গত বছর পশ্চিমবঙ্গের পুজার মন্ডবে আজান দেয়া হয়েছিলো সম্প্রীতির নির্দশন স্বরূপ। দুর্গা মূর্তির সামনে যদি বাংলায় আজান দেয়া যেতো সেটা কেমন শোনাত ভাবতেই হাসি চাপতে হচ্ছে!
‘আল্লা ছাড়া অন্য কোন খোদা নাই’ আজানের এই কথাগুলোর সামনে দুর্গা তার পুরা ফ্যামিলি নিয়ে মঞ্চে বসে আছে…। ভাবতেই হাসি পাচ্ছে না?
যাই হোক, বড় খবর হচ্ছে জার্মানিতে জামাতুল বিদা মানে রমজানের শেষ জুম্মা পড়ার জন্য গির্জা ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো। জার্মান সরকারের স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক মসজিদে বেশি মানুষের জায়গা হবে না তাই বড় পরিসরের গির্জাতে তাদের নামাজ পড়তে সুযোগ করে দিয়েছে গির্জার সন্ন্যাসীরাই। ঈদের নামাজও তারা মুসলিমদের গির্জাতে পড়তে দিবে ঘোষণা করেছে। তারা বলেছে এটা হচ্ছে তাদের পক্ষ থেকে সম্প্রীতির একটা নির্দশন…।
“সম্প্রদায়কে” বাঁচিয়ে রেখে যদিও কোনদিনই সম্প্রীতির আশা করা মূর্খামি। তবু এতখানি উদারতা প্রদর্শনও এই সময়ে কম কথা নয়। আমরা কি এখন আশা করতে পারি মসজিদে খ্রিস্টানদের রবিবারের প্রার্থনা আয়োজন করা হবে? হিন্দুদের কি কোন একটা পার্বন মসজিদে হতে পারে না?
সম্প্রীতির বাজার যে কি পরিমাণ মন্দা সেটা বুঝা যায় যখন গির্জা মন্দিরে মুসলিমদের নামাজ পড়ার নিউজগুলো পড়ে মুসলিমদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। মন্দিরে মূর্তি আছে সেখানে কি করে নামাজ হবে? গির্জাতে যীশুর মূর্তির সামনে কি করে নামাজ পড়া জায়েজ হয়…। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরণের কমেন্টই শুধু নয়, মোল্লারা যখন ফেইসবুকে এসে বিধর্মীদের উপাসনালয়ে নামাজ পড়াকে নাজায়েজ বলে তখন সম্প্রীতির মাইরে বাপ ঘটে যায় আর কি…!
এই যেমন জার্মানির গির্জাতে নামাজ পড়তে গিয়ে সামির হামদুন নামের একজন বিবিসির কাছে মন্তব্য করেছে, “কিন্তু এখানে নামাজ আদায় করতে অদ্ভুত লাগছিল, ভেতরে বাজনা আছে, ছবি আছে, ইসলামের প্রার্থনাস্থলে তো এসব থাকার কথা নয়।”
একদল মুমিন এখনি বলবে আল্লাতালা মুসলমানদের জন্য পৃথিবীর সমস্ত জমিনকে কবুল করে দিয়েছেন। কাজেই গির্জা মন্দিরও মুসলিমদেরই জায়গা…। 
তা ভালো! তাহলে এটা কি মুসলিমদেরই উদারতা যে তারা গির্জা বা মঠ বা মন্দিরে নামাজ পড়ছে? তবে কিনা মসজিদে হারাম কিছু সম্ভব না! এই যেমন মূর্তির সামনে মন্ত্র পাঠ, রবিবারের যীশুর গুণকীর্তন করা…। এসব মসজিদে কি করে করতে দেয়া যাবে?
Susupto Pathok