“পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত কি ????”
ডাঃ মৃনাল কান্তি দেবনাথ
আমাদের সাধের পশ্চিম বঙ্গ ধীরে ধীরে এক অতল খাদের মধ্যে পাশে এসে দাড়িয়েছে। সামান্য পদস্খলন হলেই সেই খাদের মধ্যে পড়ে চীরকালের জন্য হারিয়ে যাবে।
অনেকে হয়তো বলবেন, এতো নৈরাশ্যবাদী কথা কেনো বলি। চোখের সামনে যা দেখছি তাতে তো আমার সেটাই মনে হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংষ্কৃতি এবং আর্থিক উন্নতি একটি দেশ, অঞ্চল বা জাতির মেরুদন্ড। এর একটির অভাবে বাকি সব নষ্ট হয়ে যায়। সেই ষাটের দশক থেকে দেখছি তো, আর দেখলাম অনেক কিছু।
খুব বেশীদিন আগের কথা নয়। বহু নামী দামী শিল্প সংস্থার কারখান হেড অফিস ইত্যাদি ছিলো আমাদের পশ্চিম বঙ্গে। হিন্দ মোটরস থেকে শুরু করে কয়েকশো পাট শিল্পের কারখানা, চিত্তরঞ্জন, দুর্গাপুর , দম দমের জেসফ কম্পানী কতো বলবো। কলকাতা তখন শিল্পপতিদের আকর্ষনীয় গন্তব্য স্থান। আর আজ—পড়ে আছে শুধু সেই কারখানা গুলো কংকাল। লক্ষ লক্ষ পরিবার কর্ম হীন হয়ে পড়েছে বিগত পঞ্চাশ বছরে। 
যিনি যতোই চীৎকার চেচামেচি, লম্ফ ঝম্প করুন শিল্প এখানে সহজে আসবে না। রাজনৈতিক স্থিতাবস্তা এবং শক্তিশালী , দুরদৃষ্টি সম্পন্ন নেত্তৃত্ব না থাকলে কেউ এখানে টাকা ঢালবে না। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আজ অর্থ বিনিয়োগের সুষ্ট ব্যাবস্থা হয়েছে। সুতরাং আগামীতে বাংলার ছেলেপুলেদের ঐ হায়দ্রাবাদ, ব্যাংগালোর, গুজরাট, কেরালা ছাড়া উপায় নেই। দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছরের “ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও” আর ‘গরীবের টাকা লুট করে নেতা /নেত্রী হবার প্রবনতা এই শিল্প মন্দার জন্য দ্বায়ী।
শিক্ষা ব্যাবস্থা নিয়ে যতো কম বলা যায় ততোটাই ভালো। নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ আর যাই হোক শিক্ষা হয় না। সেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজনীতি ঢুকিয়ে দিয়ে, বছরের পর বছর ফেল করা ছাত্র নেতা নেত্রী তৈরী করা হয়েছে, যারা লক্ষ লক্ষ টাকা নেয় শিক্ষালয়ে ভর্তি করে দিতে।   বিদ্যালয়ে আজ আর পড়াশুনা হয় না। শিক্ষক রা ব্যস্ত টিউশান নিয়ে, ছাত্র রা ব্যাস্ত বই খাতা হাতে সব বিষয়ে টিউশান নিতে। এই দুইয়ের টানা পড়েনে মা সরস্বতী বিদায় নিয়েছেন। স্কুলের প্রাধান শিক্ষক থেকে শুরু করে কলেজের প্রিন্সিপাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য রাজনৈতিক নেতা নেত্রীর আজ্ঞাবহ।
সরকারী হাসপাতালে দালালদের ঘুষ না দিলে অপারেশাগ প্রায় বন্ধ, হলেও কোমর ভাঙ্গা রোগীর অপারেশান করতে দেড়মাস বেডে ট্রাকশান নিয়ে শুয়ে থাকতে হয়। নীল সাদা রঙ করে হাসপাতাল গুলো বাইরে থেকে বেশ সুন্দর করা হয়েছে কিন্তু ভেতর টা আজো সেই তিমিরে। সংষ্কৃতির কথা আর বলবেন না। মেয়েরা ছেড়া জিন্স পরে শরীর দেখিয়ে বেড়াচ্ছে ( আমার মনে হয় যেনো ওদের বলি ‘তোরা এতো গরীব তো আয় পুজোয় দুটো শাড়ি কিনে দি) আর ফুক ফুক করে সিগারেটের ধোঁঁয়া ছাড়ছে। বৌমারা রানা বান্না শিকেয় তুলে “সুইগি” তে মজেছে আর নীতি গত ভাবে অশ্লীল ( এর বৌ ও নিচ্ছে তো ওর স্বামীকে ও নিচ্ছে, পকীয়ার ছড়াছড়ি) সিরিয়াল দেখে বখে যাচ্ছে।
কিছু ধার্মিক সিরিয়ালের নামে ধর্মীয় আবেগে সুড় সুড়ি দিয়ে এক একজন দেবতার শিষ্য সামন্ত তৈরী করা হচ্ছে। টালীগঞ্জের অভিনেতা অভিনেত্রীরা অভিনয় ছেড়ে দাদা দিদিদের পেছনে ঘুর ঘুর করছেন কিছু রাজনৈতিক পদ এবং আগামী ইলেকশানে বিধান সভার টিকিট নিতে। সত্যি বলছি, সুচিত্রা সেন বেচে থাকলে বোধ হয় তাকে নিয়েও টানাটানি হতো, রাজনীতি হতো।
তা এতো গেলো বর্তমান বাংগালীর সাতকাহন। এখন এদের কি হবে???? আমার চিন্তা হয় এদের ছেলেপুলেদের কি হবে????
সবাই, চিন্তায় আছে পশ্চিম বঙ্গ বিধর্মীরা দখল নিয়ে নেবে। আমার মনে হয় তার আগে এই পশ্চিম বঙ্গেরই কিছু ভুত পেত্নীরা এটিকে দখল করে ৩৪ বছরে “জংগলের রাজত্ব থেকে ৮ বছরের শ্মসানের রাজত্ব তৈরী করে ফেলেছে”, আর ভবিষ্যতেও এর কিছু পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। “যাদের আশায় বুক বাধছি” তারা এই সমাজ এবং সংষ্কারের মধ্যেই তৈরী” নতুন আর কি করবে??????????