Saturday, September 25, 2021
Home Bangla Blog অশোক তো কলিঙ্গ যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছিলেন। তা উনি কি...

অশোক তো কলিঙ্গ যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছিলেন। তা উনি কি মুসলিম ছিলেন?

কেলো করেছে!  হাতের কাছে কিছু না পেয়ে এক পিকিউলিয়ার থুড়ি সিকিউলিয়ার থুড়ি সেকুলার ভদ্রলোক  খ্রিস্টপূর্বাব্দে চালান হয়ে গেছেন, ইয়ে মানে 304 BC!  ( উঁহু, বাংলা নয়, ইংরেজি বিসি) সম্রাট অশোক তো এই সময় নাগাদই জন্মেছিলেন।  কি বলছেন?  অশোক তো কলিঙ্গ যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছিলেন। তা উনি কি মুসলিম ছিলেন?  হাসব না কাঁদব ঠিক করতেই মিনিট পাঁচেক চলে গেল। ভাবলাম বরং লিখেই ফেলি। বুড়ো বয়সে হাসিই হোক আর কান্না, কোন উত্তেজনাই ভাল নয়। কিন্তু লিখবই বা কি?  অশোক সম্পর্কে প্রামাণ্য কোন তথ্যটি আছে?  বেশিরভাগটাই তো অনুমান আর জনশ্রুতি ( মনে করে দেখুন জীবনী পড়তে গিয়ে কতবার ” কথিত আছে” শব্দদুটির সঙ্গে মোলাকাত হয়েছিল). তাঁর সম্পর্কে জানার মূল উপাদানগুলির একটি হল তাঁরই নির্মিত, খোদিত শিলালিপি বা প্রস্তরলিপি, ধাতব স্তম্ভ ইত্যাদি এবং অবশ্যই কিছু বৌদ্ধ শাস্ত্র তথা সাহিত্য, যেমন মহাবংশ ও দীপবংশ নামক দুটি গ্রন্থ যা বর্তমানে শ্রীলংকায় সংরক্ষিত আছে। আর এইসব তথ্যও রীতিমত পরস্পর বিরোধী। প্রথমত সেকুলার ভদ্রলোক দাবী করেছেন তিনি নাকি  কলিঙ্গ যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ মেরেছিলেন।  যথেষ্ট হাস্যকর। অশোকের শিলালিপি থেকেই জানা এই যুদ্ধে এক লক্ষ নিহত এবং দেড় লক্ষ আহত হয়। কিন্তু তারপর কি হল?  কেন ভুলে গেলেন?  চরম অনুতাপ এবং যন্ত্রণায় তিনি উপগুপ্তের কাছে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলেন। কি তাই তো?  ইতিহাস বইতে তো তেমনই পড়েছেন!  কিন্তু সেটিও কি ঠিক?  আধুনিক গবেষণা বলছে তিনি কলিঙ্গ যুদ্ধের অনেক আগেই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে তাঁর রীতিমত ওঠাবসা ছিল। তাছাড়া তাঁর অনুতাপ উল্লেখ আছে এমন শিলালিপিগুলির একটিও ওড়িশা ( পূর্বের কলিঙ্গ) তো দূরের কথা, তার ত্রিসীমানায় পাওয়া যায়নি।  সুদূর আফগানিস্তান এবং পাকিস্থানের কিছু প্রস্তরলিপিতে এই অনুতাপের উল্লেখ পাওয়া যায় না।  অদ্ভুত না?  যে দেশের মানুষকে হত্যা করে এত অনুতাপ হল, সে দেশেই তিনি অনুতাপ প্রকাশ করলেন না!  কেমন গোলমেলে লাগছে না?  লাগারই কথা। মৃত্যু দেখেই তার হৃদয়বেত্তা জাগরিত হল এবং তিনি রাতারাতি বৌদ্ধ ভিক্ষুর মত মহিমময়, দয়াশীল হয়ে গেলেন এটি আসলে একটি রূপকথা। খুব সিনেমাটিক। তাই এই খাদ্যটিই মানুষকে গেলানো হয়েছে। যে ব্যক্তি সিংহাসন তথা ক্ষমতার লোভে নিজের ৯৯ জন সৎ ভাইকে হত্যা করেছিলেন, পরিবারে ( রক্তের সম্পর্কের সহোদর তিসা ব্যতীত) একজন পুরুষ সদস্যকেও বাঁচিয়ে রাখেন নি,  বিন্দুসার মনোনীত যুবরাজ সুসীমাকে পাটলিপুত্রে ফেরা মাত্র হত্যা করেছিলেন ( বিদ্রোহ দমনে তিনি সীমান্তে গিয়েছিলেন), নৃশংসতার কারণে যিনি অনেক আগেই চণ্ডাশোক নামটি অর্জন করেছিলেন, তাঁর আবার রক্ত দেখে হৃদয় পরিবর্তন!  অস্বাভাবিক নয় কি? গবেষণা বলছে তিনি নাকি আজীবিক ধর্মটিকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনাতে বৌদ্ধ ধর্মের দিকে ঝুঁকেছিলেন। প্রথমদিকে আজীবিক ধর্মেই তাঁর রুচি এবং অনুরাগ ছিল। অর্থাৎ পুরোটাই রাজনীতির খেলা। বুঝলেন তো?  আরে দাঁড়ান এর মধ্যে আর একটি কিন্তু আছে।অনেক ঐতিহাসিক বলছেন অশোক নাকি মোটেই এত হিংস্র ছিলেন না। অপছন্দের পাত্র হয়ে ওঠাতেই কিছু বৌদ্ধ শাস্ত্রকার তাঁকে এমন খলনায়ক বানিয়ে ছেড়েছেন। কারণ বৌদ্ধ শাস্ত্রগুলিতেই এই হিংস্রতার বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়!

তবে কি দাঁড়াল?  সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে তো?  আরে দাদা হাতের কাছে পড়ে থাকা খ্রিষ্টাব্দ ছেড়ে খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নিয়ে টানাটানি করলে এইডাই তো হইব!  কিন্তু আচমকা অশোকের লগে ইসলামের তুলনা করল্যান ক্যান?  এইডায় বুঝাইতে চান যে হিন্দু, বৌদ্ধ সব ধর্মই নররক্ত পিপাসু তাই তো?  তাই ইসলামকে আলাদা করে দোষ দেওন যাইব না। এইডাই তো ভুল কইরা ফ্যাললেন কত্তা!  ইসলাম হইল গিয়া খ্রিস্টাব্দের বিষয়!  সব হাত গরম প্রমাণ আছে। কোথায় কত লক্ষ কোটি মানুষ এই শান্তির ধর্মের লগে জাহান্নাম হাসিল করতাছে!  আসেন ধইরা নিলাম অশোক কোটি কোটি মানুষ মাইরা ফেলছে!  কিন্তু তহন তো রাজারা এমনই করত। যুদ্ধ হইলে তো সৈনিক মরবই। শোনেন নাই রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়!  কিন্তু ইসলামে তো রাজা উজিরেও মারে,  আবার উলুখাগড়াও কম যায় না। সেও সুযোগ পাইলে কোমরে বোমা বাঁইধা নিরীহ মনিষ্যির উপর লাফ মারতাছে, ভিড়ের মধ্যে ট্রাক চালাইয়া দিতাছে । আল্লার বান্দা হইলেই কাফির কোতল জায়েজ!  আইসিস প্রধানও মারতাছে, ও পাড়ার হামিদুলও মারতাছে। খবরের কাগজ পড়েন না?  টিভি দেখেন না?  লণ্ডন থিকা প্যারিস, ব্রাসেলস থিকা মাদ্রিদ,  দিল্লি থিকা লাগোস, ইসলামী জঙ্গিদের হানা। একদম হাতে গরম হিসাব। খ্রিস্টাব্দের ব্যাপার দাদা!  অহন তো সব আবার ইন্টারন্যাটে ভাসতাছে। দ্যাহেন সময় কইরা!  তাইলেই বুঝবেন কোতলে ব্যাপারে এ হল গিয়া চ্যাম্পিয়ন!  ধারের কাছে কেউ নাই।

কি কইলেন ইতিহাসেই বেশি আগ্রহ?  প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ — কত মানুষ মইরা ভূত হইয়া গেল!  একখানও তো মুসলমান মারে নাই। সব খ্রিস্টানে মারছে। বেশ বেশ!  আহেন তবে দুইডা কতা কই। ইতিহাসে যহন এতই রুচি!
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কত জন মরছিল?  পাঁচ কোটিই ধরেন। ইসলামি হানাদাররা এই ভারতে কত মানুষ মারছে জানেন?  কম সম করে ধরলেও আট কোটি!  কি বললেন চাড্ডিদের প্রচার?  উঁহু এইডা সাহেব পন্ডিতের হিসাব। অর্থাৎ নিউট্রাল ভেনু ।  আর আফ্রিকাতে এই শান্তির ধর্মটি কত কোতল করেছে জানেন?  ১১ কোটি। হিসেব নিকেশ করে দেখা যাচ্ছে এখনও পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবীতে  ইসলাম ২৫ কোটিরও বেশি মানুষকে জাহান্নামে পার্সেল করছে । এর মধ্যে কিন্তু ছুটকো ছাটকা সুইসাইড এটাক, ট্রাক দিয়ে দু চার জনকে ছোট্ট করে পিষে ফেলা — ইত্যাদি ধরা হয়নি। বড়সড় রক্তপাতের হিসেবটাই রাখা হয়েছে। তবে বিশ শতকের শেষ থেকে শুরু হওয়া ইসলামী হামলার (  ব্যক্তিগত বা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের দায়িত্বে) অদ্যাবধি শিকার প্রায় ৫০০০০ মানুষ।  এর হিসেবটা আবার ডিজিটাইজড! দেহেন আবার হুটহাট চাড্ডি কইয়া ফ্যালবেন না। সব মুসলমান এইডা করে, একবারও কই নাই। আমি কইতাছি ধর্মের নামে রক্তপাতের কথা। অনেক শান্তিপ্রিয় মুসলমান আছে। এবং আনন্দের কথা তাদের সংখ্যা বাড়তাছে। তাঁরা অহন নিজেদের ধর্মের সমালোচনা করে। এইডা আশার কথা ।  এইসব ধর্ম ছাড়াই মানুষ ভাল থাকব। কিন্তু হিসাবখান তো ঠিক রাখতে হইব।

খ্রিস্টাব্দের ব্যাপার দাদা!  সব এখন  হাতে গরম!  এখন তো আবার লাইভও দেখা যায়!  দু একদিনের মধ্যেই আবার হইব।!  ইচ্ছে থাকলে জানাইবেন কেমন!  লাইভ ফিডের লিংক দিয়া দিমু!  এক্কেবারে হাই ডেফিনিশন!

RELATED ARTICLES

কন্যাদান : হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার।

কন্যাদান: হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার। হিন্দুমিসিক বলিউড মাফিয়া এবং কর্পোরেটরা নারীর ক্ষমতায়নের আড়ালে হিন্দু ঐতিহ্য, আচার -অনুষ্ঠান এবং উৎসবের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ...

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা।-দুর্মর

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা। আমাদের দেশের সরকারি বইয়ে আর্যদের আগমনকে 'আর্য আক্রমণ তত্ত্ব' বলা হয়। এই বইগুলিতে আর্যদের...

আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে ।-ডাঃ মৃনাল কান্তি

মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন।-ডাঃ মৃনাল কান্তি আপনি নিশ্চয়ই ভারত মাতা কি জয়, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো শব্দগুলি প্রতিদিন শুনেছেন।...

Most Popular

কন্যাদান : হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার।

কন্যাদান: হিন্দুমিসিক হিজাবি বলিউড-কর্পোরেটদের দ্বারা কন্যাদানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রচার। হিন্দুমিসিক বলিউড মাফিয়া এবং কর্পোরেটরা নারীর ক্ষমতায়নের আড়ালে হিন্দু ঐতিহ্য, আচার -অনুষ্ঠান এবং উৎসবের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ...

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা।-দুর্মর

আর্য আক্রমণ তত্ত্ব মিথ্যা এবং আর্য সভ্যতার প্রমাণ সিন্ধু সভ্যতা। আমাদের দেশের সরকারি বইয়ে আর্যদের আগমনকে 'আর্য আক্রমণ তত্ত্ব' বলা হয়। এই বইগুলিতে আর্যদের...

আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে ।-ডাঃ মৃনাল কান্তি

মাত্র একটি শব্দের প্রভাবে আজ ভারতীয় হিন্দু সমাজ প্রায় নিশ্চিন্ন।-ডাঃ মৃনাল কান্তি আপনি নিশ্চয়ই ভারত মাতা কি জয়, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো শব্দগুলি প্রতিদিন শুনেছেন।...

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন!

২৬/১১-র মুম্বই হামলার ধাঁচেই নাশকতার ছক: দিল্লি, মুম্বাই, ইউপি তে সিরিয়াল বিস্ফোরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত ব্যর্থ করল প্রশাসন! সবচেয়ে বড় কথা হল আইএসআইয়ের এই সম্পূর্ণ...

Recent Comments

%d bloggers like this: