ইসলামাইজ্ড বামপন্থা!

Spread the love

ইসলামাইজ্ড বামপন্থা!
একটা বামপন্থী গ্রুপে লেখালেখিতে কয়েক দিন খুব ব্যস্ত ছিলাম। আমি ঐ গ্রুপের সদস্যদের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ। ঐ গ্রুপে না ঢুকলে আমার জানাই হত না, কমিউনিস্টদের সঙ্গে ইসলামিস্টদের এত গভীর গোপন সম্পর্ক। যত দেখছি, ততই যেন রহস্যের পর্দা খুলছে, একটার পর একটা… ।
আমি জানতাম না ইসলাম পন্থী হয়েও বামপন্থী হওয়া যায়, আবার মুখে ধর্ম মানে না বললেও বস্তুত বামপন্থীরা যে প্রায় সবাই ইসলাম পন্থী। যত দিন যাচ্ছে, ইসলাম আর বামপন্থার গোপন গাঁটছড়া প্রকাশ্যে আসছে।
আগে মনে প্রশ্ন জাগত, বামপন্থী হয়েও কিভাবে এরা প্রত্যেক স্লোগানের শেষে ইনশাল্লাহ ইনশাল্লাহ বলে? কিভাবে বিশ্বত্রাস লাদেন ‘কমরেড লাদেন’ হয়? কিভাবে অসংখ্য হিন্দু হত্যাকারী এবং ধর্ষণকারী হিন্দু বিদ্বেষী জেহাদী তিতুমীর, টিপু সুলতানরা এদের কাছে মহান দেশপ্রেমী স্বাধীনতা সংগ্রামী হয়, যদিও তখন ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষই হয় নি ? প্রগতিশীল হিসেবে হিন্দু ধর্মের গোঁড়ামির সমালোচনা করলেও কেন ইসলামিক বর্বরতা গুলি নিয়ে লেখে না, কেন নারীবাদী প্রগতিবাদী হয়ে মনুবাদের বিরোধীতা করলেও শরিয়ত নিয়ে কিছু বলে না? কেন হিন্দু সন্ত্রাসবাদ থাকলেও ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ নেই? কেন পাকিস্তানকে সমর্থন, জাতীয় সঙ্গীতের সময় সেক্স করার নিদান? হাজার প্রশ্ন। এখন আর প্রশ্ন জাগে না। আগে ভাবতাম এসবই নিছক ভোটের তোষণ, এখন দেখছি গভীর গোপন সম্পর্ক, ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠার, এই ‘দার উল হার্ব’ কে ‘দার উল ইসলাম’ এ উত্তরণের এক সুপরিকল্পিত যৌথ পরিকল্পনা!
আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন, বামপন্থীদের এই দ্বিচারিতার মুখোশটা খুলতে গেলেই বামপন্থী এবং বামপন্থী সাজা মুসলমানরা একযোগে একসুরে আপনাকে আক্রমণ করবে। মুসলমানরা বামপন্থীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রগতিশীল সেজে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন গোঁড়ামি নিয়ে, হিন্দুধর্ম নিয়ে দেখবেন বেশ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছে, হঠাৎ করে মনে হবে যেন এরা সত্যিই প্রগতিশীল নাস্তিক। কিন্তু এরা কখনো নিজের ধর্ম ইসলামের সমালোচনা করে না, হিন্দু পদবীধারী নাস্তিক বামপন্থীদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে মনুবাদের বিরুদ্ধে বললেও নিজেদের মধ্যযুগীয় শরিয়ত নিয়ে কিছু বলে না । এদের চেনার সহজ উপায় হল ইসলামের সমালোচনা করা। করলেই দেখবেন বামপন্থার মুখোশটা খুলে ফেলে দিব্যি ধর্ম ভীরু পাক্কা মুমিনের ভূমিকা নিয়ে এরা একযোগে ইসলামের পক্ষে নেমে পড়ছে। মজার ব্যাপার, সরাসরি ইসলামের পক্ষে সওয়াল করলেও এই বামপন্থী সাজা ছদ্মবেশী মুমিনদের বামপন্থীত্বে, সেকুলারিত্বে বা প্রগতিশীলতায় বিন্দুমাত্র আঁচড় পড়ে না। এরা যে মুখে সাম্যবাদ, পুঁজিবাদ, প্রগতিবাদ নিয়ে কথা বলে, সেই মুখেই ইসলামের জয়গান করে। কিন্তু কোন হিন্দু পদবীধারী বামপন্থী সেকুলারকে দেখবেন না হিন্দু ধর্মের স্বপক্ষে কিছু বলতে, বরং দেখবেন কাছা খুলে একতরফা কেবল হিন্দু ধর্মের সমালোচনাই করতে, একে সমর্থন করতে। বরং একতরফা হিন্দুদের, হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করেই হিন্দুরা বামপন্থীত্ব বা প্রগতিশীলতা জাহির করেন। কিন্তু ক’জন বামপন্থী সাজা মুসলিমদের দেখেছেন নিজেদের বর্বর ইসলামের সমালোচনা করতে, তিন তালাক বা বহু বিবাহের বিরোধীতা করতে? এরা কিন্তু এদের নিজেদেরটা ষোলআনার জায়গায় আঠারো আনা বজায় রাখছে।
কথা সেটাও না, হয়তো হিন্দু সেকুলারিজম আর মুসলিম সেকুলারিজমের মাপকাঠিটা আলাদা। কিন্তু কথা হল, হিন্দু পদবীধারী বামপন্থীদের বুঝি এদের এই বিসদৃশ আচরণগুলি নজরে আসে না? আসে, আসলে বামপন্থীদের সঙ্গে ইসলামিস্টদের অনেক গভীর সম্পর্ক। কমিউনিস্টরা আসলে মোটেও ধর্ম বিরোধী নয়, হিন্দু বিরোধী। ওদের ‘জেহাদ’ ই এদের শ্রেনী সংগ্রাম, ওদের ‘কাফের’ ই এদের শ্রেনী শত্রু, ওদের ‘ইনশাল্লাহ’ ই এদের ইনকিলাব। এরা স্বপ্ন দেখে এভাবেই বামপন্থীদের কাঁধে ভর দিয়ে সারা বিশ্বে একদিন ইসলাম কায়েম হবে, থুড়ি ইসলামের কাঁধে ভর করে সারা বিশ্বে বামপন্থা, সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। ইনশাক্লাব, ইনশাল্লেলিন!
এতই গভীর সম্পর্ক যে, বাংলাদেশের বাম সাজা কোন ছাগু যদি ঈদে নাকি এদেশে ছুটি দেওয়া হয়না র মত করে আরো অনেক মিথ্যে কথা লাগাতার বলে যায় আর আপনি যদি এর প্রতিবাদ করেন, এদেশের হিন্দু পদবীধারী বামেরা এর প্রতিবাদ না করে বরং আপনাকেই অপদস্থ করতে উঠেপড়ে লাগবে।
দেখুন, কেমন গোড়াতেই গলদ। বামপন্থীরা ধর্ম মানে না। মানুষের জীবনে ধর্মের কোন প্রভাব বা গুরুত্ব নেই। অথচ হিন্দু পদবীধারী বামপন্থী আর মুসলিম পদবীধারী বামপন্থীদের মধ্যে কত পার্থক্য।
ইসলামে গভীর ভাবে বিশ্বাসী একজন খাঁটি ধর্মপ্রাণ মুমিনা কি করে একজন বামপন্থী হতে পারে, বা একজন ধর্মহীন বামপন্থী কিভাবে একজন ধর্মপ্রাণ মুমিনা হতে পারে? JNUSU এর vice president এবং AISA এর Shehla Rashid এর গণিমতের মাল, বিধর্মী নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বাজারে গরু ছাগলের মত বিক্রি করতে বলা বা তিন তালাক বহু বিবাহের মত নারী স্বাধীনতা হরণ কারী মহম্মদের গুণ কীর্তন করা বক্তব্য শোনেন নি? মহম্মদকে মানলে তো মহম্মদের বলা জিব্রাইল, ফেরেস্তা, জন্নত, হুর, মিরাজ গমন, অসংখ্য গল্পগাছা সবই মানতে হয়। বামপন্থীরা প্রগতিশীল শিক্ষিত বিজ্ঞান মনষ্ক হয়েও ? আর বিধর্মীদের প্রতি অমানবিক নিষ্ঠুর নির্দেশ গুলি?
আসুন শুনি –
On January 25 2013, Shehla Rashid wrote,
Prophet Muhammed (PBUH) was a feminist and feminism is Sunnah
Here’s wishing all Muslims a blessed 12th Rabbi-ul-Awwal the birth date of the holy Prophet of Islam, Muhammed (Peace Be Upon Him). Although there exists a lot of debate around whether this day should be commemorated or not, there’s no second opinion on the fact that his birth was a blessing for the entire humanity.
I’m tempted to quote lines from a popular Kashmiri naat (or nasheed)
ba khuda saari khudayi aasi hey pardan andar
galihe nai zaal zulmatan Rasool-e-Muhataram
sallallahu allaihi wassallam
Translation: The truth about God would have remained shrouded in mystery if it weren’t for the holy Prophet (SAW) who released humanity from the clutches of ignorance
The Prophet (SAW) fought for the emancipation of women in a time and place where girl children were buried alive, not allowed to make any choices, not allowed to hold property. In an era when there were numerous war widows, practically without any rights, he (SAW) took the hand of some of them (RAA) in marriage, while making sure that he (SAW) is not biased towards or against any one or few of them (RAA).
All this was very progressive by the standards of that time. And this was about a millennium and a half back. This was when women were not empowered enough to speak up for themselves. Even centuries after he (SAW) lived, we continue to kill the girl child, not just outside the womb but even inside it. If a girl aspires to live, even in her mother’s womb, technology (esp. sex-selective abortion) has made it possible for us to take even that aspiration away from her. If she manages to survive, the society makes sure that her life is hell- she is harassed if she’s well-dressed, taunted if she isn’t, stigmatised if she’s unmarried, tortured if she’s married, objectified as a “house-wife”, objectified as a “sex-object”, talked down if she’s not making money, mentally tortured if she is, she is blamed for getting raped outside the home, but violence against her inside the home is qualified as “domestic” violence, “dowry” death, “bride” burning, “honour” killing, etc. Unique crimes against her are invented, for example “acid attack”, “female foeticide”, “female infanticide”.
Muhammed (SAW) would not be very happy to see this. It’s a shame that, on a day when we commemorate the 1443rd year of his blessed birth, Muslim women in some parts of the world are still subjected to what is another unique crime against womanhood, “female genital mutilation”.
Dear Muslim men and women and all people reading this post, let’s resolve to make the world a place where women can lead their lives with dignity and make choices on their own. Let’s be progressive rather than regressive. Had Muhammed (SAW) not fought against female infanticide I may not be even alive and writing this post right now. He (SAW) was a feminist, in my humble opinion, and thus, feminism should be Sunnah. Feminism need not be advocacy of short skirts. It’s about equality of rights as humans who are capable of experiencing the same emotions- pain, love, joy and freedom. We will never really progress until we treat our women better.
Eid-e-Milad-un-Nabi (SAW) Mubarak!
এবার বলুন, এই মূল্যায়নটা কি উনি একজন বামপন্থী হিসেবে করেছেন, নাকি এনার এই বক্তব্য সেই সত্যটাকেই প্রমাণ করছে যে, কোন মুসলমানই ধর্মের উর্ধ্বে উঠতে পারে না? এরা বামপন্থী সেজে বামপন্থীদের সংগে মিশে বামপন্থীদের ব্যবহার করে বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে এগিয়ে চলেছে?
তাহলে বোঝা গেল, ইসলাম পন্থী হয়েও বামপন্থী হওয়া যায় বা বামপন্থী হয়েও ইসলাম পন্থী। কমিউনিস্টরা ধর্ম মানি না বললেও ইসলাম বা মহম্মদের প্রতি এদের আছে গভীর শ্রদ্ধা। এবং এটা নিছক রাজনীতি বা ভোটের অঙ্কে নয়, এই শ্রদ্ধাটা আসে এদের অন্তর স্থল থেকেই। আসলে এই বামপন্থা হল ইসলামাইজ্ড বামপন্থা!
একটি ধর্মসর্বস্ব মতাদর্শের সাথে একটি নাস্তিক মতাদর্শের এমন অত্যাশ্চর্য্য গাঢ় রসায়ন ভারত বর্ষেই সম্ভব,নির্দিষ্ট করে বললে হিন্দু প্রধান দেশ বলেই সম্ভব |
আরো দেখলাম, বামপন্থীরা বামপন্থার সমালোচনা করলে যতটুকু না রাগ হয়, এর চেয়ে বেশি রাগ হয় ইসলাম নিয়ে কিছু বললে। এমনিতে এরা যেহেতু ধর্ম মানে না, মোল্লারা হিন্দুদের বা হিন্দু ধর্মের শ্রাদ্ধ করলে এদের কিছু যায় আসে না, বরং বামেরা এদের সঙ্গে গলা মিলায়। কিন্তু ইসলাম বা মুসলিম বিরোধী কিছু বললে, সেটা যত যুক্তিযুক্তই হোক না কেন, সেটা এরা সহ্যই করতে পারে না। যেন “আমাকে যা বলার বলো, বাপ তুলে গালি দেবে না”!
এরা নিজেরা তো বলবেই না, কিন্তু কেউ ইসলামিক বর্বরতা বা জেহাদী মুসলমানদের দুষ্কর্ম গুলির দিকে আঙুল তুললেই অযৌক্তিক অপ্রাসঙ্গিক নানা হাস্যকর সব যুক্তি দিয়ে এগুলি ঢেকে রাখাই বামপন্থীদের একমাত্র কাজ। আসলে বামপন্থা তো ইসলামেরই গর্ভস্রাব, যখনই ইসলামের দিকে আঙুল তোলা হয়, এরা সব বর্ম হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এরপর সেই ইসলামের গর্ভেই বিলীন হয়ে যায়। উদাহরণ খোমেইনি, সুহার্তো….
আসুন রহস্যটা কি দেখি –
Muslim people will unite themselves to communism: like communism, Islam rejects narrow nationalism.” [The Bolsheviks and Islam part 3: Islamic communism]
বা,
Gerry Byrne তাঁর The Bolsheviks and Islam part 3: Islamic communism শীর্ষক আলোচনায় এ বিষয়ে একটি উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
“All Muslim colonised peoples are proletarian peoples and as almost all classes in Muslim society have been oppressed by the colonialists, all classes have the right to be called ‘proletarians’. …Therefore it is legitimate to say that the national liberation movement in Muslim countries has the character of a socialist revolution.”
এবার আসুন এঁদের দেখি –
বাংলাদেশের বাম আন্দোলনের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও দেশের বিশিষ্ট কমিউনিস্ট দুই শীর্ষ নেতা রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু হজ করতে গিয়েছিল ২০১৪ সালে। এখন তাদের হাজী বলব না কমরেড বলব ??? আমি পুরোই কনফিউজড, আপনারা সাহায্য করুন। সেদেশের টিমটিমে এই ইসলামাইজ্ড বামপন্থা নিয়েই বামেদের কত গর্ব! তখনকার বামপন্থী রেজ্জাক মোল্লাও বামপন্থী থাকাকালীন এবং আবদুল হালিম ও হজ করেছেন। আরও হয়ত আছে । এদের কি বলবেন, বামপন্থায় বিশ্বাসী খাঁটি মুসলমান, নাকি ইসলামে বিশ্বাসী খাঁটি বামপন্থী? গভীর ঈশ্বর বিশ্বাসী নাস্তিক, নাকি ধর্মহীন ধর্মপ্রাণ মুমিন ? জানেন নিশ্চয়ই, রেজ্জাক আর হালিমকে কিছু না করলেও কমঃ সুভাষ চক্রবর্তীকে কিন্তু তারাপীঠে পূজো দেওয়ায় শো কজ করা হয়েছিল, ঐ যে বললাম…।
যদি ভাবেন, শুধু মুসলিম বামপন্থীরাই ইসলাম বিশ্বাসী এবং হিন্দু পদবীধারী খাঁটি বামপন্থীরা ঐ মাপকাঠির পার্থক্যের জন্য এদের ছাড় দিয়ে রেখেছে, যেমন ছাড় ছিল বামপন্থী শীর্ষ নেতা প্রয়াত হরকিষেন সিং সুরজিৎ এর শিখ ধর্ম পালনে, তাহলে ভুল করবেন। হিন্দু পদবীধারী বামপন্থীরাও গভীর ভাবে ইসলাম বিশ্বাসী, মহান মহম্মদের মহত্ত্বে বিশ্বাসী। শুধুই কি রক্তঋণ, নাকি পেট্রোডলার বা ইয়েন?
বাংলাদেশের বিশিষ্ট কমিউনিস্ট দুই শীর্ষ নেতা রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু, হাজী হিসেবে…, এটাই বামপন্থা, ইসলামাইজ্ড বামপন্থা!