আপনাদের আশেপাশে ফেইসবুক চালানো যত হিন্দু আছে, এদের সবাইকে বুঝিয়ে বলুন ফেইসবুকের সিকিউরিটির ব্যাপারটা। অন্তত তা না পারেন, দয়া করে এই লেখাটা শেয়ার করুন এদের ওয়ালেঃ

১। ফেইসবুকে একাউন্ট না থাকলে, খোলার দরকার নেই। ফেইসবুক এমন কোন মহার্ঘ্য জিনিস না যে আপনাকে একাউন্ট খোলতেই হবে। যে সময়টুকু নষ্ট হবে ফেইসবুকে, সে সময়টা পরিবারের সাথে দিন। নিজের প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করুন। ছেলেমেয়েদের ভালমন্দের খোঁজখবর নিন।

২। আপনি যদি অশিক্ষিত হয়ে থাকেন কিংবা শিক্ষিত হলেও ইন্টারনেটের দুনিয়া সম্পর্কে একেবারেই জানেন না, আপনার জন্য ফেইসবুক মৃত্যুফাঁদ। ঢুকবেন না। বরং ১ং পয়েন্টে উল্লেখিত নিচের কাজগুলো করুন ভাল সময় কাটানোর জন্য। এরপরও যদি আপনি চান ফেইসবুকে একাউন্ট খোলতে এবং নিজে খোলার মুরোদ নেই আপনার, সেক্ষেত্রে কখনোই কোন মুসলমানের কাছে গিয়ে একাউন্ট খোলবেন না। এলাকার কোন শিক্ষিত এবং পুরানো ফেইসবুক ব্যবহারকারী হিন্দু যুবক/যুবতীর কাছে গিয়ে সাহায্য চান এ ব্যাপারে। একাউন্ট যেই খুলে দিক, কাগজ-কলমে আপনার ইমেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড লিখে নিয়ে আসুন তার কাছ থেকে এবং অবশ্যই একটু পরিচিত হওয়ার পরে পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করে ফেলুন এবং নিরাপদ কোন জায়গায় লিখে রাখুন।

৩। নতুন ব্যবহারকারীরা কোন মুসলমানকে ফ্রেন্ড লিস্টে এড করবেন না। করতে হলেও আগে ভাল করে চিন্তা ভাবনা করুন এই ব্যক্তি ভবিষ্যতে আপনার ছবি ব্যবহার করে ইসলাম অবমাননামূলক কোন পোস্ট করবে কি না এবং আপনার বাড়িতে আগুন লাগাবে কি না। রসরাজের কথা ভুলে যাবেন না। আপনিও হতে পারেন আরেক রসরাজ। পুরাতন ব্যবহারকারীরা মুসলমানদের আনফ্রেন্ড করুন। আগে বাঁচতে হবে, পরে ফেইসবুক এবং বন্ধুত্ব।

৪। দয়া করে নিজের যে কোন পোস্ট শুধু আপনার বন্ধুদের জন্য উন্মুক্ত রাখুন। দুনিয়ার সবাইকে দেখিয়ে বাহবা কুড়াতে চাইলে ফেইক আইডি খুলুন। কিন্তু নিজের আসল একাউন্ট থেকে অবশ্যই না। যখন কোন পোস্ট লিখবেন, মোবাইল এপের উপরের দিকে নিজের নামের নিচে একটা আয়তকার বক্স দেখবেন। সেটাতে ক্লিক করে শুধু “Friends” চুজ করুন। সবাইকে আপনার চমতকার লেখার হাত না দেখালেও চলবে। কেন, শুধু ফ্রেন্ডস করে রাখবেন? কারণ পাবলিক থাকলে যে কেউ আপনার সকল পোস্ট এবং সকল ছবি দেখতে পারবে এবং পরবর্তীতে আপনারই ছবি দিয়ে আপনার নামে নকল একাউন্ট বানিয়ে ইসলামকে অবমাননা করে পোস্ট দিয়ে দোষ দিবে আপনাকে। বাড়িঘর পুড়বে আপনার, জান যাবে আপনার, বেঁচে থাকলে পুলিশের মাইর খাবেন আপনি।

৫। এবার যেহেতু আপনি আপনার একাউন্ট সেকিউর করেছেন, অযাচিত মুসলমানদেরকে আনফ্রেন্ড করেছেন, পোস্ট ফ্রেন্ডস অনলি করেছেন ভাবছেন নিশ্চয়ই আপনি নিরাপদে যা খুশি তাই করতে পারবেন। কিন্তু না, আপনার ধারণা ভুল। আপনার একাউন্ট এখনো নিরাপদ না। আসলে অনলাইনে আপনি কখনোই নিরাপদ না। যেকোন মূহুর্তে আপনার আইডি হ্যাক হতে পারে। তাই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনার পাসওয়ার্ড কেউ পেয়ে গেলেও যখনই এই পাসওয়ার্ড সে ব্যবহার করতে চাইবে, আপনার ফোন নাম্বারে ফেইসবুক থেকে একটা কোড আসবে, যে কোড হ্যাকারকে তার নতুন কম্পিউটার বা ফোনের নতুন ব্রাঊজারে চাপতে হবে আপনার একাউন্টে লগইন করার জন্য। যেহেতু হ্যাকারের কাছে আপনার পাসওয়ার্ড আছে কিন্তু ফোনে পাঠানো কোড নেই, তাই সে আপনার একাউন্টে লগইন করতে পারবে না।

৬। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটা সবার নিচেই লিখি। দয়া করে আপনার পরিবারে ছবি ফেইসবুকে দিবেন না। প্লিজ একটা জিনিস সারাক্ষণ মাথায় রাখুন আপনি একটি মুসলমান দেশে বাস করেন, যেখানে আপনার স্ত্রী-কণ্যারা গণিমতে মাল। তাই ভুলেও আপনার কণ্যার কিংবা স্ত্রীর কিংবা বোনের ছবি আপলোড দিবেন না। এই ছবি দিয়ে কেউ নকল আইডি খুলবে, সেটা যে সব সময়ই হবে তা কিন্তু না। এই ছবি দেখে কোন মুসলমানের যদি লালসা আসে কি করবেন আপনি? কিছু করার আছে বা থাকবে যদি আপনার মেয়েকে বা বোনকে বা স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়?

আরেকটা জিনিস মাথায় রাখবেন, অন্য কারো সাথে নিজের খোমাখানার ছবি তুলতে একবার ভাবুন এই এই ছবির মিসইউজ হবে না তো। ইদানিং এক শ্রেণীর ফালতু পোলাপান আছে যারা যার তার সাথে সেলফি তোলে ফেইসবুকে আপলোড দেয়। আপনার এলাকায়ও এসব পোলাপানের অভাব নেই নিশ্চয়ই। প্রাইভেসি, প্রাইভেসি, প্রাইভেসি। যতটুকু পারা যায় সর্বোচ্চ প্রাইভেসি বজায় রাখুন।

বিঃ দ্রঃ এখানে ব্যবহৃত ইংলিশ শব্দগুলো যেমন একাউন্ট, ইমেইল আইডি, পাসওয়ার্ড, ক্লিক, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, ব্রাঊজার, আপলোড ইত্যাদির সাথে যদি আপনার পরিচয় না থাকে, তবে বাংলাদেশে ফেইসবুক চালানো আপনার জন্য পাপই না শুধু, বিপজ্জনক এবং আত্মঘাতীও বটে। তাই নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান, আপনার সম্প্রদায়কে বাঁচান।