বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্সের ফুটবল দলের পাঁচজন মুসলিম ফুটবলারের ধর্ম ছিল, কিন্তু ফ্রান্সেরই নিস্ শহরে হামলাকারীদের ধর্ম নেই।
মহম্মদ শামীর ধর্ম আছে, কিন্তু সন্ত্রাসবাদী বুরহানদের কিন্তু কোন ধর্ম নেই !

এ এক অদ্ভুত ধর্ম, কখনো জোরালো ভাবে থাকে, কখনো থাকে না!

কিন্তু সুস্থ মানসিকতার মানুষ ঠিক উল্টোটাই করবে। তারা খেলোয়াড়দের ধর্ম খুঁজতে যাবে না, খুঁজবে সন্ত্রাসবাদীর ধর্ম । কারণ এক বিশেষ সন্ত্রাসী ধর্ম থেকেই যে বিশ্বজোড়া এই সন্ত্রাসের উৎপত্তি – সেটা পরিষ্কার। ধর্মে লোভনীয় পরকালের উল্লেখ আছে বলেই সেই পরকালের কাছে এই জলজ্যান্ত ইহকালকে একেবারেই তুচ্ছ মনে হয়। কোমরে বোমা বেঁধে নিরীহ মানুষ মেরে ইহকালের এই ‘আমি’কে উড়িয়ে দিতে বুক কাঁপে না। এখানে মোটিভেট করছে ধর্মই।

আর খেলায়..? তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে পারফরম্যান্স দেখিয়েই দলে জায়গা করে নিতে পারবে বা ধরে রাখতে পারবে । আর খেলতে পারলেই টাকা পাবে, খ্যাতি পাবে । মোটিভেশান এখানে আলাদা।

আর জয় এনে দেওয়া মহঃ শামীর এই হ্যাট্রিক ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বলেই তো মাকু ছাগু আর তিণুদের এতো লাফালাফি? এই ‘মুসলিম রাষ্ট্র’ আবার কী! মুসলিম প্রধান হলেই যদি মুসলিম রাষ্ট্র হয়, হিন্দু রাষ্ট্রে এতো আপত্তি কেন? একটাই বহুত্ববাদী মহান দেশ ভেঙে সৃষ্টি হওয়া সবকটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্রই কেন মুসলিম রাষ্ট্র? আর এতোবার মুসলিম প্রধান অংশগুলি ভেঙে আলাদা ইসলামিক রাষ্ট্রের সৃষ্টির পরও হিন্দু প্রধান অংশটা কেন ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র?

আর কতদিন শামীদের দিয়ে মুসা বুরহানদের ঢেকে রাখা হবে? আর কতদিন এক মহান কালাম সাহেবকে দিয়ে দেশজুড়ে জাল বিছানো ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকে ঢেকে রাখা হবে? এই ঢেকে রাখার উদ্দেশ্য কী?

যাই হোক, আমরা দেশপ্রেমিক খেলোয়াড় শামী বা মহামানব কালাম সাহেবের ধর্ম দেখি না, ধর্ম দেখি দেশদ্রোহীদের – যে ধর্ম ওদের দেশদ্রোহীতার পেছনে । কিন্তু বিনা কারণেই দেশপ্রেমিক খেলোয়াড়দেরও ধর্ম দেখে আমাদের প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান দেশ ।

Anirban Dasgupta র টাইমলাইন থেকে