ইসলামী ফাউন্ডেশন নামের কোন প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়ার অর্থ হচ্ছে গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা। ইসলামী ফাউন্ডেশনের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে ইসলামী বইপত্র প্রকাশনা করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া। একটা দেশের সরকার যখন জনসংখ্যা বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে জনগনকে সচেতন করতে প্রচার চালাবে তখন এই ইসলামী ফাউন্ডেশন হাদিসের বই ছেপে সারা দেশে পৌঁছে দিবে- ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্র করা হারাম। কারণ কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে তা আগেই ঠিক করা। মানুষ চাইলেও তা রোধ করতে পারবে না। এ কারণে নবীজি সাহাবীদের আজল (জোনির বাইরে বীর্য ফেলা) করতে নিষেধ করেছেন (সহি বুখারি , ভলিউম-৫,  বুক নং-৫৯, হাদিস নং-৪৫৯)।

স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার করতে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। খোলা খাবার যেখানে মাছি বসে তা খেতে নিষেধ করা হচ্ছে। কিন্তু ইসলামী ফাউন্ডেশন তাদের ছাপানো হাদিস বইতে দেখাবে, নবীজি বলছেন, তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে। কেননা তার এক ডানায় রোগ জীবাণু থাকে আর অপরটিতে থাকে প্রতিষেধক (বুখারি হাদিস নং ৩০৮৬)। যে মাছি একটু আগে গুয়ের উপর বসে এসেছে, তাকেই হাত দিয়ে ডুবিয়ে দিতে হবে খাবারে! এরকম হাদিস পাঠ করলে মাছি বসেছে এমন খাবার খেতে কোন ধার্মীক মুসলমানই ভয় পাবে না। মনে হবে না খোলা খাবার খেলে শিশুরা কলেরা ডাইরিয়াতে আক্রান্ত হবে। মানুষ তো ধর্মের কথাকেই অভ্রান্ত মনে করবে। একদিকে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রচার করবে মশা-মাছি রোগ ছাড়ায়। মাছি বসেছে এমন খাবার না খেতে। অন্যদিকে ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রচার করছে মাছির ডানায় প্রতিষেধক আছে!

ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতি বছর তাদের প্রকাশনী থেকে বিপুল পরিমাণ ইসলামী বই প্রকাশ করে। এই বইগুলোতে থাকে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করে কুরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। ইসলামী সমাজ বাস্তবায়ন করতে দেশের নারী সমাজকে পর্দার নামে গৃহে অবরুদ্ধ করার হাজার হাজার হাদিস ছাপছে জনগণের রক্ত পানি করা ঘামের পয়সায় সরকারের রাজস্ব থেকে। কি করে জিহাদ করতে হবে, তাগুদি শাসনের বিরুদ্ধে কখন মুসলমানরা একজন ইমামের নেতৃত্ব জিহাদ ঘোষণা করবে, জিহাদ কেন মুসলমানদের জন্য ফরজ- এরকম শত শত হাদিসের বই, ইসলামী পন্ডিতদের লেখা বই, মতামত প্রকাশ করে চলেছে ইসলামী ফাউন্ডেশন। গুলশান হামলাকারীরা ক্যাপ্টাগন পিল খেয়েছিল কিনা তার ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল। অথচ ইসলামী ফাউন্ডেশন নামের একটা দানবকে তৈরি করে বাড়বাড়ন্ত করে চলেছে যে কিনা শত শত গুলশান হামলার কিলার তৈরি করতে সমর্থ রাখে…।

জঙ্গিবাদ বেড়ে যাবার পর সরকার থেকেই জনগণকে নিজেদের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে বেশি করে চর্চা করতে আহ্ববান করা হয়েছিল। ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম একজন মুসলমানকে কিছুতে এই মাটির সন্তান ভাবতে অনুপ্রাণিত তো করবেই না, বরং শাহজালালের মত বিদেশী কোন দরবেশকে নিজেদের বংশধর ভেবে বসে থাকবে। ইসলামী ফাউন্ডেশন উর্দু ভাষাতে তাদের নতুন মাদ্রাসা শিক্ষাক্রম চালুর ঘোষণা বাঙালী মুসলমানকে স্রেফ মুসলমান আইডেন্টিতে প্রতিষ্ঠিত করার একটা চক্রান্ত। ভাষাই জাতিসত্ত্বার নিউক্লিয়াস। বাংলা ভাষার বদলে উর্দুতে শিক্ষাক্রম শুরু করলে বিপদটা আরো বেশি। উপমহাদেশে উর্দুকে মুসলমানদের ভাষা মনে করা হয়। আওয়ামী আলেমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মিশিয়ে সেই চক্রান্তটা সরকারের সহযোগীতায় বাস্তবায়ন যে করে ফেলবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ সরকার ইসলামের খেদমত করার ওপেন ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছে…।