মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদের লেখা——-

ইসলাম ত্যাগের শাস্তি- মৃত্যু, কেনো ?

মুসলমানদের কাছে জিজ্ঞেস করছি, ইসলাম- কী এমন ভালো জিনিস যে, তা ত্যাগ করলে, তার শাস্তি হবে মৃত্যু ? ভালো কোনো কিছু তো এমনিই কেউ কখনো ত্যাগ করে না, কোনোকিছু মানুষ ত্যাগ করে তখনই, যখন তা আর তার কাছে ভালো লাগে না। ইসলাম যদি এতই ভালো কিছু হতো, তাহলে কেউ তো তা কখনো ত্যাগই করতো না। আর যদি কেউ ত্যাগ করেও তার শাস্তি মৃত্যু হবে কেনো ? মানুষ জানে ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যু, তারপরও পৃথিবীর অসংখ্য লোক ইসলাম ত্যাগ করেছে শুধু ইসলামের এ নীতির কারণেই। কারণ এ নীতি ইসলামকে একটা ভঙ্গুর ধর্মে পরিণত করেছে। বিশ্বাস না হলে নিচে দেখে নিন এক ইসলাম ত্যাগীর কমেন্ট-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যখনই আমি জেনেছি ইছলামত্যাগকারীদের হত্যা করা হয়, তখনই আমার উপলব্ধি হয়েছে, কী ভঙ্গুর এই ধর্মটা!”- ExMuslim Reveals:

এই কমেন্টকারীকে দেবার মতো কোনো জবাব আছে আপনাদের কাছে ?

ইসলাম ত্যাগ না করা সম্পর্কে মুসলমানরা বলে, ইসলাম হলো আল্লার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম, তাই সেই ধর্ম কারও ত্যাগ করা উচিত নয়।

ধরে নিলাম, ইসলাম আল্লার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম, তাহলে আল্লা আগে সেটা তার কাজে প্রমান করে দেখাক। এই যুগে কথায় কোনো বিশ্বাস নেই, কাজে প্রমান চাই। ইসলাম যদি আল্লার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হয় এবং আল্লা যদি সবকিছুর স্রষ্টা হয়, তাহলে অন্য ধর্মগুলো, যেগুলো আল্লার কাছে মনোনীত নয়, সেগুলোকে আল্লা ধ্বংস করছে না কেনো ? অন্য সব পথ বাদ দিয়ে, শুধু জন্ম বন্ধ করে দিয়ে, যে কোনো জাতিকে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার জন্য ১০০ বছর সময় যথেষ্ট। আল্লার কাছে যদি অন্য কোনো ধর্মের মঞ্জুরি না থাকে, তাহলে আগের কথা না হয় বাদই দিলাম, ইসলামের প্রাদুর্ভাবের পরও তো ১৪০০ বছর পার হয়ে গেলো, তাহলে এতদিন অন্য সব ধর্মের মানুষ টিকে আছে কেনো ? শুধু যে টিকে আছে তাই নয়, ভালোভাবে টিকে আছে এবং বাড়ছে, কেনো ? অন্য ধর্মের মানুষের সন্তান জন্ম নিচ্ছে কেনো ? কেনো আল্লা কাফেরদের গর্ভে সন্তানদের জন্ম দিচ্ছে ? কেনো আল্লা কাফেরদের ঘরে সন্তান জন্ম বন্ধ করে দিয়ে তাদেরকে বিলুপ্ত করে দিচ্ছে না ? ইসলাম তো বলে, সকল ক্ষমতা আল্লারই হাতে।

যেহেতু আল্লা অন্য ধর্মের মানুষের জন্ম বন্ধ করে নি এবং তাদেরকে ধ্বংসও করে নি, তার থেকে এটা প্রমান হয় যে, ইসলাম আল্লার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম নয় এবং যেহেতু কোরানে এই কথা বলা আছে, সেহেতু কোরানও মিথ্যা। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইসলাম যদি আল্লা কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্মই হয়, তাহলে আমার মতো কাফেরদেরকে আল্লা সৃষ্টি করেছে কেনো, যাদের কাজই হচ্ছে প্রতিনিয়ত ইসলামকে ন্যাংটা করা ? মুহম্মদের চাপাতি উম্মাদরা হয়তো আমার মতো দু চারজনকে খুন করতে পেরেছে বা পারবে, কিন্তু তাতে ইসলামের বিরুদ্ধে বলা কি বন্ধ হয়ে যাবে ? আল্লার হুকুম ছাড়া যদি গাছের পাতাও না নড়ে, তাহলে আমার মতো প্রায় ৬০০ কোটি ইসলাম বিরোধী পৃথিবীতে দিব্যি টিকে আছে কিভাবে ? আল্লার কাছে ইসলামের এই মনোনয়ন আল্লাকে যে সত্যিকারের ঈশ্বরের পদ থেকে বিতাড়িত করেছে এবং আল্লাকে যে কাপুরুষে পরিণত করেছে, সেটা বুঝতে পারবেন এক ইসলাম ত্যাগীর নিচের এই কমেন্ট দেখলে-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ধর্মত্যাগীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধি আছে। সত্যিকারের ঈশ্বর এতোটা কাপুরুষ হতে পারে না যে, সে তার সৃষ্টিদের হুকুম করবে অন্যদের হত্যা করতে।”- ibrahimsapien

মুসলমানরা আরো বলে, ইসলাম শ্রেষ্ঠ ধর্ম, তাই তা ত্যাগ করা উচিত নয়।

ইসলাম কোন দিক থেকে শ্রেষ্ঠ, সেটা তো আগে প্রমান করে দেখা ? শ্রেষ্ঠ ধর্মের মানুষেরা পৃথিবীতে জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দীক্ষায় এত পিছিয়ে কেনো ? কেনো শ্রেষ্ঠ ধর্মের মানুষেরা এত দরিদ্র ? কেনো শ্রেষ্ঠ ধর্মের মানুষদের মধ্যেই আর শ্রেষ্ঠ ধর্মের মানুষদের কারণেই শুধু পৃথিবীতে এত অশান্তি, রক্তপাত ও হানাহানি ? কেনো শ্রেষ্ঠ ধর্মের মানুষেরা ‘আল্লাহু আকবার’ ব’লে বিনা কারণে অমুসলিমদেরকে হত্যা করা শুরু করে ? ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব কোন দিক থেকে ? কোনো মুসলমান এর জবাব দিতে না পারলেও সারা পৃথিবীর লোক এখন জেনে গেছে যে, হ্যাঁ- হত্যা ও সন্ত্রাসের দিক থেকেই ইসলাম এখন পৃথিবীতে শুধু শ্রেষ্ঠ নয়, একমাত্র ধর্ম। কারণ, অন্য কোনো ধর্মের লোকজন বেহেশতের ৭২ বেশ্যা পাওয়ার আশায় ধর্মের নামে কাউকে হত্যা করে না। নিচে এক ইসলাম ত্যাগীর কমেন্ট দেখলে বুঝতে পারবেন কেনো মানুষ ইসলাম ছাড়ছে-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যে-ধর্ম হত্যার কথা বলে, সেটা কোনওভাবেই মানবতার ধর্ম হতে পারে না।”- Polleetickle:

মুসলমানরা আরও বলে, আপনার কি বিবেক নেই যে, কোনটা ভালো বা সত্য ধর্ম, আর কোনটা খারাপ বা মিধ্যা ধর্ম, তা বোঝার ?

এই বোঝার মতো বিবেক আছে বলেই তো এখনও ইসলাম গ্রহণ করি নি, আর যেসব মুসলমানের বিবেক আছে, তারাও এখন ইসলাম ত্যাগ করছে।

এই বিবেকের দোহাই দিয়ে মুসলমানরা যে কথা বলার চেষ্টা করে, তা হলো- “তোমার জন্ম হিন্দুর ঘরে হয়েছে তো কী হয়েছে, তুমি দেখে-শুনে, বাছ-বিচার করে তো ইসলাম গ্রহন করত পারো।” এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, ইসলাম যেহেতু পুনর্জন্ম মানে না, সেহেতু একটি নির্দোষ রুহ বা আত্মা থেকে আমার জন্ম হয়েছে। আল্লার প্রথম দোষ হচ্ছে, তার কাছে মনোনীত নয় এমন একটি ধর্মের পরিবারে আমাকে জন্ম দেয়া, যেহেতু সে এই ব্যাপারে জন্মের পূর্বে আমার কাছে কোন চয়েস জানতে চায় নি। আল্লা যদি সৃষ্টিকর্তা হয়, তাহলে সে নিজের ইচ্ছায় একটি হিন্দু পরিবারে আমাকে জন্ম দিয়েছে, আর এখন বলছে, বেহেশত পেতে হলে তোমাকে মুসলমান হতে হবে। আমি এই আল্লাকে এবং তার কথাকে মানবো বা বিশ্বাস করবো কেনো ? মানবো বা বিশ্বাস করবো, তার আগে আমার কাছে আল্লার ভুল স্বীকার করতে হবে যে, হ্যাঁ, তোমাকে হিন্দু পরিবারে জন্ম দিয়ে আমি ভুল করেছি। আল্লাকে এই ভুল স্বীকার করতে হবে কারণ, একজন মুসলমানের সন্তানকেও তো আল্লা ই মুসলিম পরিবারে সৃষ্টি করেছে, বেহেশত পাওয়ার জন্য যদি তাকে তার ধর্ম ত্যাগ করতে না হয়, ধর্ম ত্যাগ করে তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনকে কষ্ট দিতে না হয়; হিন্দু পরিবারে আমার জন্মের জন্য, যে জন্মের জন্য আমি দায়ী নই, সেই জন্মের জন্য কেনো আমাকে আমার ধর্ম ত্যাগ ক’রে পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে কষ্ট দিয়ে ইসলাম গ্রহন ক’রে আমার জন্মের ভুল আমাকে শোধরাতে হবে ? আমার সাথে এই অন্যায় করার জন্য আল্লা আগে আমার কাছে ভুল স্বীকার করুক, তারপর না হয় ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটা ভেবে দেখবো। আবার ইসলামের আল্লা নাকি দয়ার সাগর! দেখুন, এই বিষয়টিকেই কিভাবে বিদ্ধ করেছে এক ইসলাম ত্যাগী-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আল্যা করুণাময় হলে ইছলাম ত্যাগের শাস্তি হত্যা কেন?”- Ex-Moslim:

মুসলমানদের শেষ অস্ত্র হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণ না করলে তুমি বেহেশতে যেতে পারবে না।

এই কথা কে বলেছে ?

মুহম্মদ।

যে মুহম্মদ, দাসী মারিয়ার সাথে সেক্স করার জন্য, তার এক স্ত্রী হাফসার ঘর ব্যবহার করবে ব’লে, হাফসার বাপ উমর তাকে ডেকেছে, এই মিথ্যা বলে হাফসাকে তার বাপের বাড়ি পাঠিয়েছিলো। বেহেশতের ঠিকাদার এই মুহম্মদ, যেই মুহম্মদ সারারাত উম্মেহানির ঘরে রাত কাটিয়ে ভোর বেলায় পাবলিকের কাছে ধরা পড়ে বলে দিয়েছিলো- নারীমস্তক সম্বলিত এক ঘোড়ায় চড়ে সে সাত আসমান পাড়ি দিয়ে আল্লার সাথে দেখা করে দোযখ বেহেশত দেখে এসেছে। আসা যাওয়ার পথে সে জেরুজালেমে এক মসজিদে নাকি নামাজও পড়েছে, অথচ তখন জেরুজালেমে না ছিলো কোনো মুসলমান, না ছিলো কোনো মসজিদ। মুহম্মদ যখন মেরাজের এই কাহিনী বানায়, তখন সে ছিলো মক্কায়, সেই সময় আসলে পৃথিবীতে কোনো মসজিদই ছিলো না। পৃথিবীর প্রথম মসজিদ মদীনার নববী, যেটা মুহম্মদ মদীনায় হিজরতের পর বানায়। অথচ এই মিথ্যুক মুহম্মদ দিচ্ছে বেহেশতের গ্যারান্টি, আর বলছে ইসলাম গ্রহণ না করলে বেহেশতে যেতে পারবো না। হাসবো না কাঁদবো ? যদি ধরেও নিই যে বেহেশত আছে, তাহলে সেই বেহেশতে গিয়ে কাজটা কী ? ২৪ ঘন্টা ন্যাংটা হয়ে বেশ্যাদের সাথে শুয়ে থাকা, সেই যৌনপুরী বেহেশতের প্রত্যাশা করার মতো লম্পট হিন্দুরা নয়; এমন কি এই বেহেশতের লোভ ছেড়ে জন্মসূত্রে অনেক মুসলমানও এখন ইসলাম ত্যাগ করে মানুষ হচ্ছে। দেখুন নিচের কমেন্ট-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বেহেশতের ৭২ হুর নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। লোকজন কীভাবে এই ধরনের ফাউল চিন্তা-ভাবনার ধর্ম অনুসরণ করতে পারে?”- OmarMohameddd:

মুহম্মদের নীতি হলো, “যারা ইসলাম ত্যাগ করবে তাদেরকে হত্যা করো।” এর পরেও মুহম্মদ কিভাবে সন্ত্রাসী নয় এবং কিভাবে সে দয়ার নবী ? না কি এটাই সত্য যে, মুহম্মদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো প্রাণের ভয় দেখিয়ে মানুষকে তার ইসলামে ধরে রাখা ? ইসলাম যদি এতই মহান ধর্ম হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে এমন মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লোক ধরে রাখতে হবে কেনো ? যে হত্যার আদেশ দেয়, সে কিভাবে ভালো বা মহান মানুষ হতে পারে ? আর যে ধর্ম হত্যার আদেশ দেয়, সেই ধর্ম কিভাবে মানুষের ধর্ম বা মানবিকতার ধর্ম হতে পারে ? ইসলাম যে সত্য ধর্ম নয়, সে কথা ই ফুটে উঠেছে নিচের এই এক ইসলাম ত্যাগীর কমেন্টে-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সমালোচনাকারীদেরকে হুমকি ও হত্যা এবং ধর্মত্যাগকারীদেরকে হত্যার মাধ্যমে টিকে থাকতে হয় যে-ধর্মকে, সেটা সত্যধর্ম হতে পারে না।”- YasmiNe:

ইসলাম ত্যাগীদের শাস্তি, মৃত্যু; এটা ইসলামকে একটি ইঁদুরের ফাঁদে পরিণত করেছে, যে ফাঁদে ঢুকলেই আর বের হওয়া যায় না। আবার কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে একবার যুক্ত হলেও সেখান থেকে বের হওয়া যায় না, বের হলেই মৃত্যু। তাহলে ইসলাম এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে পার্থক্য কী ? একারণেই দুই ইসলাম ত্যাগী বলেছে,

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম হচ্ছে মাফিয়ার মতো। আপনাকে সেখানে জোর করে ঢোকানো হবে, তবে তা ত্যাগ করার চেষ্টা করলেই আপনি মৃত।- Ri

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলামের সঙ্গে মাফিয়ার কোনও তফাত খুঁজে পাই না। মাফিয়াদের দল ত্যাগকারীতেও হত্যা করা হয়।”- Egyptian Atheist:

মুসলমানরা যখন ইসলাম প্রচার করে তখন খুব ভালো ভালো কথা বলে মানুষকে প্রলুব্ধ করে, এই ছদ্মবেশি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণের পর যখন কারো কাছে ইসলামের আসল রূপ ধরা পড়ে তখনও সে ইসলাম ত্যাগ করতে পারে না, মূলত মৃত্যুর ভয়ে; এখানে মানুষের স্বাধীনতা কোথায় ?

যেসব দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেসব দেশের লোকজনই মূলত একবার ইসলাম গ্রহণের পর জঙ্গী-চাপাতি মুসলমানদের ভয়ে আর তা ছাড়তে পারে না; কারণ, মুহম্মদের নির্দেশ মেনে তাকে খুশি রেখে বেহেশতের ৭২ বেশ্যার লোভে কে যখন কখন আল্লাহু আকবর বলে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে তার তো কোনো ঠিক ঠিকানা নেই; এজন্য ইসলামিক দেশে সব সময় ভয়ে থাকতে হয় ইসলাম ত্যাগীদের। কিন্তু যেসব দেশে মুসলমান কম, সে সব দেশে ইসলামের মিথ্যা প্রচারে মুগ্ধ হয়ে লোকে যেমন ইসলাম গ্রহণ করে তেমনি ইসলামের ভয়ংকর রূপ বুঝতে পারে যখন তখন ইসলাম ত্যাগও করে। এভাবে ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশে অমুসলিমদের মধ্যে ইসলাম গ্রহন ও ত্যাগের হার প্রায় সমান সমান, উল্টো ইসলামের হিংস্রতা বুঝতে পেরে অনেক মুসলিম পরিবারের ছেলে মেয়েরাও এখন ইসলাম ত্যাগ করছে, কেউ তা ভয়ে প্রকাশ করছে না, আর কেউ কেউ তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে, এরকম কয়েকজন হলো- এম.এ খান, আবুল কাশেম, মোফস্সিল ইসলাম, সানিউর রহমান এর মতো বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের অসংখ্য ব্লগার। এর মূল কারণ লুকিয়ে আছে নিচের এই ইসলাম ত্যাগীর কমেন্টে-

“আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ “যে ব্যক্তি ধর্ম বদল করবে, তাকে হত্যা করো।” (বুখারি হাদিস)- Asif Raheem:

যেসব অমুসলিম, তাদের নিজ ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করে তারা তা করে মূলত নিজের ধর্মকে না জেনে, ইসলামের মিথ্যা প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে। শুধু হিন্দু ধর্মই নয়- যেকোনো ধর্ম, কেউ যদি ঠিক মতো জানে এবং তার সাথে ইসলামের সবকিছু জেনে ইসলামকে তুলনা করে তাহলে সে কখনোই ইসলাম গ্রহণ করবে না; কারণ, সনাতন মানব ধর্মের কথা না হয় বাদ ই দিলাম, পৃথিবীর যে কোনো ধর্মের চেয়ে ইসলাম নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর ধর্ম। কারণ, এই ধর্মে মানুষকে খুন করার, নারীদেরকে ধর্ষণ করার এবং তাদের সম্পত্তি লুঠ করে খাওয়ার কথা বলা হয়েছে; এটা কিভাবে একটি ঐশ্বরিক ধর্ম হতে পারে ? ইসলাম তো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের চেয়েও জঘন্য। এখন তো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও নারীদের সম্মানের অবমাননা করে না; তারা হয়তো টাকার জন্য মানুষ খুন বা তাদের সম্পত্তি লুঠ করে, কিন্তু নারীকে তারা সম্মান দেখায়, যা ইসলাম দেখায় না।

শুধু আমার লেখা পড়ে ইসলামকে জেনে এবং হিন্দু ধর্মের উদারতা্ ও মহানুভবতাকে বুঝতে পেরে বেশ কয়েকজন হিন্দু ছেলে ইসলাম গ্রহনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা ইনবক্সে আমাকে জানিয়েছে। একজন আমাকে এও জানিয়েছে, আমার লেখা যারা পড়বে তারা কখনো ইসলাম গ্রহন করবে না। এই যে আমি ইসলাম সম্পর্কে এত কথা বলছি, আমি কি তা মিথ্যা বলছি ? যদি মিথ্যা বলি, তাহলে রেফারেন্স তো দেওয়া ই থাকে, কোরান-হাদিস তো আর আমি লিখি নি, মুসলমানরা গালাগালি না ক’রে কোরান হাদিস খুলে সেগুলো দেখে আমার লেখার যথোপযুক্ত জবাব দেয় না কেনো ? এমনও তো হতে পারে ভালো যুক্তি পেলে আমার মতো কাফেরও ইসলাম বিদ্বেষিতা ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন করে ফেলতে পারে; তাতে তো ইসলামেরই লাভ। কিন্তু মুসলমানরা কখনো রেফারেন্সের যুক্তিতে যায় না; কারণ, তারা জানে থলের বিড়াল এমনিই বেরিয়ে গেছে, এখন রেফারেন্স নিয়ে আলোচনা করতে হলে তা স্বীকার করা ছাড়া উপায় নেই। এখন মুসলমানদের একমাত্র কাজ হচ্ছে, চোখ বন্ধ করে এটা বিশ্বাস করা যে নবী খারাপ কিছু করে নি, করতে পারে না; নবীর নামে যে যা্ খারাপ বলছে সব মিথ্যা, এইভাবে তারা প্রতিনিয়ত কোরান হাদিসকে অস্বীকার করে যাচ্ছে; কিন্তু এইভাবে আর কত দিন ইসলামকে রক্ষা করা যাবে ? ভালো করে শুনে রাখ, যতদিন তোদের হাতে কোরান হাদিস ছিলো ততদিন ইসলাম টিকে ছিলো, কিন্তু যখন থেকে কোরান হাদিস অমুসলিমদের হাতে এসেছে, তখন থেকে ইসলামের পতন শুরু হয়ে গেছে।

কোরান শরীফ প্রথমত বাংলায় অনুবাদ করায় গিরিশচন্দ্র সেনকে মুসলমানরা কি শ্রদ্ধাই না করে! বলে, ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন! কিন্তু মূর্খ মুসলমানরা এটা বোঝে না যে, বাংলায় কোরান অনুবাদ করে হিন্দুদের কাছে ইসলামের মূল তত্ত্বকে প্রকাশ করে দিয়ে গিরিশ মূলত ইসলামের পাছাটাকেই মেরে দিয়ে গেছে; এটা বোঝার মতো জ্ঞান-বুদ্ধিও মুসলমানদের নেই, এরা এমনই নির্বোধ!

অনেক অমুসলিম ইসলামের প্রকৃত রূপ না জেনে ইসলামকে গ্রহণ করেছে, এখনও হয়তো করছে, কিন্তু যারা মুসলমান হিসেবে জন্ম নিয়েও ইসলামকে ত্যাগ করছে, তারা তা করছে ইসলামকে জেনেই, এতে ইসলামের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। আর পৃথিবীতে যত মুসলমান ইসলামের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে, তার ১%ও অন্য ধর্মের লোক তাদের নিজ ধর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলে নি বা খুলেই নি; কারণ, মানুষ তখনই কোনো সিস্টেমের বিরুদ্ধে মুখ খুলে যখন সেখানে অন্যায়-অবিচার থাকে। ইসলামের বিরুদ্ধে এই যে অনেকের সরব প্রতিবাদ, এই ঘটনাও প্রমান করে যে, ইসলাম একটি বাজে ধর্ম- যার মূল লক্ষ্যই হলো ইহকালে, হত্যা-সন্ত্রাস-লুঠ, আর পরকালে ৭২ বেশ্যা; এটা কিভাবে কোনো সৃষ্টিকর্তার আদর্শ হতে পারে ?

ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হলো জনসংখ্যা বাড়িয়ে পৃথিবীকে দখল করা। এজন্য ইসলামে জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিষেধ, বন্ধ্যা নারীদেরকে বিয়ে করা নিষেধ(সুনান আবুব দাউদ, ১১/২০৪৫), অবিবাহিত থাকা নিষেধ (মুসলিম, ৩২৩৬), ব্রহ্মচর্য্য পালন করা নিষেধ (মুসলিম, ৩২৩৯) মুসলমানরা যাতে যৌবনের তাড়নায় তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে বাধ্য হয় এবং বেশি সন্তান জন্ম দিতে পারে সেজন্য হস্তমৈথুন করাও নিষেধ, বহু বিবাহ করতে উৎসাহ – যাতে প্রাকৃতিকভাবেই জনসংখ্যা বাড়ে(তাবাকাত, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা- ১৪৬); এবং শেষ কৌশল হলো মানুষকে মিথ্যা বুঝিয়ে ছলে বলে কৌশলে ইসলাম গ্রহণ করানো। মুহম্মদের মনে হয়তো এই প্রশ্ন জেগেছিলো যে, এভাবে হয়তো মানুষকে মুসলমান বানানো যাবে বা মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ানো যাবে, কিন্তু সেই সংখ্যাকে ধরে রাখা যাবে কিভাবে ? এজন্যই মুহম্মদের, মুসলমানদেরকে দেখানোর প্রয়োজন মৃত্যুর ভয়ের, যাতে মানুষ, যা ই ঘটুক ইসলামকে ত্যাগ বা অস্বীকার করতে না পারে; এজন্যই মুহম্মদের বিধান, “যে ইসলাম ত্যাগ করবে তাকে হত্যা করো।” কারণ, প্রতিটি মানুষ মৃত্যুকে খুব ভয় পায় এবং তারা এটা জানে যে একবার মরে গেলেই তার সব গল্প শেষ। তাই ভুল করে মুসলমান হলেও তারা মনে করে যা হওয়ার হয়েছে, এখন তো বেঁচে থাকতে হবে, এইভাবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা ইসলামকে মেনে চলে। যদি এই ধরণের ব্যক্তিদেরকে একটি ভীতিহীন নিরাপত্তার পরিবেশ দেওয়া যায়, তাহলে আমার মনে হয় দলে দলে লোক ইসলাম ত্যাগ করবে। বাস্তবে অমুসলিম প্রধান দেশগুলোতে করছেও তাই, কিন্তু আমাদের মতো মুসলিমদেশে তার প্রচার নেই, কিন্তু কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার প্রচার ঠিকই আছে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৬১০ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসলাম অব্যাহত গতিতে সামনের দিকে এগিয়েছে। কিন্তু লাদেনের টুইনটাওয়ারে হামলার পর থেকে ইসলাম থমকে গেছে এবং এখন তা ব্যাকফুটে। কতটা ব্যাকফুটে তা এই বিষয়টি বুঝলে উপলব্ধি করা যাবে যে, আগে ইসলামের বিরু্দ্ধে চোখ তুলে তাকানো যেতো না, এখন সেই ইসলাম রীতিমতো প্রতিদিন প্রতিক্ষণ বিবস্ত্র হচ্ছে। তাই মুসলমানরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে সেই বিবস্ত্র ইসলামকে বাঁচাতে তারই মিথ্যা নামক ছেঁড়া কাপড়-চোপড় দিয়ে। কিন্তু এভাবে আর কয় দিন ইসলামকে টিকিয়ে রাখা যাবে ?

অনেক আগে থেকেই বলা হয়- ইন্টারনেট, দ্য কিলার অব ইসলাম। এই প্রযুক্তির নতুন অস্ত্র এখন ফেসবুক, ইউটিউব। যেখানে মুহম্মদের চাপাতি ও তরবারি একেবারেই অচল। মহাজ্ঞানী মুহম্মদ এবং তার সর্বজ্ঞানী আল্লা মনে হয় কখনোই ভাবতে পারে নি যে, পৃথিবীতে এমন দিন আসবে যখন আর ঘোড়া-তলোয়ারের যুগ থাকবে না, মানুষ মুখে কিছু না বলেও অনেক কিছু বলতে পারবে, যা মূহুর্তে পৌঁছে যাবে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে। এখন প্রতিটা স্মার্ট ফোন এক একটা এ্যান্টিবায়োটিক, যা বিশ্বাসের ভাইরাস নামক জীবানু ইসলামকে দমন করতে ও তাকে নির্মূল করতে কাজ করে যাচ্ছ এবং ভবিষ্যতেও যাবে।

আমি খুবই ভাগ্যবান এই সময়ে জন্ম নিয়ে এবং আমি মনে করি ঈশ্বর আমাকে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সঠিক সময়ে পৃথিবীতে জন্ম দিয়েছেন। কারণ আমি যখন জ্ঞানে ও অভিজ্ঞতায় মোটামুটি পরিপক্ক তখনই হাতে পেয়েছি ফেসবুকের মতো একটি শক্তিশালী অস্ত্রকে, এজন্য আমি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের কাছে অশেষ ঋণী। এই জুকারবার্গ একজন ইহুদি, ইসলামের কারণেই- কুরাইজা, কানুইকা, নাজির গোত্রের ইহুদিরা মদীনা তথা আরব থেকে হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিলুপ্ত ও বিতাড়িত হয়েছিলো; আমি মনে করি জুকারবার্গের এই ফেসবুক সেই ১৪০০ বছর আগের ইসলামের পাপের এক যোগ্য জবাব। আমার জন্ম যদি ১০ বছর আগে হতো তাহলে আমি এখন যা করছি তা হয় তো করতে পারতাম না। আবার নেট ফেসবুক না থাকলেও কিছু করতে পারতাম না; কারণ, ইসলাম বিষয়ের ভাবনাগুলো যখন আমার মধ্যে আসে, সেই সময় সেগুলো আমি ডায়েরিতে লিখতাম আর ভাবতাম মনে হয় এগুলো আমি মনে হয় কখনো কারো কাছে প্রকাশ করতে পারবো না; কারণ, মুহম্মদের ঐ চাপাতির ভয়। কিন্তু এখন আমি পারি, কারণ আমি জানি, কোনো কাল্পনিক সন্ত্রাসী আল্লা, সে যতই সর্বশক্তিমান হোক এবং পৃথিবীতে তার সন্ত্রাসী এজেন্ট মুহম্মদের উম্মাদ, ৭২ বেশ্যা লোভী লম্পট মুসলমানদের কোনোই ক্ষমতা নেই এই প্রযুক্তির যুগে আমার কিছু করার এবং সেজন্যই আমি মনে করি ঈশ্বর আমাকে সঠিক সময়ে সৃষ্টি করেছেন হিন্দুধর্ম ও হিন্দুসমাজের জন্য কিছু করতে এবং আমি সেই নিষ্কাম কর্মই করে যাচ্ছি, ফল ঈশ্বরের হাতে।

———————————————————————————-
নিচে দেখে নিন ইসলাম ত্যাগ সম্পর্কে আরেকটি কমেন্ট এবং অন্যান্য রেফারেন্স :

Yafiah: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আল্যা যদি এতোই দয়াময় এবং আমাদেরকে ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে, তাহলে ইছলামত্যাগ অপরাধ কেন?

জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিষেধ :

মালিক ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নবীকে বললো, একটা উচ্চ বংশের সুন্দরী মেয়ে আছে, কিন্তু সে বন্ধ্যা। আমি কি তাকে বিয়ে করতে পারি ? নবী বললেন, না। সে নবীর কাছে আবার এলে নবী তাকে নিষেধ করলেন। সে তৃতীয়বার এলে নবী তাকে বললো, সেই মেয়েদের বিয়ে করো, যারা প্রেমময়ী ও উৎপাদন শীল। কারণ, আমি তোমাদের দিয়ে সংখ্যায় অন্যদের পরাস্ত করবো। (সুনান আবুব দাউদ, ১১/২০৪৫)

অবিবাহিত থাকা নিষেধ :

উম্মতদের মধ্যে কেউ বিয়ে শাদী না করতে চাইলে নবী বলতো, ওরা কি সব পাগল হয়ে গেছে ? অথচ আমি নামাজ করি, ঘুমাই, রোজা রাখি, রোজা বন্ধ করি, এবং বেশ কয়েকজন স্ত্রীলোককেও বিয়ে করেছি। যারা আমার সুন্নত মানবে না, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।- (মুসলিম, ৩২৩৬)

ব্রহ্মচর্য রক্ষা করাকে নবী মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।– (মুসলিম, ৩২৩৯)

বহু বিবাহে উৎসাহ :
আমার উম্মতদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ, যার সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যক পত্নী আছে।- (তাবাকাত, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা- ১৪৬)

“সহি ইসলাম” পেজ থেকে শেয়ার করা হলো।