ইসলামের মুখোশ উন্মোচন করলেই তাকে হিন্দু মৌলবাদী, শিবসেনা, ইত্যাদি ট্যাগ খেতে হয়।

“সুইডেন প্রবাসী এক ‘বামৈস্লামিক’ লাগাতার আমাকে নিয়ে কুৎসা রটনা মিথ্যাচার করে পোস্ট দিয়ে চলেছে। উদ্দেশ্য যে করেই হোক পাঠকদের মধ্যে একটা দ্বিধা সন্দেহ ছড়ানো যে সুষুপ্ত ‘হিন্দুত্ববাদী’, লেখায় রেফারেন্স দেয় না, সে ইসলাম বিদ্বেষী, সে আসলে ইসলামের কিছুই জানে না… ইত্যাদি। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি কুটকৌশল। যেমন বামৈস্লামিকের পেয়ারা নবীজি ‘ইহুদীরা মুসলমানদের দুষমন, ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’ এটি লাগাতার বলতে বলতে তার উম্মতদের কাছে ইহুদী মাত্রই মানুষের অযোগ্য একটা থিমে পরিণত করতে পেরেছে। যেমন ভারতবর্ষে ‘হিন্দুদের কারণে মুসলমানরা পিছিয়ে পড়েছিলো’ লাগাতার মুসলিম ও বাম ঐতিহাসিকদের লেখার কারণে ধারনা হয়ে গেছে হিন্দুরা বুঝি মুসলমানদের লেখাপড়া শিখে বড় হতে দেয়নি। আসল সত্য হচ্ছে নবাব বাদশাহদের যুগে অর্থ্যাৎ মুসলিম শাসনে রাজভাষা ছিলো ফারসি। মুসলমানরা এই ভাষাটিও ভালো করে শিখেনি। হিন্দুরা বরাবরই লেখাপড়ায় এগিয়ে ছিলো। মুসলিম শাসনেরও তারা এক পর্যায়ে ফারসী আরবী শিখে নিয়ে রাজদরবারে বড় বড় পদে চাকরি করেছে। ইংরেজ আমলেও ইংরেজি শিখতে মুসলমানদের কেউ বাধা দেয়নি। বরং ইংরেজ আমলে শিক্ষিত হিন্দুদের গ্রামে স্কুল করার যে চল শুরু হয়েছিলো তাতেই দু-চারজন মুসলমানের ছেলে মাদ্রাসায় আরবী ফারসী শেখার বদলে ইংরেজি শিখে মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চত্য আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত জেনারেশনের সূচনা ঘটিয়েছিলো। আমি অতি ক্ষুদ্র একজন অনলাইন লেখিয়ে। আমার বিরুদ্ধে লাগাতার কুৎসা রটনা তাই বারবার বলা মিথ্যার সত্য হবার মত সুযোগ অনেক বেশি।

ব্যক্তিগতভাবে যারা আমাকে নিয়ে কুৎসা রটায় তাদের নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে শেষতক জবাব দিতেই হয়। লেথাটি দীর্ঘ হতে পারে, তবু পাঠক পুরোটা না পড়লে অনেক কিছু বুঝতে পারবেন না। শুরু করি নাস্তিকদের ব্লগের লেখালেখি দিয়ে। নাস্তিকদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে লেখালেখিকে ইসলামিস্ট ব্লগাররা শুরু থেকে অভিযোগ করেছিলো, আমরা ভুল রেফারেন্স দেই। আমরা ইসলাম বিদ্বেষী কারণ হিন্দু ধর্ম নিয়ে আমরা কম লেখি। এগুলোর জবাব ছাগুদের বহুবার দেয়া হয়েছে। এখানে তাই আবার বিস্তারিত বলতে গেলে লেখা আরো দীর্ঘ হবে। তাই বিরত থাকলাম। মজাটা হচ্ছে ছাগুদের এইসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আশ্চর্যজনকভাবে কালের বিবর্তনে কিছু ‘বাংলাদেশী বাঙালী মুসলিম জাতীয়তাবাদী নাস্তিক’ মুক্তমনুর গলায় শোনা যেতে লাগল। এদের একজন আমার উদ্দেশ্যে লিখেছিলো, আমি ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে যা লিখি তার জন্য জঙ্গি দরকার নেই সাধারণ মুসলমানরাই আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে…’।

এবার সাম্রাজ্যবাদী সুইডেনের তেল-ঘি খেয়ে মানুষ হওয়া বামৈস্লামিকের অভিযোগের কথায় আসি। তার একটা অভিযোগ, আমি পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের মুসলমানদের আন্দোলন সংগ্রামকে জিহাদ ট্যাগ দিয়ে তার বিরোধীতা করি…। বিজ্ঞ পাঠক খেয়াল করুন তার অভিযোগের মধ্যেই তার ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদের’ পরিচয় তিনি রেখে গেছেন! যখন আমি বলব ‘মুসলমানরা’ তখন সেটি ধর্মীয় পরিচয়। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। কেউ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে জিহাদ বলতে পেরেছে? ইন্দিরা গান্ধি কি বিদেশীদের কাছে বলেছিলো, পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের মেরে ফেলছে? মুক্তিযোদ্ধারা কি কোন অপরেশন সফল করার পর ‘নারায়ে তাকবিব আল্লাহ আকবর’ ধ্বনি দিতো নাকি ‘জয় বাংলা’ বলত? কিন্তু যখন আপনি ‘মুসলমান’ বলে কোন গোষ্ঠির লড়াইকে পরিচয় করিয়ে দিবেন তখন আপনি স্বীকার করেই নিচ্ছেন তারা মুসলমান হিসেবেই লড়াই করছে। কাস্মির থেকে ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা থেকে সিরিয়া সবখানেই এই ‘মুসলিমদের’ লড়াই জিহাদের চেহারা নিয়েছে। গুলি ছুড়েই বলছে ‘আল্লাহ আকবর’। ফিলিস্তিনী মুক্তি সংগ্রাম এখন পুরোপুরি খিলাফতবাদী জিহাদের দখলে। কাস্মির এখন মুসলমানদের হয়ে লড়ছে তালেবান আইএসের মতালম্বী দলগুলো। আমি বারবার মুসলমানদের সতর্ক করে লিখি তাদের জিহাদী চেহারার লড়াই কোনদিন মুক্তি দিবে না কারণ তাদের তথাকথিত মুক্তি তখন শরীয়া শাসনের শিকলে বাধা পড়বে। মুসলমানদের চিন্তার জগতে এই ঘা দিয়ে কি আমি অন্যায় করেছি? ভারতবর্ষে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনকেও এই ‘মুসলমান পরিচয়ে’ বিভক্ত করে ফেলেছে। তিতুমীর হাজি শরীয়তুল্লাহ ওহাবী মতালম্বী ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ইংরেজ হটিয়ে ইসলামী খেলাফত কায়েম করা। জামাত শিবিরের ফেইসবুক পেইজের নাম তাই তিতুমীরের ‘বাঁশের কেল্লার’ নামানুসারে রাখা হয়েছে। ভারতীয় মুসলমানরা খিলাফত আন্দোলন করেছিলো। কতখানি আত্মপরিচয় নিয়ে মিথ্যার মধ্যে থাকলে তুরস্কের খেলাফতকে রক্ষা করতে ভারতের মুসলমানরা আন্দোলনে নামে? তুরস্কের খলিফাকে নিজেদের খলিফা ঘোষণা দেয়? সর্বভারতীয় নেতাদের সেইদিনই ভারতের মুসলমানদের নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন মনে সচেতনভাবে জেগে ছিলো। শরৎচন্দ্র এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের কথপোকথনটা কি কেউ দেখেছেন? আমি মুসলমানদের ভ্রান্ত ‘মুসলিম জাতীয়তাবোধ’ নিয়ে লিখে তাদের জাগাতে চেয়েছি মানুষ পরিচয়ে। যদি তাদের ক্ষতি চাইতাম তাহলে পিনাকীর মত মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে কথা বলতাম। বিদ্যাসাগর থেকে শরৎচন্দ্র, চাবুক হাতে হিন্দু সমাজের উপর নির্মম কষাঘাত করেছেন। সেই একই কাজকে আমি যখন মুসলমান সমাজের উপর করছি তখন বলা হচ্ছে, কেন আমি খালি মুসলমানদের দোষ খুঁজে বেড়াই!

খালি মুসলমানদের দোষ খুঁজে বেড়ানোর মানেই তাদের নিয়ে বেশি ভাবি। শরৎচন্দ্র খালি হিন্দুদের জাতপাত সামাজিক নিপীড়ন নিয়ে লিখে হিন্দু শিক্ষিত বইপড়া সমাজে বড় ধরণের সংস্কারপণ্ন মানসিকতা তৈরি করতে পেরেছিলেন। তাকে কেউ বলেনি শরৎ খালি হিন্দুদের দোষ খুঁজে পায়- কেন সে মুসলমানদের ধর্ম নিয়ে লেখে না? কেন খালি বামৈস্লামিকের পেয়ারা নবীকে নিয়ে লিখি- কেন হিন্দুদের কৃষ্ণকে নিয়ে লিখি না। কেন যীশুকে নিয়ে লিখি না। আসল কথা কেন হিন্দু ধর্মের ধর্ষক ঈশ্বর ইন্দ্রকে নিয়ে না লিখে খালি মুহাম্মদের যৌনদাসী সহবত করা নিয়ে লিখি। মনের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজন অনেক লেখাপড়া বুদ্ধি বিবেচনাও সংশোধন করতে পারে না। নইলে কেন এই প্রশ্ন মনে আসবে অমুককে নিয়ে লেখো তাহলে তমুক নিয়েও লিখতে হবে। যদি এরকম স্বধর্ম পক্ষপাত এদের না থাকত তাহলে মাথা খাটিয়ে দেখত কৃষ্ণ জয়তুন ডাল দিয়ে দাঁত মাজে বলে সব হিন্দুরা সেই জয়তুনের ডাল দিয়ে দাঁত মাজাকে সুন্নত বলে না! এমনি কি মাজলে সব হিন্দু সেটা অনুসরণ করতও না। কৃষ্ণ হিন্দুদের একক কোন ‘নবী’ না। আবার ইসকন কৃষ্ণ বাদে বাকী দেব-দেবীদের আরাধনায় নিরুৎসাহিত। এসব কারণে ইসকনদের বাকীরা ‘অহিন্দু’ ঘোষণা করতে জঙ্গি আন্দোলন শুরু করেনি। যেমনটা আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে সুন্নি শিয়ারা, শিয়াদের বিরুদ্ধে সুন্নিরা করেছে। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীকে নিয়ে একাডেমিক লেখা, জানার জন্য গবেষণাধর্মী লেখা এক জিনিস আর প্রতিনিয়ত কুরআন আর হাদিসের বাস্তবায়নে সারা বিশ্বকে অস্থির করে রাখা একটা ধর্ম ও তার পয়গম্ব কি করে অন্য ধর্মের সঙ্গে সমানতাল আশা করতে পারে? আমাদের কি ভারসাম্য রাখতে গিয়ে ন্যায্য বিশ্লেষণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে? জামাত ইসলামী বা খেলাফত ইসলামের মত দলকে কি বিজেপি ক্যাটাগরিতে পড়ে? আমি লিখেছি ভারতের হিন্দুত্ববাদ বা হিন্দু মৌলবাদকে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনে পরাস্ত করা সহজ কারণ হিন্দুত্ববাদী বা হিন্দু মৌলবাদীদের হিন্দু ধর্মের ভিত্তিতে সমগ্র হিন্দু জনগোষ্ঠিকে এক করতে পারবে না। হিন্দু মৌলবাদীদের কুরআন হাদিসের মত অথেনটিক কোন সোর্স নেই। মুসলিম মৌলবাদীরা যেখানে একজন ইহুদীর প্রতি চরম ঘৃণা জাগাতে একজন ধার্মীক মুসলমানকে হাদিস থেকে প্রমাণ দেখাতে পারে তেমন করে হিন্দু মৌলবাদ পারে না। বর্তমান পৃথিবীতে একমাত্র মুসলমান ছাড়া ধর্মীয় পরিচয়ে অন্যের রক্ত ঝরাচ্ছে এমন কোন সম্প্রদায় পাওয়া যাবে না। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ বাধাচ্ছে- তাকে কোন বামৈস্লামিক বলতে পারবে সেটা খ্রিস্টানিটি? জিহাদকে মোকাবেলা করতে হবে ধর্ম দিয়েই। মুসলিম জাতীয়তাবাদ থেকেই জিহাদ। অর্থ্যাৎ প্যান ইসলামিজমই ফান্ডামেন্টালিস্টদের ডেকে আনে। যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের প্যান ইসলামিজম যখন তুঙ্গে তখন জনগণের মুসলিম জাতীয়তাবাদ চেতনাকে কাজে লাগাতে মাওলানা মওদুদি জামাতে ইসলাম গঠন করেছিলেন। একবার যখন নিজেকে বুক চাপড়ে ‘মুসলমান’ বলে গর্ব কবুল করেছেন তখন কুরআন হাদিসের মত মুসলমান হতে আর বাধা কি?… এই যে আমার বিশ্লেষণ, এ থেকে মুসলমানের চিন্তার মরচে পড়া দরজায় ঘা অনুভূত হবে না? এতে কি মুসলমানদের উপকার হলো নাকি অপকার? তাহলে কোন মতলবে বামৈস্লামিক আমাকে ‘মুসলিম বিদ্বেষী’ বলে দাবী করছে?

বিপ্লব পাল ও সন্ন্যাসী রতনকে ‘হিন্দু নাস্তিক’ বানিয়েছে এই গ্রুপটিই। তসলিমা নাসরিন একবার ফেইসবুকে ছবি দিলেন দুর্গা পুজার মন্ডবে গিয়েছিলেন পুজা দেখতে। ঘন্টা বাজিয়ে একটা ছবিও ছিলো। সেটা নিয়ে কোন কথা উঠেনি। কিন্তু যেই বাকী দুজন এরকম কিছু করেছেন অমনি তাদের ছুপা হিন্দু, ইসলাম বিদ্বেষী কিন্তু তলে তলে হিন্দুপ্রেমী… ইত্যাদি বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। এদের মনে কতখানি ধর্মীয় পরিচয় কাজ করে গোপনে সেটি তাদের এই অবস্থান থেকেই স্পষ্ট। দুর্গাপুজায় বাংলাদেশে যত ভীড় হয় তার অর্ধেক হয় মুসলমানদের দ্বারা। তারাও পুজা দেখতে যায়। আমোদ দেখতে যায়। মেয়ে দেখতে যায়। আবার কঠিন শিরকও কেউ কেউ দেখতে যায়। একইভাবে উৎসবে যোগ দেবার মতও প্রশস্থ মনের কিছু মুসলমানও যায়। মানুষ যেমন কান্ত্রি জিউর মন্দির দেখতে যায়, ষাট গম্বুজ মসিজদ দেখতে যায় তেমন। এখন কোন আহাম্মক নাস্তিক যদি যুক্তি দেখায়, হিন্দুরা নাস্তিকতার ভান করে চুপে চুপে মন্দিরে যায় পুজা দেখতে- আর আমরা যদি এখন ঈদের নামাজে যেতাম এতক্ষণে এই ছুপা হিন্দুগুলি ভাসায় দিতো…। আহাম্মক না হলে বুঝত নামাজ দেখার কিছু নেই। তবে ক্রিসমাসের অনুষ্ঠান গির্জায় দেখার কৌতুহল সব ধর্মের মানুষের আছে। পুজা দেখতে যাবার, মন্ডবের কারুকাজ দেখার, কোন দুর্গার সবচেয়ে সুন্দর হয়েছে তাও দেখতে যায়…। তাজিয়া মিছিল ভারতের রাস্তার দুইধারে মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দুরা কি দেখে না? পুজা দেখতে যাওয়া হারাম, পহেলা বৈশাখ হারাম… এই ফতে মোল্লাদের সঙ্গে এইসব নাস্তিক নামের হাবিজাবিদের তো কোন তফাত দেখি না!

বড় একটা অভিযোগের কথা তো বলাই হলো না। রেফারেন্স। আপনি সব সময় ইসলামপন্থিদের মুখে শুনবেন নাস্তিকরা ইসলামের কিছুই জানে না। তাদের হাদিসগুলো বানানো। তাদের কুরআনের আয়াতগুলো কাটছাট করা ইত্যাদি। কালের বিবর্তনে একদল নাস্তিক পরিচয়ধারী প্যান ইসলামিজমের অনুসারীদের মুখেও হুবহু আমাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এই বামৈস্লামিক হাদিস চেক করার নিয়মই জানে না! তার হয়ত ধারণা হাদিস নম্বর কুরআনের আয়াতের মত সব জায়গায় একই থাকে! আমার শেয়ার করা হাদিস সঠিক কিনা সেটি নিশ্চিত হতে হলে আপনাকে আসলে হাদিস সম্পর্কে প্রচুর পড়াশোনা থাকতে হবে। কিন্তু একজন সাধারণ পাঠকের সেটা না থাকলে সে কি করবে? এ জন্যই আমি ইবনে কাসির, আল তাবারী, ইমাম বুখারীসহ চার ইমামের স্বীকৃত দলিলের বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বরসহ প্রকাশনী উল্লেখ্য করে দেই। একই বিষয় নিয়ে যখন একাধিকবার লেখা হয় তখন কখনো কখনো কেবল হাদিসের নম্বর দিয়েই শেষ করি। ইনবক্সে প্রচুর মানুষ নানা বিষয়ে রেফারেন্স চায়, সাধ্যমত চেষ্টা করি তাদের কৌতুহল মেটাতে। ইসলামিস্টদের বাংলা কুরআন-হাদিসের রেফারেন্স দিলে মানতে চাইত না। তখন ইংরেজি দিতাম। তাতেও হবে না, তাদের আরবী দিতে হবে। আমি আরবি পড়তে পাড়লেও বুঝি না। তাই আলেমদের কাছ থেকে (তারা আমার লেখালেখির খবর জানে না) আরবী আয়াত হাদিসকে ইংরেজি বাংলার সঙ্গে মিলিয়ে নেই, তাফসিরের বেশির ভাগ প্রকাশক ইসলামী ফাউন্ডেশন, এইসব তাফসিরকে যারা রেফারেন্স হিসেবে মানে না তাদের কি এখন কার্ল মার্ক্স থেকে কোট করে এনে ইসলামকে দেখাতে হবে?

আমি চাকমা কিনা অনেকেই জানতে চায়। কারণ আমি আদিবাসীদের নিয়ে লিখি। বামৈস্লামিকদের সন্দেহ আমি আসলে হিন্দু! এটি আমার একটি বিজয় বলব কেননা বৈষম্য নিপীড়নের শিকার জাতি সম্প্রদায়ের হয়ে লেখালেখির কারণে যারা ভাবছে আমি আসলে ঐ সম্প্রদায় বা জাতির কিনা- তারা আসলে নিজেরাই প্রমাণ করছে তারা কোন জাতি সম্প্রদায়ের উর্ধে আসতে পারেননি। তাদের মনে হয়েছে যদি আমি চাকমা মারমা কিংবা হিন্দু না হই তাহলে তাদের জন্য আমার এত জ্বলে কেন? এখানেই তাদের আর আমার পরিচয় নির্ধারণ হয়ে যায়। আমাকে মুসলিম বিদ্বেষী বানানোটা খুব সহজ। কারণ মুসলমানদের আত্মপরিচয়ে আমি আঘাত করছি। প্রতিনিয়ত তাদের ইসলামী পরিচয়, শিক্ষা, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। যাতে তারা দ্বিতীয়বার কথাগুলোকে নিয়ে ভাবতে পারে। বহু ছেলেমেয়ে যখন গোপনে তাদের পরিবর্তনের কথাগুলো আমাকে জানায় আমার সব কষ্ট, পরিশ্রম, লেখালেখির কারণে বৈষয়িক দূর্বস্থা, বিপদ, কুৎসা, অপপ্রচার সব ভুলে যাই। এইসব লালছাগুদের বেশির ভাগ অপপ্রচার তাই গায়ে মাখি না…।”
– সুষুপ্ত পাঠক