমর্পিত প্রাণ। অথচ এরপরও এরা সন্ত্রাসবাদী, এরা কট্টর মৌলবাদী!

যতোই প্রতিপক্ষ হোক, নিজেদের জীবন বাজি রেখে এইরকম নিঃস্বার্থ সেবার কি কোন অভিনন্দনও প্রাপ্য ছিল না? কিন্তু বামপন্থী আর এদের দোসর ইসলাম পন্থীরা এতোটাই ঘৃণ্য মানসিকতার যে, RSS এর এই অবদানকে মিথ্যা বলে প্রমাণ করতে আশ্রয় নিয়েছে চুড়ান্ত জালিয়াতির। এরা নিজেরাই প্রথমে হিন্দুত্ববাদী সেজে পুরনো অন্য জায়গার বন্যা বা ফটোশপড্ ছবি কেরালার বলে ছড়িয়ে দেয়। কিছু হিন্দুত্ববাদী সেটা না বুঝেই শেয়ার করে। এরপর ঐ মিথ্যেটাকে এরা সামনে এনে, এটাকে হাই লাইট করে এটা দিয়ে ঢেকে দেয় সত্যিটাকে। জালিয়াতরা প্রমাণ করার চেষ্টা করে এই ত্রাণের সবটাই জালিয়াতি, হিন্দুত্ববাদীরা জালিয়াত । ঠিক যেভাবে ভোজপুরী সিনেমার দৃশ্য পোষ্ট করে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বাদুড়িয়া বা বসিরহাটের হিন্দু নির্যাতন, হিন্দুদের কান্না।

এবার নিচের লিঙ্কে ক্লিক করে দেখে নিন নিজেরাই, যাচাই করে নিন ….,

মানুষগুলির চেহারা, চারপাশের দৃৃশ্য, টি শার্টের বা গাড়ির বিভিন্ন লেখাই যা বলার বলে দিচ্ছে, বলে দিচ্ছে এগুলি কোথাকার ।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=229993151014965&id=155218241825790

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1995925994031533&id=1591122534511883

কয়েকটা পুরনো বা জাল ছবির জন্য এঁদের এই সেবা, এই আত্মবলিদান মিথ্যা হয়ে গেল !

বামপন্থীরা কি এই জালিয়াতি ছাড়া আর কিছুই করে নি? করেছে…

বন্যায় যখন কেরালা বিপর্যস্ত, তখন প্রমোদ ভ্রমণে ব্যস্ত মন্ত্রী –

http://www.newindianexpress.com/states/kerala/2018/aug/18/keralas-forest-minister-k-raju-on-germany-tour-while-state-drowns-1859162.html

বন্যা ত্রাণের সামগ্রী চুরি করতে গিয়ে হাতে নাতে পাকড়াও –

https://english.mathrubhumi.com/amp/news/kerala/attempts-to-move-food-materials-to-party-office-conflict-at-relief-camp-in-vypin-1.3074148

ভুয়ো অ্যাকাউন্টে টাকা পাচার –

https://m.facebook.com/groups/315157581989080?view=permalink&id=1057183687786462

আর, আরব আমীরশাহীর সাতশো কোটি টাকা সাহায্যের ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সারা রাজ্য জুড়ে অভিনন্দন বার্তায় সারা রাজ্য ছয়লাপ করে ঐ ইসলামিক দেশকে মহিমান্বিত করার এবং এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মুন্ডুপাত করার জালিয়াতির খবর তো সবাই জানেনই। এই খবরের লিঙ্ক তো অসংখ্য। একটা দিলাম –

https://m.timesofindia.com/india/no-aid-finalised-officially-for-kerala-flood-relief-uae-officials/articleshow/65532540.cms

দু কান কাটা চুড়ান্ত নির্লজ্জ না হলে কি তাহলে বামপন্থী হওয়া যায় না?

আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, এদেশের আরবী নামধারীরা না হয় নিজেদের ভারতীয় না ভেবে অনাবাসী আরব ভাবে, তাই আমীরশাহীর ভুয়ো সাহায্য নিয়ে এত লাফালাফি করছিল। কিন্তু বামপন্থীরা? ভুয়ো খবর ছড়িয়ে একটি মুসলিম দেশকে এভাবে মহিমান্বিত করার চেষ্টার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? ঐ যে টিক্কা খান বলেছিল – মুসলমানদের ধর্ষণজাতরা জৈবিক পিতার হয়েই কথা বলবে ভবিষ্যতে সবসময় – সেটাই কি?

আরেকটা ব্যাপার – বামপন্থীরা তো আমীরশাহীর খবরটা সত্যি ধরে নিয়েই অভিনন্দনের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল। কিন্তু একবারও কি এদের মনে প্রশ্ন জাগলো না, এর আগে এর চেয়ে ভয়াবহ উত্তরাখন্ডের বন্যায় কেন এই দেশ গুলি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় নি? বামপন্থীরাও কি তাহলে জানে, ইসলামে যে মানবতা বলতে আসলে কোন শব্দ নেই, যেটাকে মানবতা বলে ভুল করে সবাই, সেটা যে আসলে মুসলিম উম্মাহর প্রতি সংহতি।

যাই হোক, আমি RSS এর সঙ্গে যুক্ত নই। আমি তো জানতাম, আমি তো সবসময়ই শুনি RSS নাকি সন্ত্রাসবাদী। যদিও কোনদিন কারোর গলা কাটতে দেখি নি, তবুও নাকি ISIS এর সমতুল্য। কিন্তু যেখানেই দুর্যোগ , এরা নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। হোক না গুজরাত বা বাম আর মুসলিম অধ্যুষিত কেরল। ISIS ও বুঝি ঠিক এমনটাই করে?

তাহলে এই বিরোধিতা, এই অপপ্রচারের পেছনে রয়ে গেছে অন্য কোন উদ্দেশ্য?

অনেকে বলবেন বামপন্থীদের ধর্মীয় মৌলবাদ বিরোধী উন্নত প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রভাবে কেরলের মানুষ ধর্মীয় প্রভাব মুক্ত হতে পারছে, সবচেয়ে শিক্ষিত রাজ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ হীন ধর্মীয় গোঁড়ামি মুক্ত আধুনিক উন্নত সমাজের স্বপ্ন দেখতে পারছে – এটা তো ভালোই। কিন্তু আসলে কি তা’ই? বামপন্থা কি সত্যিই সব সম্প্রদায়কেই সেক্যুলারিজমে দীক্ষিত করছে? নাকি শুধু হিন্দুদেরই একতরফা সম্প্রীতি আর সেক্যুলারিজমের নেশায় বুঁদ করে রেখে, হিন্দুদের মধ্যে আত্মঘৃণার বীজ বপন করে ইসলামিক আগ্রাসনের পথ প্রশস্ত করার জন্য কাজ করে চলেছে?
যে বামপন্থা নেপালে হিন্দুদের ধর্ম ভুলিয়ে দিয়েছে, যে বামপন্থার প্রভাবে কেরল সহ ভারতের যেখানে যেখানে বামপন্থীদের প্রভাব আছে, সেখানে হিন্দুরা ধর্ম ভুলে গেছে। সেই বামপন্থা কি কেরলে মুসলমানদের সেক্যুলার বা ধর্ম মুক্ত করতে পেরেছে? যে বামপন্থী কেরলে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী যুবকদের একের পর এক জেহাদী কায়দায় খুন করা হয়, সেই কেরল থেকেই কি মুসলিম যুবকরা দলে দলে আই এস এ যোগ দিতে যায় না? সেই প্রগতিশীল শিক্ষিত কেরলেই কি মধ্যযুগীয় শরিয়তের সমর্থনে সারা দেশে সাড়া জাগানো সুবিশাল মিছিল বেরোয় না ? বামপন্থীরা খুব ভালো করেই জানে এটা যে, এদের এই প্রচেষ্টা যে ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন হিন্দুদেরই শুধু ধর্ম বিমুখ করে দিচ্ছে, অন্যদের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর এদের যে বিন্দু মাত্র প্রভাব পড়ছে না ।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দেশের যেখানেই বামপন্থীদের প্রভাব, সেখানেই জেহাদীদের ঘাঁটি । তাহলে কি জেহাদীদের জমি তৈরি করে দেওয়াই বামপন্থীদের কাজ? এরা ধর্মীয় মৌলবাদ বিরোধিতার নামে শুধু হিন্দু ধর্মকে যে দুর্বল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, তা নয়। কেরলে হিন্দি
ভাষা বা উত্তর ভারতের বিরোধিতা, রাম এবং কৃষ্ণের বিরোধিতার আড়ালে আসলে চলছে ভারত বিরোধিতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের চাষ।

তাহলে কি আসলে এদের অতি কাঙ্খিত ইসলামিক আগ্রাসনের পথে, এদেশকে ইসলামিক জেহাদিদের হাতে তুলে দিতে সবচেয়ে বড় বাধা এই জাতীয়তাবাদী সংগঠন, এজন্যই ত্রাণের মত মহতী কাজ নিয়েও দেশদ্রোহী শক্তির এই মিথ্যা গোয়েবলসীয় অপপ্রচার?

সৌজন্যেঃ শ্রী  Anirban Dasgupta ….।।