আপনাদের কি মনে হয় না, মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় সত্তার প্রাবল্যই সব সমস্যার মূলে?

Spread the love

আপনাদের কি মনে হয় না, মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় সত্তার প্রাবল্যই সব সমস্যার মূলে?

– এদের কাছে ধর্মীয় সত্তা সবার উপরে, জাতীয় সত্তা বা রাজনৈতিক সত্তা বলতে কিছু নেই বা থাকলেও অনেক পরে। পৃথিবীতে তো খ্রীস্টান ওয়ার্ল্ড, বৌদ্ধ ওয়ার্ল্ড, হিন্দু ওয়ার্ল্ড বলতে কিছু নেই, কিন্তু ইসলামিক ওয়ার্ল্ড একটা আছে। শুনেছি বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার মত আলাদা একটা ইসলামী বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতাও নাকি হয়। সেদিন দেখলাম পাকিস্তান বলছে আমরাই প্রথম পরমাণু শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র। আমরা বলি হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, ওরা বলে পৃথিবীর সব মুসলিম আমার ভাই। অন্যরা সমগ্র মানব জাতির, এমনকি সমগ্র প্রানী কুলের কল্যাণ কামনা করলেও এরা প্রার্থনা করে শুধু মুসলিম উম্মাহর, মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সংহতির।

প্রবল ধর্মীয় সত্তার তাড়নাতেই  পাকিস্তান , এমনকি সুদূর সিরিয়া থেকে আই এস কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাকামী মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানায়, তাদের হয়ে বদলা নেওয়ার কথা বলে। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে শুধু মুসলমান হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হিন্দুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

     এমনকি খেলাতেও এদের ধর্ম, এদের আছে আলাদা মহমেডান স্পোর্টিং। সবার উপরে ধর্মীয় সত্তাকে স্থান দেয় বলেই হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে বাংগালী জাতির আত্মত্যাগে, এত এত শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে বর্বর হানাদার পাকিস্তান থেকে মুক্ত হল, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সেই পাকিস্তানেরই  অন্ধ সমর্থক। ভারত বাংলাদেশের খেলায় বাংলাদেশের হিন্দুদের অর্থাৎ মালুদের উপর হামলার আহ্বান জানানো হয়। সবার উপরে এদের ধর্ম। আজহারকে শারজায় একবার জনৈক মুসলিম অনুরাগী অবাক হয়ে জিগ্গেস করেছিল মুসলমান হয়ে ভারতের হয়ে খেলছে কেন? ধর্ম যে একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার – এই বোধটাই এদের নেই।

বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়ে আত্মীয়দের মুখে অনর্গল ‘নাস্তা, মেহমান, দাওয়াত’ ইত্যাদি শব্দ শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের ব্যতিক্রমী হিন্দু ক্রিকেটার দানীশ কানেরিয়াকে প্রত্যেক কথার শেষে বলতে শুনেছি ‘ইনশাল্লাহ’, পাকিস্তানের হিন্দু তীর্থ হিংলাজের পূজারীদের দেখেছি মাথায় ফেজ টুপি পরতে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন মুসলমানকে দেখলাম না, জলকে বাংলায় ‘জল’ বলতে, পোষাক পরিচ্ছদেও এরা আর বাংগালী নয়। এভাবেই এই ধর্মের প্রবল ধর্মীয় সত্তা এই সম্প্রদায়ভুক্ত বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য, জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, লোকাচারকে গিলে খেয়ে ফেলছে। বাংগালী জাত্যাভিমান থেকে যে দেশের জন্ম, সেই বাংলাদেশেই আজ বাংগালীর প্রধান উৎসব বাংলা নববর্ষ পালনকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

কল্পনা করুন, যদি কোনদিন উত্তর পূর্বাঞ্চলের উপজাতি বা সাঁওতালরা ইসলাম গ্রহণে বাধ্য হয়, নারী পুরুষের হাত ধরে চিরাচরিত যে নাচ এদের সংস্কৃতির অংগ, তারা পারবে কি সেটা বজায় রাখতে? হিন্দুদের শুয়োর খাওয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাংলাদেশে হিন্দুরা অতি সুস্বাদু কাছিমের মাংস খাওয়া দূর, ভয়ে নামও উচ্চারণও করে না। আর এদেশে স্রেফ ধর্মীয় কারনে হিন্দুদের সংগে রেষারেষি করেই এরা গোমাংস খাওয়ার গোঁ ধরে বসে আছে, অথচ মহম্মদ সারা জীবনে রুক্ষ মরুতে একবারও হয়তো গরুর হাম্বা ডাক শুনে নি। আরবের শেখরা এদের মুসলমান দূর, মানুষ বলেই মনে করে না, কুকুর ভিখিরি (মিসকিন) বলে গালি দেয়, এরপরও এরা এদের পা চাটে শুধুমাত্র ধর্মের কারনে।

এরা যতই  প্রগতিশীল আর সেলিব্রিটিই হোক, এদের সবার উপরে ধর্ম। তাই নাসিরুদ্দিন গুজরাত দাঙ্গার নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেও কাশ্মীরের নির্যাতিত ভিটেমাটি ছাড়া কাশ্মীরি পন্ডিতদের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগের ঘুরিয়ে বিরোধীতা করে। এমনকি মুসলমান মাফিয়াদের কাছেও কিন্তু ধর্মীয় সত্তার গুরুত্ব বিশাল, উদাহরণ – দাউদ ইব্রাহিম, রশীদ খান। হিন্দুদের মধ্যে যদিও মাফিয়া বা ডনদের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম, এরা কিন্তু মোটেও সম্প্রদায় সচেতন নয়।

   শুধু ভারতের কাশ্মীর তো নয়, চীনের জিন জিয়াং, রাশিয়ার চেচনিয়া থেকে শুরু করে সারা পৃথিবীতেই যেখানেই এরা সংখ্যালঘু, সেখানেই  মুসলমানরা নিজেদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের জন্য জেহাদ চালাচ্ছে, কারণ এদের ধর্মীয় সত্তা মূল স্রোতের সংগে মিশতে দিচ্ছে না। এরা ভারতীয়, চীনা বা রাশিয়ান পরিচয়ের চেয়েও বেশি আগ্রহী মুসলিম হিসেবে পরিচিত হতে। কাজেই এদের জাত্যাভিমান বা দেশপ্রেম বলতে কিছু নেই। এরা জাতিতে যা’ই হোক, যে দেশেরই হোক, এরা নিজেদের সবার আগে মুসলিম বলে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। এমনকি এরা আগে মুসলমান, পরে মানুষ। তাই এদের মানবতা বোধ বলতেও কিছু নেই। এভাবে ধর্মীয় সত্তাকে সবার উপরে রেখে অন্যদের কাছ থেকে নিজেরাই নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।  ধর্মকে সবার উপরে রাখে বলেই ইসলামের অমানবিক নিষ্ঠুর নির্দেশগুলিকে এরা খোলা মনে বিচার করতে পারে না। ধর্মের নির্দেশ, তাই এতে কোনমতেই কোন ভুল থাকতে পারে না।

ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে জেহাদের নামে অমুসলিমদের হত্যা করতে, গণিমতের মাল হিসেবে অমুসলিম নারীদের ধর্ষণ করতে, যৌন দাসী হিসেবে বাজারে বিক্রি করতে – তাই এরা নির্দ্বিধায় ঠিক তা’ই করছে। পৃথিবীর মুসলমানরা যদি নিজেদের মুসলমান ভাবার আগে মানুষ বলে ভাবতে পারত এবং ভারতীয় মুসলমানরা যদি ভারতীয় পরিচয়ের চেয়ে মুসলমান হিসেবে পরিচিত হতে বেশী আগ্রহী না হত, অনেক সমস্যাই মিটে যেত।

( লিখেছেনঃ…  শ্রী Anirban Dasgupta …)