‘আল কুরানের আলো-ঘরে ঘরে জ্বালো’

ইসলাম ধর্মানুযায়ী মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান কুরান। ইহা একটি বিজ্ঞানময় গ্রন্থও বটে। বিজ্ঞান ও আধুনিক বিজ্ঞানের যত আবিষ্কার- সবই কুরান গবেষণা করে অমুসলিম বিজ্ঞানী বা গবেষকরা করেছে, আজও করছে। এসব কথা ও দাবী যদি সত্য হয়, তাহলে স্বীকার করতেই হবে কুরান মানবজাতির জন্য সর্বকালের আধুনিক বিজ্ঞানময় জীবন বিধান।

কুরান একটি আসমানী কিতাব। যা আল্লা আসমানে বসে স্বহস্তে অথবা তার কোন বেতনভূক্ত কর্মচারী দ্বারা লিখে লাওহে মাহফুজ নামক সার্ভারে সেইভ করে রেখে ২৩ বছরে ধীরে ধীরে তার স্রষ্টা  নবী মুহাম্মদের নিকট পাঠান। এরূপ আরও ১০৩টি আসমানী কিতাব রয়েছে। ১০০টি ছোট, যা সহিফা নামে পরিচিত। বাকী ৩ টি, কুরান সহ ৪ টি বড় আসমানী কিতাব। কিতাবগুলো হচ্ছে- তাওরাত, যাবুর, ঈনজীল ও কুরান। তাওরাত নাজিল হয়েছিল মুসা নবীর নিকট, যাবুর- দাউদ নবী, ঈনজীল-ঈসা নবী এবং কুরান আল্লার জিগরী দোস্ত মুহাম্মদের ওপর নাজিল হয়েছে।

কথিত আছে ১ম কিতাব মানুষের দ্বারা বিকৃত হওয়ার কারণে আল্লা ২য় কিতাব নাজিল করেন। ২য় কিতাবও বিকৃত হলে ৩য় কিতাব পাঠান। আল্লার দূর্ভাগ্যবশঃত ৩য় কিতাবখানাও বিকৃত করে ফেলে। মানুষ কেমন খ্রাপের খ্রাপ! আল্লার কিতাবকেও ছাড়ে না। আল্লা ভেবে দেখল এত হ্যাপার দরকার নেই, পরিপূর্ণ জীবন বিধানই একবারে দিয়ে দেই যা কখনও পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা যাবে না। তবে কিছু আয়াত যদি ছাগলে মুড়ে খায় তা বাদ দেয়া যাবে কুরান থেকে, তবে তা নিয়ে কোন প্রশ্ন করলে ৫৭ ধারা নাজিল করে দিলেই ল্যাঠা চুকে যাবে। যেই ভাবা, সেই কাজ। আল্লা আধুনিক ভার্সনের বিজ্ঞানে ভরপুর একটি পিডিএফ কিতাব জিব্রাগ্রামের মাধ্যমে নবী মুহাম্মদের নিকট ধীরে ধীরে পাঠিয়ে আগের সব কিতাব ডিলিট করে দেয়ার ঘোষণা দিলেন। ডিলিট করা নিয়েও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া কম হয়নি তখন। নবী মুহাম্মদের চারখানা দন্ত মোবারকও নাকি খোয়া গেছিলো সেসময়।

এখন কথা হচ্ছে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগেই নাকি আল্লা কুরান নামের আরব্যোপন্যাসজাতিয় এই পিডিএফ রচনা করেছেন। তাহলে আগের ১০৩টি কিতাব রচনা করতে হল কেন? শুরুতেই তিনি পারতেন কোন এক নবীর নিকট কুরান পাঠাতে। তাছাড়া মানুষ যদি পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে বিকৃত না করতো তাহলেতো কুরান নাজিলের কোন প্রয়োজনীয়তাই দেখা দিতো না, আর মানবজাতি সমস্ত বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের আবিষ্কার হতে বঞ্চিত হতো। সেক্ষেত্রে আজ কুরানের কল্যানে মানবজাতি যে বিজ্ঞানের সুবিধা নিয়ে আধুনিক জীবন যাপন করছে, তার কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবেই মানুষের, আল্লার কোনই কৃতিত্ব নেই এখানে। বরং কুরান নাজিলের আগে মানুষকে লক্ষ কোটি বছর বিজ্ঞান ও আধুনিকতা থেকে বঞ্চিত রাখার অপরাধে তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়া করানো উচিৎ। তবে আমরা যেহেতু একটি পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান পেয়েই গেছি সেহেতু সব ভুলে গিয়ে আমাদের সবারই উচিৎ মানবজাতির কল্যানে রচিত উক্ত জীবন বিধানের আলো সবার ঘরে জ্বালানো। সাথে ধ্বনি তুলতে হবে- আল্কুরানের আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো।

আল্কুরানের আলো ঘরে ঘরে জ্বালানোর উপকরণ:-
                          ১। কুরান -১ টি।
                          ২। কেরোসিন তেল- ১ কাপ।
                          ৩। দিয়াশলাই- ১টি।

প্রক্রিয়া:-
*প্রথমে কুরানকে পরিমান মত কেরোসিন তেল দিয়ে হালকা ভিজিয়ে নিন।
*এরপর দিয়াশলাই বাক্স থেকে একটি কাঠি বের করে
বাক্সের কালো অংশের সাথে কাঠিটি জোরে ঘষা দিন।
ফস্ করে জ্বলে উঠার পর কেরোসিনে ভিজে যাওয়া কুরানের একটি পৃষ্ঠায় ধরুন।
*ঘরের সব লাইট বন্ধ করে দিন এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
এবার অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখুন আল্কুরানের আলোয় আপনার ঘর আলোকিত হয়ে উঠেছে। এরপর আপনার করণীয়- সবাইকে উৎসাহিত করা এভাবে প্রত্যেকের ঘরকে আলোকিত করার জন্য। সবাই উদ্বুদ্ধ হয়ে যদি নিজ নিজ ঘরকে আল্কুরানের আলোয় আলোকিত করে তাহলে খুব সহজে এবং অল্প সময়েই সমগ্র দেশ নিমজ্জিত অন্ধকার হতে নতুন সুর্যোদয় নিয়ে জেগে উঠবে। আমিন।